কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদ গতকাল সোমবার মারা যান। তার মৃত্যু ঘিরে ফেসবুকে একটি তথ্য শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, 'বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকাকে তার নিজের দেশে মরতে দেয়নি এই তোফায়েল এবং তার আওয়ামী লীগ। তাকে শহীদ মিনার এবং সংসদ ভবনে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে দেওয়া হয় নাই।' ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এবং ঢাকার সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা ২০১৯ সালের ৪ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুর পর তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয় এবং ৭ নভেম্বর দুপুরে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য খোকার মরদেহ শহীদ মিনারে আনা হয়। দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত তার মরদেহ শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে রাখা হয়। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সাদেক হোসেন খোকার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনে একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সাদেক হোসেন খোকার মৃত্যু নিয়ে ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, ওইদিন শহীদ মিনারে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকাকে সর্বস্তরের মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানান। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারাও এই মুক্তিযোদ্ধার প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য মুক্তিযোদ্ধা খোকার মরদেহ শহীদ মিনারে আনা হয়। দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে তাকে শ্রদ্ধা জানাতে নামে মানুষের ঢল।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, খোকার মরদেহ শহীদ মিনারে নেওয়ার আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবেদনটিতে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানো ও সংসদ ভবন এলাকায় জানাজা পড়ানোর ছবিও যুক্ত করা হয়েছে।
২০১৯ সালের ৭ নভেম্বর প্রথম আলোয় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকেও একই তথ্য জানা যায়।
এ ছাড়া বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বর দেওয়া একটি পোস্টেও শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সাদেক হোসেন খোকার মরদেহ শহীদ মিনারে নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। এতে বেশ কিছু ছবিও যুক্ত করা হয়।
পোস্টটিতে উল্লেখ করা হয়, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকাকে শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নেমেছে। বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকসহ সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। এর আগে বেলা সোয়া ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে খোকার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। পরে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।’
এসব তথ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়, সাদেক হোসেন খোকার মৃত্যুর পর দেশে শহিদ মিনার এবং সংসদ ভবনে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে না দেওয়ার দাবিটি সঠিক নয়।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের মে মাসে ক্যানসার চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভ্রমণ ভিসায় স্ত্রীসহ যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন সাদেক হোসেন খোকা। ২০১৭ সালের শেষদিকে তার এবং স্ত্রী ইসমত হোসেনের পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে পাসপোর্ট নবায়ন বা নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন। বিবিসি বাংলার একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সাদেক হোসেন খোকার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলেও সরকার তা নবায়ন করেনি। ওই সময়ের একই সংবাদমাধ্যমের আরেকটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়,পাসপোর্ট নবায়ন না করায় সাদেক হোসেন খোকার মৃত্যুর পর ট্রাভেল ডকুমেন্টের মাধ্যমে নিউইয়র্ক থেকে মৃতদেহ ঢাকায় আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়।
সার্বিক বিবেচনায় ফ্যাক্টওয়াচ এই দাবিটিকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে।
Claim: বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকাকে তার নিজের দেশে মরতে দেয়নি এই তোফায়েল এবং তার আওয়ামী লীগ।তাকে শহিদ মিনার এবং সংসদ ভবনে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে দেওয়া হয় নাই।
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh