সিরিয়ার পুরোনো বিস্ফোরণের ভিডিওকে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ঘটনা বলে প্রচার

94
সিরিয়ার পুরোনো বিস্ফোরণের ভিডিওকে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ঘটনা বলে প্রচার
সিরিয়ার পুরোনো বিস্ফোরণের ভিডিওকে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ঘটনা বলে প্রচার

সম্প্রতি ফেসবুকে মৃতদেহ নিয়ে একটি মিছিলের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে।  ক্যাপশনে দাবি করা হচ্ছে, ভিডিওটি একজন ফিলিস্তিনি শহীদের জানাজা নিয়ে মিছিলের সময়কার। আরও বলা হয়, মৃতদেহের ভিতরে ইসরায়েলি বাহিনী একটি বোমা রাখে, যা পরবর্তীতে বিস্ফোরিত হয়। কিন্তু ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে যে, বাস্তবে এটা ২০১২ সালের জুলাই মাসে সিরিয়ার দামেস্কে একটি গাড়ি বোমা হামলার ঘটনা।  তাই ফ্যাক্টওয়াচের বিবেচনায় এই পোস্টগুলো মিথ্যা। 

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে। 

ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানঃ 

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি থেকে বিভিন্ন কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। এর ফলে ‘تجمع شباب مورك الأحرار  (tajamae shabab murk al’ahrar)’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে  ২০১২ সালের ৩০ জুন আপলোড করা ভাইরাল ভিডিওটির অনুরূপ একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। এই ভিডিওর বর্ণনায় উল্লেখ করা হয় “দামেস্কের গ্রামাঞ্চল, জামালকা, জানাজা মিছিলে বোমা হামলার মুহূর্ত, ৩০ জুন, ২০১২ +১৮।” (অনুবাদিত)

এই সূত্র অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক কিছু কি-ওয়ার্ড ধরে অনুসন্ধান করে এনবিসি নিউজ এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ২০১২ সালের ২ জুলাই প্রকাশিত এই একই ঘটনা সম্পর্কিত একটি ভিডিও রিপোর্ট খুঁজে পাওয়া যায়।  রিপোর্ট অনুসারে, ভিডিওটি দামেস্কে একটি জানাজা মিছিলে বিস্ফোরণ ঘটার সময়কার। 

আলোচিত এই ঘটনা সম্পর্কে ২০১২ সালের ১ জুলাই সিএনএন এ প্রকাশিত একটি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় যে বিস্ফোরণের ভিডিওটি  সিরিয়ার দামেস্কের জামালকা শহরে দেশটির তৎকালীন সরকারি বাহিনীর হাতে নিহত এক ব্যক্তির জানাজা মিছিলের। তৎকালীন সরকার বিরোধীরা যখন মৃতদেহটি নিয়ে মিছিল করেছিল তখন মিছিলকে লক্ষ্য করে বোমা হামলা করা হয়। এছাড়াও রিপোর্টটিতে সিরিয়ার তৎকালীন বিরোধীদলীয় সদস্যদের বরাত দিয়ে উল্লেখ করা হয়, বিস্ফোরণটি একটি গাড়ি বোমা হামলার ছিল। যে ব্যক্তির জানাজা ছিল তাকে সিরিয়ার তৎকালীন বিপ্লবী পতাকায় মোড়ানো হয়েছিল। পাশাপাশি উপস্থিত জনতা বিপ্লবী পতাকা উড়িয়ে স্বাধীনতার জন্য স্লোগান দিচ্ছিল।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে সিরিয়ার জাতীয় পতাকা ভিন্ন ছিল। ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর বাশার আল-আসাদের পতনের পরে সিরিয়ার বিপ্লবী পতাকাই বর্তমানে সেখানকার জাতীয় পতাকা। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে মিছিলের মধ্যে সিরিয়ার বর্তমান জাতীয় পতাকা দেখতে পাওয়া যায়। 

যেহেতু, আলোচিত ঘটনাটি ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সম্পর্কিত নয়, সঙ্গত কারণে ফ্যাক্টওয়াচ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির উপর ভিত্তি করে করা দাবিটিকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

Claim:
সম্প্রতি ফেসবুকে মৃতদেহ নিয়ে একটি মিছিলের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে। ক্যাপশনে দাবি করা হচ্ছে, ভিডিওটি একজন ফিলিস্তিনি শহীদের জানাজা নিয়ে মিছিলের সময়কার। আরও বলা হয়, মৃতদেহের ভিতরে ইসরায়েলি বাহিনী একটি বোমা রাখে, যা পরবর্তীতে বিস্ফোরিত হয়।

Claimed By:
Facebook users

Rating:
False

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে

এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh