সম্প্রতি ফেসবুকে একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিতে একটি নির্বাচনী প্রচারণার ব্যানার রয়েছে। সেখানে সংসদ সদস্য আমিনুল হকের সাথে ব্যানারে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যায় অভিযুক্ত সোহেলের ছবি রয়েছে। এই ছবিসহ পোস্টগুলোতে দাবি করা হচ্ছে, অভিযুক্ত সোহেল বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত রয়েছেন। তবে ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধান বলছে, ভাইরাল ব্যানারটি এডিট করে বানানো হয়েছে।
ছবিতে থাকা ব্যানারে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের নির্বাচনী প্রচারণার পোস্টারের বামে রামিসা হত্যায় অভিযুক্ত জাকির হোসেন সোহেলের ছবি রয়েছে। ছবির নিচে তার নাম উল্লেখ রয়েছে। দাবিকৃত ছবিটিতে আরও দেখা যায়, একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে ব্যানারটি যুক্ত রয়েছে। এর পিছনে রয়েছে একটি নীল রঙের বাড়ি এবং দূরে সবুজ গাছের পাতা। এছাড়া ব্যানারের নিচে অন্য একটি সাইনবোর্ডে নীল রঙের তীর চিহ্ন দেখা যায়।
অনুসন্ধানের শুরুতে ছবিটি ইন্টারনেটে খোঁজা হয়। রিভার্স ইমেজ সার্চে ‘ঢাকা মেইল’ নামের একটি সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬-এ প্রকাশিত “তফসিলের ৭২ ঘণ্টা পরও ঝুলছে প্রার্থীদের ব্যানার-ফেস্টুন” শিরোনামের একটি প্রতিবেদনে থাকা ছবির সাথে ভাইরাল ছবির মিল পাওয়া যায়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী তফসিল ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রার্থীদের ব্যানার পোস্টার অপসারণ করার নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তবে, ৭২ ঘণ্টার পরও প্রার্থী আমিনুলের পোস্টার ও ব্যানার বিভিন্ন মোড়ে এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ঝুলতে দেখা গেছে। দেয়াল, পিলার, বিদ্যুতের খুঁটি ও খোলা স্থানে থাকা এসব প্রচারসামগ্রী এখনো অপসারণ করা হয়নি।
প্রতিবেদনে থাকা ছবির সাথে ভাইরাল ছবির পরিবেশের মিল পাওয়া যায়। এই ছবির মতো প্রতিবেদনে থাকা ছবিতে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে ব্যানার লাগানো। পিছনে নীল রঙের বাড়ি ও পাশে সবুজ পাতা রয়েছে। তবে মূল ছবিতে ব্যানারে থাকা ব্যক্তির নাম মোঃ দুলাল দেওয়ান। মূল ছবির ব্যক্তির সাথে অভিযুক্ত সোহেলের কোনো মিল নেই।
অর্থাৎ, আমিনুল হকের নির্বাচনী ব্যানারকে এডিট করে হত্যায় অভিযুক্ত সোহেলের ছবি ও নাম যুক্ত করা হয়েছে। তাই দাবিকৃত পোস্টগুলোকে ফ্যাক্টওয়াচ “বিকৃত” হিসাবে চিহ্নিত করছে।
Claim: সংসদ সদস্য আমিনুল হকের সাথে ব্যানারে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যায় অভিযুক্ত সোহেলের ছবি রয়েছে
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh