ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান নিয়ে রাহুল গান্ধীর নামে ভিত্তিহীন মন্তব্য

36
ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান নিয়ে রাহুল গান্ধীর নামে ভিত্তিহীন মন্তব্য
ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান নিয়ে রাহুল গান্ধীর নামে ভিত্তিহীন মন্তব্য

"শেখ হাসিনা আমার মাতৃতুল্যা, ভারতে থাকতে তার কোনো স্ট্যাটাস প্রয়োজন নেই" এই বক্তব্য ভারতের কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী দিয়েছেন বলে সম্প্রতি ফেসবুকে প্রচার করা হচ্ছে। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে, দেশের মূলধারার সংবাদমাধ্যমে অথবা ভারতের সংবাদমাধ্যমে রাহুল গান্ধীর এ ধরনের বক্তব্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। যেসব সূত্রে বক্তব্যটি ছড়াচ্ছে, সেখানে এই বক্তব্য তিনি কবে, কোথায় ও কোন প্রেক্ষিতে দিয়েছেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য নেই।   

 

এ ধরনের পোস্টগুলোর কয়েকটি এখানে, এখানে, এখানে, ও এখানে। 

রাহুল গান্ধী ভারতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নেতা। বাংলাদেশ ও শেখ হাসিনা ইস্যুতে তিনি কোনো বক্তব্য দিলে দুই দেশের সংবাদমাধ্যমেই তা সংবাদ আকারে প্রকাশিত হতো। প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে নির্দিষ্ট এই বক্তব্যটি কোনো প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, তার সামাজিক মাধ্যমের আইডি অনুসন্ধান করেও এ ধরনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

 ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর রাহুল গান্ধী বাংলাদেশ নিয়ে যেসব বক্তব্য দিয়েছেন সেগুলো অনুসন্ধান করে তার কিছু বক্তব্য পাওয়া যায়। 

অনুসন্ধানের শুরুতে ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ডেইলি স্টারের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এই প্রতিবেদনে তিনি বাংলাদেশের তৎকালীন রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা নিয়ে মন্তব্য করেন। যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় রাহুল গান্ধী মার্কিন আইনপ্রণেতাদের একটি দলের সাথে বৈঠকে মিলিত হন, যেখানে বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এই বৈঠকে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান করা নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। 

পরবর্তী অনুসন্ধানে কলকাতার বাংলাদেশ দূতাবাসের ডেপুটি হাই কমিশনার তারিক চয়নের ২০২৫ সালের ১৩ মে’র  ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা যায়, 

“শেখ হাসিনার বিষয়ে নাক গলাতে চান না রাহুল গান্ধী। গত মাসে (২০২৫ সালের এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়েছিলেন রাহুল। ২১ এপ্রিল সেখানকার ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি নিজের এমন অবস্থান তুলে ধরেন।

ওই অনুষ্ঠানে মাহির নামের একজন রাহুলকে বলেনঃ আমি মাহির বলছি। আমি আজ আপনাকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে চাই৷ দুটি বিষয় নিয়ে। প্রথমত, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর এখন ভারতে অবস্থান করছেন।

রাহুলঃ আপনি কি বাংলাদেশ থেকে বলছেন?

মাহিরঃ আমার বাবা-মা বাংলাদেশের। সুতরাং, হ্যাঁ। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বিক্ষোভ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে তিনি (হাসিনা) পালিয়ে যাওয়ার পর ভারতের কি উচিত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়া যাতে প্রতিবাদ দমনের জন্য তার বিচার করা যায়?

রাহুল তখন হেসে বলেন, আমি এই বিষয়ে নাক গলাবো না।

অন্য এক বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে রাহুল ফের বলেন, “শেখ হাসিনার বিষয়ে আমি আসলে কোনও মন্তব্য করবো না। কারণ, আমি এ বিষয় নিয়ে নাক গলাবো না।”

এই পোস্টের সূত্র ধরে ওই সময় বাংলাদেশের মূলধারার সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করে। 

কাজেই গত বছরের এপ্রিল পর্যন্ত শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান বিষয়ে রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক অবস্থান ছিল, কোনো মন্তব্য না করা। এরপর সংবাদমাধ্যমে শেখ হাসিনা বিষয়ে তার রাজনৈতিক বক্তব্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। 

অন্যদিকে, দ্য ওয়াল নিউজ ডট কম নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ফটোকার্ড আকারে রাহুল গান্ধীর উক্তিটি প্রচার করা হয়। কার্ডটিতে প্রতিবেদন আকারে যেসব তথ্য রয়েছে, সেখানে কোথাও এই মন্তব্য কবে, কোথায় করেছেন, তা বলা নেই। 

(শেখ হাসিনা আমার মাতৃসম, ভারতে থাকতে তাঁর কোনো স্ট্যাটাস লাগে না:রাহুল গান্ধী!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:-

ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা এবং কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি সংহতি প্রকাশ করে এক আবেগঘন ও জোরালো বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক স্ট্যাটাস বা পদের প্রয়োজন নেই, কারণ তিনি তাকে ‘মাতৃসম’ বলে শ্রদ্ধা করেন।

সম্প্রতি ভারতের রাজনৈতিক মহলে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং শেখ হাসিনার অবস্থান নিয়ে আলোচনার সময় রাহুল গান্ধী এই মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “শেখ হাসিনার বিষয়ে ভারতের সকল রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঐক্যমত আছে। সারা ভারতবর্ষ শেখ হাসিনার পাশে আছে।”

রাহুল গান্ধী আরও উল্লেখ করেন, ভারতের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু হিসেবে শেখ হাসিনাকে সম্মান জানানো এবং তাঁর পাশে থাকা ভারতের নৈতিক দায়িত্ব। তাঁর মতে, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের যে উচ্চতা শেখ হাসিনা নিশ্চিত করেছিলেন, তা ভারত সবসময় কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করে।

উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এর পর থেকেই তাঁর ভারতে থাকা এবং তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছিল। ভারতের সরকারি এবং বিরোধী দল—উভয় পক্ষই জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এবং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের খাতিরে শেখ হাসিনার পাশে থাকার বিষয়ে একমত হয়েছে। রাহুল গান্ধীর এই বক্তব্যের পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হলো যে, দিল্লির রাজনৈতিক অঙ্গনে শেখ হাসিনার গ্রহণযোগ্যতা এখনো অটুট।)

এছাড়া, কার্ডটিতে ‘বিস্তারিত কমেন্টে’ লিখে একটি কিউআর কোড দেওয়া, এই কোডটিতে স্ক্যান করে কোনো প্রতিবেদন অথবা কোনো রেফারেন্স পাওয়া যায়নি।  

‘আজকের কণ্ঠ’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকেও রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্য ফটোকার্ড আকারে প্রচার করা হচ্ছে। এখানেও তথ্যসূত্র বলে কিছু নেই। অর্থাৎ রাহুল গান্ধী কবে, কখন, কোথায় এই মন্তব্য করেছেন, সে বিষয়ে কিছুই নেই।    

ফলে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান বিষয়ে রাহুল গান্ধীর মন্তব্যটি কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র ছাড়াই ফেসবুকে প্রচার করা হচ্ছে। সঙ্গত কারণে এ ধরনের ফেসবুক পোস্টগুলোকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে ফ্যাক্টওয়াচ। 

Claim:
"শেখ হাসিনা আমার মাতৃতুল্যা, ভারতে থাকতে তার কোনো স্ট্যাটাস প্রয়োজন নেই" এই বক্তব্য ভারতের কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী দিয়েছেন বলে সম্প্রতি ফেসবুকে প্রচার করা হচ্ছে।

Claimed By:
Facebook Users

Rating:
False

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে

এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh