‘নেপালে সব প্রাইভেট স্কুল বন্ধ। প্রধানমন্ত্রীসহ সব নাগরিকের সন্তানদের পড়াতে হবে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে’-এমন একটি দাবি ফেসবুকে প্রচার করা হচ্ছে। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়, দাবিটি ভিত্তিহীন। নেপালের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, নেপালের নতুন সরকার এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে নেপালি সংবাদমাধ্যম দ্য হিমালয়ান টাইমসে গত ৯ এপ্রিল প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, নেপালের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিদ্যমান আইন ও আদালতের আদেশ লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে আদায় করা ফি ফেরত দিতে বেসরকারি স্কুলগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে। এতে বেসরকারি বা প্রাইভেট স্কুল বন্ধ করে দেওয়া সংক্রান্ত কোনো তথ্য নেই।
নেপালের আরেকটি সংবাদমাধ্যম দ্য কাঠমুন্ডু পোস্টে গত ২৯ মার্চ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনকে রাজনীতিমুক্ত করা, দুর্নীতি দমন এবং সরকারি সেবার মান উন্নয়নে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ সরকারের ১০০ দফা সংস্কার কর্মসূচি সম্পর্কিত। এই প্রতিবেদনেও প্রাইভেট স্কুল বন্ধ সম্পর্কিত কোনো তথ্য নেই। বরং তার ১০০ দফা কর্মসূচির মধ্যে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করার ঘোষণা পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে আরও খুঁজে নেপালের ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান নেপাল ফ্যাক্টচেকের ওয়েবসাইটে এই নিয়ে একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটিতে সংস্থাটি নিজস্ব অনুসন্ধানের ভিত্তিতে জানিয়েছে, নেপালে প্রাইভেট স্কুল বন্ধ করে দেওয়ার দাবিটি ভিত্তিহীন।
উল্লেখ্য, নেপাল ফ্যাক্টচেক আন্তর্জাতিক ফ্যাক্টচেকিং নেটওয়ার্ক (আইএফসিএন) স্বীকৃত একটি প্রতিষ্ঠান।
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত এসব ফলাফলের ভিত্তিতে ফ্যাক্টওয়াচ আলোচিত ভিত্তিহীন দাবিটিকে মিথ্যা হিসেবে সাব্যস্ত করছে।
Claim: ‘নেপালে সব প্রাইভেট স্কুল বন্ধ। প্রধানমন্ত্রীসহ সব নাগরিকের সন্তানদের পড়াতে হবে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে’-এমন একটি দাবি ফেসবুকে প্রচার করা হচ্ছে।
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh