ইনসার্টে বিচ্ছিন্ন হাতের ছবিসহ হাত ব্যান্ডেজ করা আহত এক ব্যক্তির ছবি সম্প্রতি ফেসবুকে শেয়ার করা হচ্ছে। ক্যাপশনে দাবি করা হচ্ছে, নোয়াখালীর দাগনভূঞাতে ছাত্রলীগ কর্মীর হাত কেটে নিয়েছে সন্ত্রাসীরা। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, গত ৬ ডিসেম্বর নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় ট্রাকের ধাক্কায় মো. বিজয় (২১) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহীর কাঁধ থেকে ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
অনুসন্ধানের শুরুতে ফেসবুকে ছড়ানো ছবিটির রিভার্স ইমেজ সার্চে ফেসবুকে একটি পোস্ট পাওয়া যায়। গত ৭ ডিসেম্বরের এই পোস্ট থেকে জানা যায়, সোনাইমুড়ীতে ট্রাকের ধাক্কায় তরুণের দেহ থেকে হাত বিচ্ছিন্ন। এই পোস্টটির সঙ্গে আহত ব্যক্তির ছবি যুক্ত রয়েছে। আলোচিত ছবিটির ব্যক্তির ছবির সঙ্গে এই ছবিটির মিল রয়েছে।
পরবর্তী অনুসন্ধানে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে ‘সংবাদ’র একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ৭ ডিসেম্বর প্রকাশিত এই প্রতিবেদনের শিরোনামঃ সোনাইমুড়ীতে ট্রাকের ধাক্কায় তরুণের হাত বিচ্ছিন্ন। এই প্রতিবেদনের সঙ্গে আহত ব্যক্তির ছবি যুক্ত রয়েছে। আলোচ্য ছবিটির সঙ্গে এই ছবির মিল রয়েছে।
পরবর্তীতে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে ডেইলি স্টার বাংলার একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এ বছরের ৬ ডিসেম্বরে প্রকাশিত এই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহীর কাঁধ থেকে ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া ব্যক্তির নাম মো. বিজয় (২১)। নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের আরেক আরোহী মাহমুদুল হাসান (২২) আহত হয়েছেন। সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেনের বরাতে এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্রুতগতির একটি ট্রাক বিপরীত দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলের দুই আরোহী সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। বিজয়ের ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয়রা সড়কে পড়ে থাকা হাতসহ তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
সবদিক বিবেচনায় এটি স্পষ্ট যে, হাত বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনাটি একটি সড়ক দুর্ঘটনার। ফলে সঙ্গত কারণে, বানোয়াট ক্যাপশনের পোস্টগুলোকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে ফ্যাক্টওয়াচ।
Claim: ইনসার্টে বিচ্ছিন্ন হাতের ছবিসহ হাত ব্যান্ডেজ করা আহত এক ব্যক্তির ছবি সম্প্রতি ফেসবুকে শেয়ার করা হচ্ছে। ক্যাপশনে দাবি করা হচ্ছে, নোয়াখালীর দাগনভূঞাতে ছাত্রলীগ কর্মীর হাত কেটে নিয়েছে সন্ত্রাসীরা।
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh