সম্প্রতি ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে, যেখানে একটি বুলডোজার দিয়ে পুরোনো কবর গুঁড়িয়ে দেওয়ার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। ক্যাপশনে দাবি করা হচ্ছে যে, ভারতে মুসলমানদের মসজিদ ভাঙার পর এখন মুসলিম কবরস্থানও ধ্বংস করা হচ্ছে। তবে ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে বাস্তবে এই ভিডিওটি ভারতের কোনো মুসলিম কবরস্থানের নয়। ভিডিওটি ইন্দোনেশিয়ার খ্রিস্টান কমিউনিটির একটি কবরস্থানের।
অনুসন্ধানের শুরুতে ভাইরাল ভিডিওটি থেকে প্রাপ্ত কি-ফ্রেমগুলোর ওপর রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। এর ফলে ‘Hivileo’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ভাইরাল ভিডিওটির থেকে তুলনামূলক একটি স্বচ্ছ ভিডিও পাওয়া যায়। সেই উচ্চ মানের ভিডিওটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় যে, সেখানে কিছু কবরের ওপর খ্রিস্টান ধর্মের প্রতীক বা ক্রুশ (Cross) চিহ্ন স্পষ্ট বিদ্যমান। এছাড়া ওই ভিডিওর ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়— অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের একটি কবরস্থানের সীমিত জায়গার কারণে নতুন সমাধির ব্যবস্থা করতে পুরোনো কবর খুঁড়ে মৃতদেহ উত্তোলন (exhumation) করা হচ্ছে।
ইনস্টাগ্রামের সেই পোস্টের ক্যাপশনে ভিডিওটির উৎস হিসেবে ‘এবিএন’ (ABN)-কে উল্লেখ করা হয়। এর সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে ‘এবিএন টিভি’ (ABN TV)-এর ফেসবুক পেজে চলতি বছরের ২৭ মে পোস্ট করা একই ঘটনার ভিডিও পাওয়া যায় এবং সেখানেও একই তথ্য জানানো হয়। এরপরে প্রাসঙ্গিক আরও কিছু কি-ওয়ার্ড ধরে সার্চ করে ‘Yohanes Nyoman S’ নামের একটি ফেসবুক প্রোফাইলে এই কবরস্থান ভাঙার পরবর্তী দৃশ্যের আরও একটি ভিডিও পাওয়া যায়। এই ভিডিওর ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয় যে, এই কবরস্থানটির নাম ‘The Palasari cemetery’।
এই নামের সত্যতা যাচাই করতে গুগল ম্যাপসের সাহায্য নেওয়া হয়। গুগল ম্যাপে বালির ‘Pemakaman Umum Umat Palasari Cemetery’ (পালাসারী পাবলিক কবরস্থান) অনুসন্ধান করে এর ২০২৫ সালের জুনের একটি স্ট্রিট ভিউ পাওয়া যায়। এই স্ট্রিট ভিউর সাহায্যে ভাইরাল হওয়া স্থানটি খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়। ভাইরাল ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ড, গাছপালা এবং আশেপাশের কাঠামোগুলো এই নির্দিষ্ট কবরস্থানের স্ট্রিট ভিউর সাথে পুরোপুরি মিলে যায়। এর মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় আলোচিত স্থানটি মূলত একটি খ্রিস্টান কমিউনিটি কবরস্থান।
অর্থাৎ, ইন্দোনেশিয়ার একটি খ্রিস্টান কবরস্থানের কবর পুনঃব্যবহারের ভিডিওটিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সাথে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। এর সাথে ভারতের বাস্তব পরিস্থিতির কোনো সম্পর্ক নেই।
সুতরাং, সবকিছু বিবেচনা করে ফ্যাক্টওয়াচ ভাইরাল পোস্টগুলোকে ‘মিথ্যা’ হিসেবে সাব্যস্ত করেছে।
Claim: ভারতে মুসলমানদের মসজিদ ভাঙার পর এখন মুসলিম কবরস্থানও ভেঙে ফেলা হচ্ছে।
Claimed By: Facebook users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh