পিংক বাসের মিমে হাস্যরসের আড়ালে নারীবিদ্বেষ

38
পিংক বাসের মিমে হাস্যরসের আড়ালে নারীবিদ্বেষ
পিংক বাসের মিমে হাস্যরসের আড়ালে নারীবিদ্বেষ

একটা বাস। রঙ গোলাপি। চালকের আসনে একজন নারী। যাত্রীরাও সব নারী। অন্যতম উদ্দেশ্য, রাস্তায় নেমে যেন একজন নারী নিরাপদে, স্বস্তিতে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন। কিন্তু পিংক বাস সার্ভিসটি উদ্বোধন ও পরবর্তী সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া সয়লাব হয়েছে নানামুখী প্রচারণায়। এসব প্রচারণার বিষয়বস্তু কখনো বাসগুলোর নারী চালক, নারী-পুরুষ সমান অধিকার আবার কখনো ট্রান্সজেন্ডার-বিদ্বেষ। ছড়িয়েছে মিম, ভিডিও আকারে। এগুলো লাখো ভিউ, হাজারো শেয়ারের মাধ্যমে একটি উদ্যোগ যেন রাতারাতি পরিণত হয়েছে অনলাইন ট্রলিংয়ের সবচেয়ে সহজলভ্য উপকরণে। ফলে চাপা পড়ে যাচ্ছে এমন সব প্রশ্ন, যেগুলো নিয়ে আসলে কথা বলা দরকার ছিল।

এই যেমন, একটি ভিডিওতে দেখা গেল, পিংক বাসের পিছু পিছু চলছে নীল রঙের আরেকটি বাস, যাতে লেখা ‘মহিলা বাসের পিছু সার্ভিস’। এই বাসের চালক ও যাত্রী সবাই পুরুষ। কিছুক্ষণ পর পর এই নীল রঙের বাসের চালকের সহকারী মনে করিয়ে দিচ্ছেন সামনের বাসের চালক নারী, যেকোনো সময় যেকোনো কিছু ঘটতে পারে। আর তাই নীল বাসের যাত্রীরা কেউ ভয় পাচ্ছে, কেউ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত আবার কেউ দোয়া করছেন। কারণ, সামনের গোলাপি বাসের নারী যাত্রীদের মধ্যে আছেন তাদের স্ত্রীরা। গোলাপি বাসে পুরুষদের উঠার সুযোগ নেই বলে তারা এই মহিলা বাসের পিছু সার্ভিসের সেবা নিয়ে নিজেদের স্ত্রীদের ওপর নজর রাখছেন।

গত রোববার (২৩ আগস্ট) নাহিদ ব্রো নামের একটি পেইজ থেকে ভিডিওটি আপলোড করা হয়। তখনই এটির ভিউ ছিল প্রায় ২০ লাখের মতো। প্রায় ৫ মিনিটের এনিমেটেড ভিডিওটির একদম শেষদিকে দেখা যায়, গোলাপি বাসের চালক তার আসন ছেড়ে বাসের অন্য যাত্রীদের সঙ্গে চলন্ত অবস্থাতেই ভারতীয় টিভি সিরিয়াল দেখতে বসে গেছেন।

পিংক বাসের চালকদের নিয়ে তৈরি এসব মিম, ভিডিওগুলো আসলে কী বলছে? এই প্রশ্নের উত্তরের খুঁজে বিভিন্ন গ্রুপ, পেইজ ও অ্যাকাউন্ট থেকে সংগ্রহ করা প্রায় ৩০টির বেশি মিম। সেসব থেকে উল্লেখযোগ্য কিছু মিম পর্যালোচনা করা যাক-

মিম, ভিডিওগুলোতে নারীর অযোগ্যতা নির্মাণ, সম অধিকারকে হেয় করার চেষ্টা 

পিংক বাস চালুর পরপর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এক নারী চালকের ভিডিও দিয়ে দাবি করা হয়, ওই চালক তার বাসটি ফ্লাইওভারে তুলতে ব্যর্থ হওয়ায় পরবর্তীতে পুরুষ চালক তাকে সহায়তায় এগিয়ে আসেন। এই ঘটনার পর পিংক বাসের চালকদের নিয়ে বেশ কিছু মিম ছড়িয়ে পড়ে। বলিউড অভিনেতা অক্ষয়ের বহুল আলোচিত একটি মিম টেম্পলেট ব্যবহার করে তৈরি মিমটিতে লেখা, ‘যে বেডিরা একটা বাস ফ্লাইওভারে তুলতে পারে না, ওরা নাকি আবার পুরুষের সমান অধিকার চায়।’ 

এক নারী বাসচালকের ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকের একটি গ্রুপে পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘A woman.A warrior.A mother.The definition of unstoppable!’ এই পোস্টটিকে মিম কন্টেন্ট বানিয়ে ফেলা হয় একটি কমেন্ট দিয়ে। কমেন্টটিতে ইংরেজিতে লেখা, ‘Unstoppable? Flyover e uthte giya na stop hoiya gesilo?’ (আনস্টপেবল? ফ্লাইওভারে উঠতে গিয়ে না স্টপ হয়ে গেছিল)। 

এক বাস চালক গত ১৯ আগস্ট একটি বেসরকারি টিভিতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘রাস্তায় প্রচুর গরম, এসি বাস ছাড়া চালানো সম্ভব না।’ তার এই বক্তব্য ধরে একটি মিম তৈরি করা হয়েছে। মিমের উপকরণ ওই চালক ও অ্যানিমেশন মুভি মাদাগাস্কারের গ্লোরিয়া নামের একটি জলহস্তী। বাংলাদেশের ফেমিনিজম বিরোধীদের গ্লোরিয়া নামের এই জলহস্তীর ছবিটি সম্পাদনা করে মিম তৈরি করে নারীবাদীদের কটাক্ষ করতে দেখা যায়। যেখানে গ্লোরিয়ার নাকে বড় করে নোলক বা নাকফুল বসানো হয় এবং কপালে থাকে লাল রঙের বড় টিপ। 

পোস্টের ক্যাপশনে পিংক বাসের পক্ষে যারা কথা বলেছেন, তাদের উদ্দেশ্যে গালিগালাজ বা যৌনতা-সংক্রান্ত স্ল্যাং ব্যবহার করা হয়েছে। যার একটা বড় অংশ নারীর প্রতি অবমাননাকর ভাষা। পোস্টটির মূল ভাষ্য এমন, বাংলাদেশে নারীদের দিয়ে বাস চালানো সম্ভব না। 

আরেকটি ভিডিওতে এক চালককে সাক্ষাৎকার দিতে দেখা যায়। সেখানে এই চালক দোতলা বাস চালানো নিয়ে তার চ্যালেঞ্জ, প্রতিবন্ধকতার কথা সংবাদমাধ্যমকে বলছিলেন। তার এই সাক্ষাৎকার নিয়েও তৈরি হয়েছে মিম। 

এই মিমটি তৈরি করা হয়েছে ‘মেসিয়াহ’ শিরোনামের একটি টেম্পলেটের ওপর। মূল টেম্পলেটটিতে দুটি অংশ। একটি অংশে একদল মানুষ এক ব্যক্তিকে মেসিয়াহ দাবি করে আরেক অংশে ওই ব্যক্তি যে মেসিয়াহ না সেটি বিশ্বাস করাতে চেষ্টা করতে দেখা যায়। 

ওই নারী চালকের বক্তব্যের বিপরীতে সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচিত বেশ কয়েকজন নারীকে এনে কিছু মন্তব্য জুড়ে দেওয়া হয়েছে। যেমন, ‘পুরুষমুক্ত সড়ক চাই’, ‘সব সমস্যার মূলে পুরুষ মানুষ!’, ‘হাত পা যেহেতু আছে, আমরাও পুরুষদের সমান। তোকে পারতে হবে।’, ‘হিজাব খুলে একটা টিপ পর, গলায় পাটের ব্যাগ ঝুলা তাহলেই পারবি!’ ইত্যাদি মন্তব্য। 

এই মিমের আড়ালে হারিয়ে গেছে ওই নারী চালকের বক্তব্যে উঠে আসা বেশ কিছু সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ। তিনি বলছিলেন, এই দুই তলা বাস নারী চালকদের দ্বারা চালানো সম্ভব না। তার জন্য একটু ছোট বাস, একটু ভালো বাস হলে ভালো হতো। তার বক্তব্যে ফুটে উঠেছিল ঢাকার রাস্তায় বাস চালানোর চ্যালেঞ্জও। 

তিনি বলছিলেন, বাস চালানোর জন্য হাজারটা গাড়ীর সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয়। রাস্তায় বাসে-বাসে চাপাচাপি, রেষারেষির ব্যাপারটিও উঠে আসে তার বক্তব্যে। 

নারী চালকদের হাতে তুলে দেওয়া বিআরটিসির বাসগুলোর দুর্দশার কথা ফুটে উঠেছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তার ফেসবুক স্ট্যাটাসেও। 

গত ১৯ আগস্ট সংস্থাটির ডেপুটি ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানার ধ্রুব আলম তার ফেসবুক ওয়ালে দেওয়া একটি পোস্টে লিখেন, ‘বিআরটিসি’র ডাইনোসর যুগের রাবিশ বাস চালাতে না পারায় নারীদের নিয়ে খুব হাসাহাসি হচ্ছে। এসব মানহীন ৩য় শ্রেণীর বাস আর দুনিয়ার কোথাও চলে না।… বাস চালানো কোন শক্তিশালী লোকের কাজ না, বরং সজাগ ও সতর্ক মানুষের কাজ। আন্তর্জাতিক মান না মেনে আমরা নিম্নমানের বাস চালাবো আর সেগুলো নারী চালকরা চালাতে না পারলে খুব মজা নিবো। এই ফাজলামির দায় সম্পূর্ণভাবে আমলাগুলোর, যারা এগুলো মেয়েদের হাতে তুলে দিয়েছে।আর চাকরির পরোয়া না করেই জানিয়ে রাখি, এই ডাবল ডেকার পৃথিবীর আর কোথাও চলে না, এমনকি ভারতেও না। শুধুমাত্র বাংলাদেশের জন্য স্পেশালি অশোক লেল্যান্ড বানিয়ে পাঠায় আর আমরাও সেগুলো নেই।… 

উপরিউক্ত মিম ও যেই ঘটনা নিয়ে এটি তৈরি, সেটির প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, একটি লিঙ্গ বিদ্বেষমূলক মিমের আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে নারী বাসচালকদের সড়কে বাস চালানোর চ্যালেঞ্জ এবং একইসঙ্গে প্রশাসনিক ব্যর্থতা।

দুর্ঘটনার সঙ্গে নারী পরিচয় জুড়ে দেওয়া 

চলতি বছরের শুরুতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি একটি সংবাদ সম্মেলনে ২০২৫ সালের সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান তুলে ধরে। এতে দেখা যায়, ২০২৫ সালে সারা দেশে ৬ হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে, নিহত হয়েছেন ৯ হাজার ১১১ জন এবং আহত হয়েছেন আরো ১৪ হাজার ৮১২ জন। 

সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে কাজ করা সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশন নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান জানায়, তাদের হিসেবে ২০২৫ সালে সড়কে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৭ হাজার ৫৮৪টি, এতে প্রাণ হারিয়েছেন ৭ হাজার ৩৫৯ জন। আহত হয়েছেন আরও ১৬ হাজার ৪৭৬ জন। সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে মোটরসাইকেলে। এসব দুর্ঘটনায় ৯৬২ জন নারী ও ১ হাজার ৮টি শিশু নিহত হয়েছেন। 

এসব দুর্ঘটনায় চালকদের কতজন নারী, কতজন পুরুষ ছিলেন-সেটির কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। তবে এটি সত্য যে, বাংলাদেশে পরিবহন খাতে নারী চালকদের উপস্থিতি বৃহৎ আকারে নেই বললেই চলে। 

তারপরও পিংক বাস চালুর পর নারী চালকদের দুর্ঘটনাপ্রবণ দেখিয়ে বানানো একাধিক মিম নজরে এসেছে। 

একটি মিমে দেখানো হয়েছে, ওপরে পিংক বাসের ছবি, নিচে রাকিব নামে এক ব্যক্তির কমেন্ট। সেখানে লেখা, ‘আমার সাথে যদি পিংক কালারের বাসের দেখা হয়, আমি বাইক ঘুরিয়ে অন্যদিকে চলে যাবো।’ 

আরেকটি মিমে দেখা যায়, রাস্তায় একটি সাইনবোর্ড। তাতে পথ নির্দেশক হিসেবে দেওয়া, ‘সোজা পথ, গন্তব্য ৫ কিলোমিটার, তবে সামনে আছে পিংক বাস।’ আরেক পাশে পথ নির্দেশক দিয়ে লেখা, ‘গন্তব্য ৫০ কিলোমিটার+জ্যাম’। একটি কার দ্বিতীয় পথে যাচ্ছে এবং এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে কোনো রিস্ক নেওয়া যাবে না। 

এই মিমটি পোস্ট করে ‘তানভীর ব্রো’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ক্যাপশন দেওয়া হয়েছে, ‘প্রয়োজনে ৪৫ কিলোমিটার বেশি পথ পাড়ি দিমু, কিন্তু তাও নো রিস্ক।’ 

আরেকটি মিমে দেখা যায়, এক নারী বাস চালকের ছবি ইনসাইটে। ব্যাকগ্রাউন্ডে এক ব্যক্তি দু হাত তুলে প্রার্থনা করছেন। যাতে গাড়ি রাস্তার বাইরে না চলে।

‘Memes-Z | মিমস জেনারেশন’ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপে মিমটি পোস্ট করা হয়েছে। পোস্টটির দীর্ঘ ক্যাপশনের শুরুর অংশটা এমন, ‘আগামীকাল ১৭ই আগষ্ট থেকে ঢাকার রাস্তায় নারীদের জন্য নামছে পিংক কালারের দুতলা বাস। ড্রাইভার কন্ট্রাক্টর সবাই নারী। কিন্তু দেখা যাবে ড্রাইভার কন্ট্রাক্টর নারী বলে নিরাপত্তা এবং ঝুঁকির কথা চিন্তা করে অনেক মেয়েরা এই বাসে উঠবে না। মেয়েরা সমানাধিকার নিয়ে যতই লাফালাফি করুক না কেন- কিছু ক্ষেত্রে নারীদের অধিকার দিতে চাইবে না। একটা নারী পুরুষদের প্রতি নিশ্চিন্তে যতটা ভরসা রাখে যতটা বিশ্বাস করে, নারীরা নারীদের প্রতি এতটা ভরসা রাখে না।’  

ক্যাপশনের আরেকটি অংশে লেখা, ‘পৃথিবীতে গাড়ি চালানো সহজ। কিন্তু বাংলাদেশে জটিল থেকেও জটিল! আর যদি চালক হন মহিলা তাহলে হয়েছে! গাড়ি যে রোডের বাইরে দিয়ে চলবে না-এর গ্যারান্টি দিতে পারছি না।’ 

পিংক বাস ও ট্রান্সজেন্ডার ইস্যু 

ফেসবুকে পিংক বাসের মিম কন্টেন্টে নারীবিদ্বেষের পাশাপাশি দেখা গেছে ট্রান্সজেন্ডারবিরোধী বিদ্রূপও। “সব দোষ মৌলবীদের” নামে পরিচালিত একটি পেইজ থেকে আপলোড করা এমন একটি মিমে দেখা যায়, প্রথম ছবিতে সারিবদ্ধ পিংক বাস, এরপরের ছবিতে গাছের আড়াল থেকে উঁকি দেওয়া একজন ব্যক্তিকে দেখানো হয়েছে, যাকে ভারী মেকআপ, শাড়ি ও গয়নাসহ নারীবেশে উপস্থাপন করা হয়েছে। ক্যাপশনে লেখা “লে ট্রান্সগন্ডার (ট্রান্সজেন্ডার)”।

এই মিমের ভাষ্য এমন, নারীদের জন্য নির্ধারিত পিংক বাসে আসলে ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিরাও উঠতে চাইবেন বা লুকিয়ে ঢুকতে চেষ্টা করবেন। ট্রান্স নারীদের এখানে কৌতুকের ছলে এমনভাবে দেখানো হয়েছে যেন তারা লুকিয়ে নারীদের পরিসরে ঢোকার চেষ্টা করছেন। অর্থাৎ ট্রান্স নারী “প্রকৃত” নারী নন, যা লিঙ্গ পরিচয়ের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার মাধ্যমে সমাজে বিদ্যমান বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গিকে জোরদার করে।

সবমিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, পিংক বাসের মতো একটি উদ্যোগকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া মিম ও ভিডিওগুলো প্রকৃতপক্ষে লিঙ্গ বিদ্বেষ ছড়ানোর একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে, আর উদ্বেগজনক বিষয় হলো এসব কনটেন্ট ব্যাপক জনপ্রিয়তাও পাচ্ছে—লাখো ভিউ, শেয়ার ও কমেন্টের মধ্য দিয়ে তা আরও ছড়িয়ে পড়ছে। নারীর সক্ষমতা নিয়ে সাধারণীকরণ, অবমাননাকর ভাষা ও স্ল্যাংয়ের ব্যবহার এবং একটি ইতিবাচক উদ্যোগকে হাস্যরসের ছলে বিদ্বেষে রূপান্তরিত করার এই প্রবণতা স্পষ্টতই সমস্যাজনক, কারণ এটি সমাজে বিদ্যমান লিঙ্গ বৈষম্যকে আরও স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য করে তুলছে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই বিদ্বেষের আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে মূল সমস্যাগুলো। নারী চালকদের সামনে থাকা বাস্তব চ্যালেঞ্জ-দুই তলা বাস চালানোর প্রায়োগিক অসুবিধা, ঢাকার যানজটপূর্ণ রাস্তায় গাড়ি চালানোর সাধারণ প্রতিবন্ধকতা, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা-এসব প্রশ্ন মিমের হাস্যরসের নিচে চাপা পড়ে যাচ্ছে। 

ফলে একজন নারী চালকের ব্যক্তিগত ব্যর্থতা হিসেবে যা দেখানো হচ্ছে, তার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে এ বিষয়ে আলোচনা ও জবাবদিহিতার সুযোগই সৃষ্টি হচ্ছে না। 

No Factcheck schema data available.