অপ্রতিম এবং তার পরিবারের ধর্ম পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি

61
অপ্রতিম এবং তার পরিবারের ধর্ম পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি
অপ্রতিম এবং তার পরিবারের ধর্ম পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের এক শিক্ষকের ছেলে অপ্রতিমের নিখোঁজ ও পরবর্তীতে তার লাশ উদ্ধারের ঘটনায় ফেসবুকে ধর্মভিত্তিক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। ঘটনাটি উল্লেখ করে এই জাতীয় পোস্টগুলোতে 'সেইভ বাংলাদেশী হিন্দু' হ্যাসট্যাগ ও টেক্সট ব্যবহার করতে দেখা যায়। যার কারণে অনেকেই মনে করছেন ভিক্টিমের ধর্মীয় পরিচয় হিন্দু। কিন্তু ফ্যাক্টওয়াচের যাচাইয়ে দেখা যায়, অপ্রতিম ও তার পরিবার হিন্দু নন। অন্যদিকে অপ্রতিমের মায়ের পোশাক এবং সাজগোজ নিয়েও নানা ধরণের বাজে কথা লক্ষ্য করা যায়।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে। 

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের শিকার অপ্রতিমের পুরো নাম ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিম। মায়ের নাম নাহিদা নাহিদ ও বাবার নাম কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার। 

অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর বিভিন্ন আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। 

সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে সহস্রাধিক মানুষের অংশগ্রহণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারী-কর্মকর্তাসহ উপস্থিত হাজারো জনতা অংশ নেয়। জানাজা শেষে কুমিল্লা শহরের কোটবাড়ীর গন্ধমতী এলাকায় তাকে দাফন করা হয়। 

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকদের সংগঠন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাব সূত্রে অপ্রতিমের কবরের ছবিও পাওয়া যায়। 

অর্থাৎ অপ্রতিম ও তার পরিবার ধর্মবিশ্বাসে হিন্ধু নন বরং মুসলিম রীতি মেনেই তার দাফন হয়েছে। তাই ফ্যাক্টওয়াচ এই জাতীয় পোস্টগুলোকে বিভ্রান্তিকর হিসেবে চিহ্নিত করছে।

অন্যদিকে অপ্রতিমের মায়ের পোশাক এবং সাজগোজ নিয়েও নানা ধরণের বাজে কথা লক্ষ্য করা যায়।

করিম শাওন নামের প্রায় ৩৫ হাজার ফলোয়ারের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে অপ্রতিমের মৃত্যুর খবর পোস্ট করা হয় গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে। 

পোস্টটিতে অপ্রতিমের একটি ছবির সঙ্গে তার মা সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা নাহিদের একাধিক ছবি যুক্ত করে লেখা হয়, ‘ছেলেটাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। খুবই দুঃখজনক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা। জীবন বোঝার আগেই জীবনের বাতি নিভে গেল ছেলেটির। ওদিকে তার মায়ের ফেসবুকে গিয়ে দেখলাম উনি শাহবাগের অনুসারী। ভাগ্যিস ইসলামপন্থীরা ক্ষমতায় নেই। নয়তো উনি এবং ওনার তরিকার লোকজন আজকে তুলোধুনো করে ফেলতেন হুজুরদের। ওনার ছেলে মাদরাসায় পড়ত না। তবুও নিহত হতে হয়েছে। সমস্যা মাদরাসা কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানে না; সমস্যা রাষ্ট্রের আইন-কানুনে। সমস্যা রাষ্ট্র পরিচালনায়। সমস্যা রাষ্ট্রের বৈষম্যমূলক অর্থনীতিতে।’  

পোস্টটি এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অর্ধ শতাধিক শেয়ার হয়েছে। পোস্টটির মন্তব্যগুলোতে নাহিদা নাহিদকে অপ্রতিমের নাম, তার সাজসজ্জা ও পোশাকের কারণে নানা ভাষায় আক্রমণ করা হয়েছে। 

যেমন, মোহাম্মদ সজীব খান নামে একজন লিখেছেন, ‘ছেলের নাম দেখে ভাবছিলাম হিন্দু পরে মায়ের নাম দেখে বুঝলাম মুসলিম।’ এই কমেন্টের উত্তরে পোস্টদাতা লিখেছেন, ‘মায়ের ইমান না থাকা নিয়ে সন্দেহ নেই। ছেলেটা বয়সে ছোটো তাই মুসলিম হিসেবে ধরে নিতে হবে।’

মোহাম্মদ নাজিম এইচ নামে একজন নাহিদা নাহিদকে ‘শাহবাগী’ উল্লেখ করে লিখেছেন, ‘টিপ দেখেই সন্দেহ হয়েছিল যে উনি শাহবাগী হবে! ছেলের নামই তাই বহন করে।’

হাসান মোহাম্মদ মেহেদী নামে আরেকজন লিখেছেন, ‘একটু আগে ঘেটে আসলাম আইডি, পিওর শাহবাগী। এক দলা থুতু আসলো এই মহিলার প্রতি।’

তানজীম আত-তামিমী নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে কমেন্ট করে লেখা হয়েছে, ‘টিপ দেখে তো মনে হচ্ছে প্রথম কাতারের শাহামেগি।’ 

একই পোস্টে শাহেদ হোসাইন নামে একজন নাহিদা নাহিদকে নিয়ে এমন মন্তব্যের বিরোধিতা করায় তাকে কমেন্টের উত্তরে বলা হয়েছে ‘টুপিওয়ালা শাহবাগী’।

মাহমূদ জাফর নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে অপ্রতিমের জানাজার একটি স্ক্রিনশট যুক্ত করে দেওয়া পোস্টে লেখা হয়েছে, ‘এই জানাজার ভিডিওটা দেখার আগ পর্যন্ত অপ্রতিমকে হিন্দু ভাবা আমি! আসতাগফিরুল্লাহ, মুসলমানি কোনো নাম নাই?’

Claim:
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের এক শিক্ষকের ছেলে অপ্রতিমের নিখোঁজ ও পরবর্তীতে তার লাশ উদ্ধারের ঘটনায় ফেসবুকে ধর্মভিত্তিক প্রচারণা চালানো হচ্ছে

Claimed By:
Facebook Users

Rating:
Mostly false

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।

এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh