ইনকিলাব মঞ্চের হাদি গুলিবিদ্ধের ঘটনায় গুজবে সয়লাব ফেসবুক


ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর বিজয়নগরে গুলিবিদ্ধ হন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ভুয়া ফটোকার্ড, এআই জেনারেটেড ছবি এবং ভিডিও ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। ফ্যাক্টওয়াচের মনিটরিংয়ে এমন একাধিক দাবি নজরে এসেছে। এসব ভুয়া ফটোকার্ড, ভুয়া মন্তব্য, এআই জেনারেটেড ছবি এবং ভিডিও নিয়ে এই প্রতিবেদন।
হাদির ওপর হামলায় সংবাদমাধ্যমের ভুয়া ফটোকার্ড
সম্প্রচার মাধ্যম আরটিভির নাম ও লোগোযুক্ত একটি ফটোকার্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে ডিএমপি কমিশনার সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, ওসমান হাদির উপর গুলি বর্ষণকারী জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত। ফ্যাক্টওয়াচের যাচাইয়ে দেখা যায়, সম্প্রচার মাধ্যমটি এমন কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। তাদের ভেরিফায়েড সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ও ওয়েবসাইট খুঁজে এই দাবিতে প্রচারিত কোনো ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি।


হাদির ওপর হামলায় সংবাদমাধ্যমের ভুয়া ফটোকার্ড
বরং গতকাল (১৩ ডিসেম্বর) তাদের ফেসবুক পেজে হাদি ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনারের একই ছবি ব্যবহার করে প্রচারিত ভিন্ন একটি ফটোকার্ড পাওয়া যায়। এটির শিরোনাম, ‘হাদিকে গু/লি করা ব্যক্তিদের শ/না/ক্ত করে ফেলেছে পুলিশ: ডিএমপি কমিশনার।’


হাদির ওপর হামলায় সংবাদমাধ্যমের ভুয়া ফটোকার্ড
এ ছাড়া ডিএমপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে গতকাল (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় দেওয়া একটি ফেসবুক পোস্টে আরটিভির নাম ও লোগোযুক্ত এই ফটোকার্ডটিকে ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
এই ফটোকার্ডযুক্ত কিছু ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে।
উল্লেখ্য, রাজধানীর নয়াপল্টনে একটি সভায় দেওয়া বক্তব্যের সময় এই ফটোকার্ড উদ্ধৃত করে মন্তব্য করেছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তবে গতকাল রাতেই এটিকে ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’ উল্লেখ করে এই মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি।
প্রায় একই দাবিতে ফেসবুকে ছড়িয়েছে দৈনিক কালবেলার নামে ভুয়া ফটোকার্ড। এর মধ্যে কালবেলার নাম ও লোগোযুক্ত ফটোকার্ডটিতে লেখা, ‘ওসমান হাদির উপরে হামলায় জামায়াত শিবির জড়িত।’ ফটোকার্ডটিতে তারিখ দেওয়া ১২ ডিসেম্বর। এই সূত্রে কালবেলার ফেসবুক পেজ খুঁজে এমন কোনো ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি। তাদের ওয়েবসাইটেও এমন কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।


হাদির ওপর হামলায় সংবাদমাধ্যমের ভুয়া ফটোকার্ড
তবে একইদিনে কালবেলার ফেসবুক পেজে প্রচারিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়। এই ফটোকার্ডটির সঙ্গে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডের মিল পাওয়া যায়। এই ফটোকার্ডটির শিরোনাম, ‘ওসমান হাদির সর্বশেষ অবস্থা জানালেন চিকিৎসক।’
অর্থাৎ এই ফটোকার্ডটির শিরোনাম পরিবর্তন করে ভিন্ন শিরোনামে প্রচার করা হচ্ছে।
এই ফটোকার্ডযুক্ত কিছু ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে।
বিবিসি বাংলার নাম ও লোগোযুক্ত একাধিক ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়তে দেখেছে ফ্যাক্টওয়াচ। এসব ফটোকার্ডে লেখা, ‘সাদিক কায়েমকে প্রার্থী করার জন্য হাদিকে সরিয়ে দিতে হাদির উপরে শিবিরের হামলা‘, ‘হাদির উপরে হামলাকারীকে পূর্বে দুইবার জামিন করিয়েছেন শিশির মনির‘। তবে বিবিসি বাংলার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজসহ অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া ও ওয়েবসাইটে খুঁজে এমন কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া কথিত ফটোকার্ডগুলোর ফন্টও বিবিসি বাংলায় ব্যবহৃত ফটোকার্ড থেকে আলাদা।


হাদির ওপর হামলায় সংবাদমাধ্যমের ভুয়া ফটোকার্ড
ফলে এটি প্রতীয়মান হয় যে, উপরিউক্ত দাবিতে বিবিসি বাংলার নামে সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো ভুয়া।


হাদির ওপর হামলায় সংবাদমাধ্যমের ভুয়া ফটোকার্ড
এসব ফটোকার্ডযুক্ত কিছু ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে।
আমার দেশের নাম ও লোগোযুক্ত একটি ফটোকার্ড শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, ‘ওসমান হাদিকে গুলি করা ঘাতকের কল লিস্টে সাদিক কায়েমের নাম্বার।’


হাদির ওপর হামলায় সংবাদমাধ্যমের ভুয়া ফটোকার্ড
তবে আমার দেশ পত্রিকাটি তাদের ফেসবুক পেজে গতকাল শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) একটি পোস্ট করে জানিয়েছে, আমার দেশের নাম ও লোগোযুক্ত ফটোকার্ডটি ভুয়া। তাদের নামে ফেক কার্ড তৈরি করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
এই ফটোকার্ডযুক্ত কিছু ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে।
হাদির ওপর হামলার ঘটনায় রিজভী ও তারেক রহমানকে নিয়ে ভুয়া উক্তি
হাদির ওপর হামলার ঘটনায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে উদ্ধৃত করে একটি মন্তব্য ফেসবুকে ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে হাদিকে গুলি করা হয়েছে।
ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে কথিত এই মন্তব্যটি পাওয়া যায় ‘রুখে দাঁড়াও বিডি (rukedaraobd)‘ নামের একটি ওয়েবসাইটে। এতে দাবি করা হয়, ‘জাতীয় নাগরিক পার্টির জ্যেষ্ঠ সমন্বয়ক ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজ শেষে এই ঘটনা ঘটে। এই দিকে রুহুল কবির রিজভী বলেন হাদি খালেদা জিয়াকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করেন। যা তারেক রহমান ও দলের নেতারা সহ্য করতে পারেন নি। পরবর্তীতে ছাত্রদলের নয়নকে হত্যা করার জন্য নির্দেশ প্রদান করলে হাদির উপর গুলি চালানো হয়।’
প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে দেশের নির্ভরযোগ্য কোনো সংবাদমাধ্যমে রুহুল কবির রিজভীর এমন কোনো মন্তব্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।


হাদির ওপর হামলার ঘটনায় রিজভী ও তারেক রহমানকে নিয়ে ভুয়া উক্তি
অপরদিকে ‘রুখে দাঁড়াও বিডি (rukedaraobd)‘ নামের ওয়েবসাইটটির ডোমেইন গত ৩ নভেম্বর নিবন্ধন করা হয়। ওয়েবসাইটটিতে তেমন বেশি কনটেন্ট নেই। যে কয়টি কনটেন্ট পাওয়া যায়, সেগুলো বিশ্লেষণে এটি একটি প্রোপাগান্ডামূলক ওয়েবসাইট হিসেবে প্রতীয়মান হয়।
ফলে এটি নিশ্চিত হওয়া যায়, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে হাদিকে গুলি করা হয়েছে দাবিতে রুহুল কবির রিজভীর কথিত মন্তব্যটি ভুয়া।
এই দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে।
হাদির ওপর সন্দেহভাজন হামলাকারীকে নিয়ে এআই কনটেন্ট দিয়ে একাধিক প্রচারণা
সন্দেহভাজন ব্যক্তির এআই ছবি
শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনায় ওইদিনই সন্দেহভাজন গুলি বর্ষণকারীর মুখে মাস্ক পরা এক ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে তার কিছু ছবি বিশ্লেষণ করে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেয় দ্যা ডিসেন্ট। এটি একটি ডিজিটাল ইনভেস্টিগেটিভ মিডিয়া। এই পোস্টের পর ফেসবুকে মাস্কহীন এক ব্যক্তির ছবি শেয়ার করে দাবি করা হয়, মুখে মাস্ক পরা ওই ব্যক্তি হাদির বন্ধুর ছোট ভাই। ছবিটি সিসিটিভি ফুটেজ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
ফ্যাক্টওয়াচের যাচাইয়ে দেখা যায়, ছবিটি এআই জেনারেটেড। একাধিক এআই ইমেজ শনাক্তকারী টুল ছবিটিকে এআই জেনারেটেড বলে জানিয়েছে।


হাদির ওপর সন্দেহভাজন হামলাকারীকে নিয়ে এআই কনটেন্ট দিয়ে প্রচারণা
এ ছাড়া পড়ে মুখে মাস্ক পরা এই ব্যক্তির প্রকৃত ছবিও পরবর্তীতে প্রকাশ পায়। যা থেকেও নিশ্চিত হওয়া যায় সিসিটিভি ফুটেজ থেকে উদ্ধার করা হাদির বন্ধুর ছোট ভাই দাবিতে প্রচারিত ছবিটি এআই জেনারেটেড।


ওসমান হাদিকে গুলি: সন্দেহভাজন একজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ
এই দাবিতে কিছু ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে।
সন্দেহভাজন ব্যক্তির এআই ভিডিও
হাদির ওপর হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দাবিতে ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। ভিডিওটির ক্যাপশনে দাবি করা হচ্ছে, ওসমান হাদীর গুলি করা ব্যক্তি ঢাকা থেকে পাহাড়িয়া এক্সপ্রেস ট্রেনে করে সিলেট যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভিডিওটি এআই জেনারেটেড। ৬ সেকেন্ডের ভিডিওটি বিশ্লেষণে এতে অস্বাভাবিক একটি হাত দেখা যায়, যা দিয়ে ওই ব্যক্তিকে ধরে রাখা হয়েছে। কিন্তু ওই হাতের বিপরীতে কোনো মানুষের উপস্থিতি নেই। এই ধরনের অস্বাভাবিকতা এআই জেনারেটেড কনটেন্টে দেখা যায়।


হাদির ওপর সন্দেহভাজন হামলাকারীকে নিয়ে এআই কনটেন্ট দিয়ে প্রচারণা
এ ছাড়া ঢাকা থেকে সিলেটে পাহাড়িয়া এক্সপ্রেস নামে কোনো ট্রেনও চলাচল করে না।
পরবর্তীতে ভিডিওটি থেকে কিছু কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চে দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবির সঙ্গে আলোচিত ভিডিওর মিল রয়েছে।
২০২৪ সালের ৮ নভেম্বরে প্রকাশিত প্রথম আলোর প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, ভিডিওটিতে থাকা ব্যক্তিটির নাম ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান। ওই সময় তাকে রাজধানীর আদাবরে ব্রিটিশ কলাম্বিয়া স্কুলের কার্যালয়ে ঢুকে অস্ত্রের মুখে ১৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় জড়িত অভিযোগে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
প্রসঙ্গত, এই ফয়সাল করিম মাসুদই হাদিকে গুলির ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তি। গুলির ঘটনার সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ওই তাকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অর্থাৎ ভিন্ন একটি ঘটনার পুরোনো ছবি এআই দিয়ে সম্পাদনা করে আলোচিত ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।
এই দাবিতে কিছু ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে।
ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের সঙ্গে সন্দেহভাজন ব্যক্তির এআই ছবি প্রচার
ফেসবুকে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের সঙ্গে সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদের একটি ছবি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, হাদিকে গুলি করা সন্দেহভাজন ব্যক্তির সঙ্গে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমকে চা পান করতে দেখা গেছে। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ছবিটি এআই জেনারেটেড, বাস্তব কোনো ছবি নয়।
ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চে এটির কোনো নির্ভরযোগ্য সোর্স পাওয়া যায়নি। পরে একাধিক এআই ইমেজ শনাক্তকারী টুল ছবিটিকে এআই জেনারেটেড বলে জানিয়েছে।
এর মধ্যে একটি গুগলের এআই জেনারেটেড কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল সিন্থআইডি (SynthID)। এটি গুগলের এআই প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি ছবি, ভিডিও, অডিও বা টেক্সটে অদৃশ্য ডিজিটাল ওয়াটারমার্ক যুক্ত করে, যা খালি চোখে দেখা না গেলেও বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করা যায়। কোনো ছবি গুগল এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত কি না জানতে চাইলে জেমিনিতে ছবিটি আপলোড করে জিজ্ঞেস করলেই সিন্থআইডি ওয়াটারমার্ক আছে কি না পরীক্ষা করে জানিয়ে দেয়।
সাদিক কায়েমের সঙ্গে সন্দেহভাজন ব্যক্তির ছবিটিও জেমিনিতে আপলোড করার পর বিশ্লেষণে দেখা যায়, এতে এই ধরনের ওয়াটার মার্ক রয়েছে। যা ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদনার প্রতি ইঙ্গিত করে।


ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের সঙ্গে সন্দেহভাজন ব্যক্তির এআই ছবি প্রচার
এ ছাড়া আরও বেশ কিছু টুল যেমন, সাইটইঞ্জিন, ইজ ইট আইও আলোচিত এআই জেনারেটেড বলে জানায়।
উল্লেখ্য, রাজধানীর নয়াপল্টনে একটি সভায় দেওয়া বক্তব্যের সময় এই ছবিকে উদ্ধৃত করে মন্তব্য করেছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তবে গতকাল রাতেই এটিকে ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’ উল্লেখ করে এই মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি।
এই দাবিতে কিছু ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে।
হাদির ওপর হামলাকারী ব্যক্তিকে আটকের দাবিতে ভিন্ন ঘটনার ভিডিও প্রচার
ফেসবুকে প্রায় এক মিনিটের একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, ‘ওসমান হাদিকে টার্গেট কিলিং করে গুলি করা এক সন্ত্রাসী ইতিমধ্যে সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেফতার।’ ভিডিওটিতে চ্যানেল আইয়ের লোগো দেখা যায়।


হাদির ওপর হামলাকারী ব্যক্তিকে আটকের দাবিতে ভিন্ন ঘটনার ভিডিও প্রচার
ভিডিওটি নিয়ে অনুসন্ধানে রিভার্স ইমেজ সার্চে সম্প্রচার মাধ্যম চ্যানেল আইয়ের ইউটিউব চ্যানেলে একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। গত ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ভিডিওটি থেকে জানা যায়, এটি রাজধানীর সংসদ ভবন এলাকা থেকে চায়নিজ কুড়াল সদৃশ অস্ত্রসহ এক ব্যক্তিকে আটকের ভিডিও এটি।
প্রসঙ্গত, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর বিজয়নগরে। অর্থাৎ আলোচিত ভিডিওটি ভিন্ন ঘটনার এবং পুরোনো।
এই দাবিতে কিছু ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে।
সার্বিক বিবেচনায় ফ্যাক্টওয়াচের পর্যবেক্ষণে আলোচিত দাবিগুলো মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হলো।
Claim: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর বিজয়নগরে গুলিবিদ্ধ হন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ভুয়া ফটোকার্ড, এআই জেনারেটেড ছবি এবং ভিডিও ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়।
Claimed By: Facebook Users
Rating: False


এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh




