সম্প্রতি ফেসবুকে কিছু ফেসবুক পেজ এবং প্রোফাইল থেকে ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচির ঘোষণা পাওয়া যায়। চলতি বছরের ১৩ নভেম্বর আওয়ামীলীগের ডাকা এই কর্মসূচির প্রস্তুতি দাবিতে ফেসবুকে আলাদা আলাদা কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু, ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে যে বাস্তবে ভিডিওগুলো অনেক আগের এবং ভিন্ন ঘটনার।
আওয়ামীলীগের ডাকা ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচির প্রস্তুতি দাবিতে উক্ত পোস্টগুলোতে মোট পাঁচটি ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওগুলো সম্পর্কে জানার জন্য এগুলো নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ এবং কি-ওয়ার্ড সার্চ করা হয়। এর ফলে বাংলাদেশের মূলধারার কিছু সংবাদমাধ্যম থেকে প্রাপ্ত রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী ভিডিওগুলো সাম্প্রতিক সময়ের নয়।
ভিডিও১– ভাইরাল ভিডিওটির অনুরূপ একটি ভিডিও প্রথম আলোর অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে পাওয়া যায়। ২০২৩ সালের ২৭ নভেম্বর ভিডিওটি আপলোড করা হয়। জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৬ নভেম্বর অবরোধের সমর্থনে সিলেটে মশাল মিছিল করেছিল সেখানকার বিএনপির নেতা-কর্মীরা। সেইদিন সিলেটের সুবিদবাজার এলাকায় কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর ও আগুন দেয়ার মত ঘটনা ঘটেছিল।
ভিডিও ২– কালের কণ্ঠের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে পাঁচ দফা দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের ঢাকার সায়েন্স ল্যাব মোড় অবরোধ সম্পর্কিত একটি রিপোর্ট খুঁজে পাওয়া যায়। চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি প্রকাশিত এই রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত একটি ছবির সাথে রিভার্স ইমেজ সার্চের সময় ব্যবহৃত এই ভিডিও থেকে নেওয়া একটি কি-ফ্রেম মিলে যায়। রিপোর্টে আরও বলা হয়, ঘটনাটি চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারির। প্রথম আলো এবং দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড এ এই একই ঘটনার ছবি এবং ভিডিও পাওয়া যায়। সেখানেও উল্লেখ করা হয় ঘটনাটি চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি ঘটেছে।
ভিডিও ৩– এই ভিডিওটির একটি দীর্ঘ সংস্করণ এটিএন বাংলা নিউজ এর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে পাওয়া যায়। চলতি বছরের ৩ নভেম্বর আপলোড হওয়া এই ভিডিওর ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়, “মাদারীপুরে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ।” মাদারীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী লাভলু মনোনয়ন না পাওয়ায় তার কর্মী-সমর্থকরা ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে।
ভিডিও ৪– বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও সমমনা দলগুলো ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর, ১ ও ২ নভেম্বর সারাদেশে তিন দিনের সড়ক, নৌ ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। অবরোধটি তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে ছিল। অবরোধের তৃতীয় দিন ২ নভেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে বিএনপির নেতাকর্মীরা। এই ঘটনা সম্পর্কে বাংলা ট্রিবিউনে ২০২৩ সালের ২ নভেম্বর প্রকাশিত একটি রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত ছবির সাথে আলোচিত এই ভিডিওর একটি কি-ফ্রেমের মিল পাওয়া যায়।
ভিডিও ৫– এই ভিডিওটি খেয়াল করলে দেখা যাবে, কয়েকজনের মাথায় ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’ লেখা হেডব্যান্ড। পাশাপাশি অনেকে ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’ স্লোগানও দিচ্ছিল। এই সূত্র অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক কিছু কি-ওয়ার্ড ধরে সার্চ করে ডেইলি স্টার বাংলার ফেসবুক পেজে আপলোড হওয়া মশাল প্রজ্বালন কর্মসূচির একটি ভিডিও পাওয়া যায়। সেখানে অনেকের মাথায় এই একই লেখাযুক্ত হেডব্যান্ড দেখা যায়। ভিডিওর ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয় যে চলতি বছরের ৬ অক্টোবর উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলা লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় একযোগে ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’ আন্দোলনের অংশ হিসেবে মশাল প্রজ্বালন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। একাত্তর টিভির ইউটিউব চ্যানেলেও এই একই ঘটনার ভিডিও পাওয়া যায়, সেখানেও একই হেডব্যান্ড দেখতে পাওয়া যায়।
উল্লেখ্য, গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়ের তারিখ আগামী ১৩ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে ঘোষণা করা হবে। এই দিন ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে অনেক আওয়ামী লীগ নেতা ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা দেয়। সজীব ওয়াজেদ জয়ের ফেসবুক পেজ থেকেও ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলো এই ঘটনার অনেক আগের।
তাই সবকিছু বিবেচনা করে ফ্যাক্টওয়াচ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবিগুলোর উপর ভিত্তি করে করা দাবিগুলোকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
Claim: সম্প্রতি ফেসবুকে কিছু ফেসবুক পেজ এবং প্রোফাইল থেকে ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচির ঘোষণা পাওয়া যায়। চলতি বছরের ১৩ নভেম্বর আওয়ামীলীগের ডাকা এই কর্মসূচির প্রস্তুতি দাবিতে ফেসবুকে আলাদা আলাদা কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে।
Claimed By: Facebook users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh