সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজের মিছিলের একটি ভিডিও সম্প্রতি ফেসবুকে শেয়ার করা হচ্ছে। ভিডিওটির ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রতিবাদে সংসদ ঘেরাও করে সোহেল তাজের হুঁশিয়ারি। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, ভিডিওটি ২০২৩ সালের। মিছিলের অডিও অংশটি আলাদাভাবে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। সে সময় দেশে আওয়ামী লীগের সরকার ছিল, ফলে ক্যাপশনটি ভিত্তিহীন।
প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে ২০২৩ সালের ৩ নভেম্বরে প্রকাশিত ‘প্রথম আলো’র একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১০ এপ্রিলকে ‘প্রজাতন্ত্র দিবস’ ঘোষণা এবং ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবসকে জাতীয় শোকদিবস ঘোষণাসহ তিন দফা দাবিতে গণভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সোহেল তাজ। জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে থেকে পদযাত্রা নিয়ে গণভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন তিনি। অবস্থান কর্মসূচিতে সোহেল তাজের বড় বোন শারমিন আহমেদসহ কয়েকজন অংশ নেন। পরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে স্মারকলিপি দিয়ে কর্মসূচি শেষ করেন।
এই প্রতিবেদনের সঙ্গে একটি স্থির ছবি যুক্ত আছে, যেটিতে প্ল্যাকার্ড এবং সোহেল তাজের পোশাক আলোচিত মিছিলের ভিডিওর সঙ্গে মেলে।
পরবর্তী অনুসন্ধানে ইউটিউবে চ্যানেল আইয়ের একটি ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ২০২৩ সালের ২ নভেম্বর আপলোড করা এই প্রতিবেদনের শিরোনাম- গণভবনের সামনে তিন দফা দাবি নিয়ে সোহেল তাজের অবস্থান। এই ভিডিওতে মিছিলের স্লোগান ও সোহেল তাজের বক্তব্য রয়েছে। প্ল্যাকার্ডগুলোতেও তিন দফার দাবিগুলো লেখা রয়েছে। মিছিলের ভিডিও পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এটির সঙ্গে আলোচ্য ভিডিওটির মিল রয়েছে, তবে স্লোগান ভিন্ন। ‘আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ মানি না মানবো না’ এই স্লোগান নেই। অর্থাৎ ফেসবুকে ছড়ানো ভিডিওতে স্লোগানের অংশটি আলাদাভাবে জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দলটি নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি অবান্তর। দলটি নিষিদ্ধের প্রক্রিয়া শুরু হয় ক্ষমতা থেকে উৎখাতের পরে ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে।
ফলে আলোচিত মিছিলটির স্লোগান এডিটেড এবং ৩ বছর আগের মিছিলটি ছিল ভিন্ন দাবিতে। কাজেই সঙ্গত কারণে, ভিত্তিহীন ক্যাপশনের ফেসবুক পোস্টগুলোকে মিথ্যা সাব্যস্ত করছে ফ্যাক্টওয়াচ।
Claim: সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজের মিছিলের একটি ভিডিও সম্প্রতি ফেসবুকে শেয়ার করা হচ্ছে। ভিডিওটির ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রতিবাদে সংসদ ঘেরাও করে সোহেল তাজের হুঁশিয়ারি।
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh