ফেসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, গুজব ছড়ানোর জন্য ক্ষমা চাইলেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। ভিডিওটিতে তিনি বলছেন, 'প্রকাশ্যে ক্ষমা চাই। একটা কলঙ্কজনক অধ্যায় আমরা রচনা করেছি।' তবে ফ্যাক্টওয়াচের যাচাইয়ে দেখা যায়, ভিডিওটি সাদিক কায়েমের একটি খণ্ডিত বক্তব্যের অংশ। সম্পূর্ণ বক্তব্যে সাদিক কায়েম মূলত ছাত্রদল নেতা আমানুল্লাহ আমানকে উদ্দেশ্য করে এই মন্তব্য করেছেন।
ভিডিওটি রিভার্স ইমেজ সার্চে স্টার নিউজের ইউটিউব চ্যানেলে সাদিক কায়েমের পুরো বক্তব্যটি পাওয়া যায়। গতকাল মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) এটি আপলোড করা হয়।
ভিডিওটিতে সাদিক কায়েম সম্প্রতি শাহবাগ থানায় ঘটা ছাত্রদল-শিবিরের হাতাহাতির ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি আশা করেছিলাম, আমাদের শ্রদ্ধেয় আমান ভাই জাতির কাছে হাত তুলে বলবে আমরা এই ঘটনার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাই। আমরা একটা কলঙ্কজনক অধ্যায় আমরা রচনা করেছি। আমরা আর এই ধরনের কাজ মব তৈরি করে করবো না।’
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর শাহবাগ থানায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ অনেকেই আহত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার মেয়ে জাইমা রহমানকে জড়িয়ে তৈরি একটি বিতর্কিত স্ক্রিনশট ঘিরে ছাত্রদল ও শিবির কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে খবর পেয়ে থানায় আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কয়েকজন সাংবাদিক, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির ও ডাকসুর কয়েকজন প্রতিনিধি। পরে বিষয়টি নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
সাদিক কায়েম মূলত আমানুল্লাহ আমানকে ক্ষমা চাইতে বলেন। অর্থাৎ সাদিক কায়েম গুজব ছড়ানোর জন্য ক্ষমা চাইলেন দাবিতে প্রচারিত বক্তব্যটি খণ্ডিত। তাই ফ্যাক্টওয়াচ এই ভিডিওগুলোকে বিভ্রান্তিকর হিসেবে চিহ্নিত করছে।
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh