সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরে আসিফ মাহমুদের সম্পৃক্ততার ভিত্তিহীন দাবি

40
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরে আসিফ মাহমুদের সম্পৃক্ততার ভিত্তিহীন দাবি
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরে আসিফ মাহমুদের সম্পৃক্ততার ভিত্তিহীন দাবি

সম্প্রতি ফেসবুকে ‘দৈনিক মানবজমিন’ পত্রিকার সংবাদ কাটআউট দাবিতে একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ছে।সেখানে উল্লেখ করা হচ্ছে যে, আসিফ মাহমুদের স্ত্রীর সঙ্গে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল এবং এটি জানতে পেরে আসিফ মাহমুদের আদেশে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা চালানো হয়েছে। তবে ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই দাবিটি ভিত্তিহীন। মানবজমিনে এমন কোনো খবর প্রকাশিত হয়নি, মূলত ভুয়া নিউজ কার্ডের মাধ্যমে এটি ছড়ানো হচ্ছে। বাস্তবে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার কারণ পরকীয়া বা আসিফ মাহমুদ সংক্রান্ত কিছু ছিল না, বরং জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে ছিল।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে। 

ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানঃ 

মানবজমিন আসলেই এমন কোনো সংবাদ প্রকাশ করেছে কি না এ ব্যাপারে জানার জন্য শুরুতেই তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট এবং ই-পেপারে অনুসন্ধান করা হয়। অনুসন্ধানে দৈনিক মানবজমিন’-এর ২০২৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ই-পেপার পাওয়া যায়। সেটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রথম পাতার প্রধান শিরোনাম ছিল—“কী ঘটেছিল সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে”। মানবজমিনের এই প্রকৃত সংবাদের সাব-হেডিংয়ে লেখা ছিল “জমি নিয়ে বিরোধ, রাতের আঁধারে হামলা-ভাঙচুর, গুলি, লুটপাট, তাণ্ডব”। মূল পত্রিকায় প্রকাশিত আসল সংবাদে পরকীয়া কিংবা আসিফ মাহমুদের কোনো সম্পৃক্ততার তথ্য ছিল না।

এ ব্যাপারে ‘প্রথম আলো’-তে প্রকাশিত বিস্তারিত রিপোর্ট অনুযায়ী, ঢাকার ইসিবি চত্বরের নিউগিনি প্রপার্টিজে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার মূল কারণ ছিল একটি ৩৫ কাঠা জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ ও অস্ত্রধারীদের তাণ্ডব। সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বরাত দিয়ে উল্লেখ করা হয় যে, জমি সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের কারণেই এ সহিংসতা ঘটেছিল। এই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করেছে।

এরপরে মানবজমিনের আসল ই-পেপারের সাথে ভাইরাল ছবিটির তুলনা করলে বেশ কিছু স্পষ্ট অসঙ্গতি ধরা পড়ে। আসল সংবাদপত্রের ছবিতে বাঁ পাশে লোগো এবং স্লোগান “কারও তাঁবেদারি করে না” দেখা যায়। এর উপরে তারিখ, দাম, ওয়েবসাইটের ঠিকানা ইত্যাদি দেখা যায়। এছাড়াও রয়েছে একাধিক খবর ও বিজ্ঞাপন । কিন্তু ভাইরাল ছবিটিতে ওপরে রয়েছে আড়াআড়ি লোগো এবং স্লোগান (“সত্যের পক্ষে, মানুষের পাশে”)। সাথে জাতীয়, রাজনীতির মতো ওয়েবসাইটের নেভিগেশন বার বসানো রয়েছে। এছাড়া ভাইরাল ছবিতে পত্রিকার তারিখ ঢেকে রাখা হয়েছে। আবার মানবজমিনের আসল ওয়েবসাইটের ঠিকানা হচ্ছে (mzamin.com) কিন্তু ভাইরাল ছবিতে ঠিকানা (manabzamin.com) ব্যবহার করা হয়েছে। আসল পত্রিকায় “কী ঘটেছিল সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে” শিরোনামে জমি বিরোধের খবর ছিল। কিন্তু ভাইরাল ছবিতে “আসিফ মাহমুদের স্ত্রীর বিষয়ে পরকীয়াই কাল হলো সালমান মুক্তাদিরের” লিখে ভিত্তিহীন গল্প ও নামহীন “সাবেক পিএস”-এর সূত্র বসানো হয়েছে।

তাই এই অসঙ্গতিগুলো বিবেচনা করে ফেসবুক থেকে এই ছবি নিয়ে এআই ডিটেকশন টুল ‘ZeroGpt’ এবং ‘Hive Moderation’ দিয়ে যাচাই করা হয়। টুলগুলো বিভিন্ন মডেলের সাহায্যে বিশ্লেষণ করে জানায়, ফটোকার্ডটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সুতরাং, ফেসবুকে প্রচারিত সংবাদ কাটআউটটি মানবজমিন পত্রিকার কোনো প্রকৃত প্রতিবেদন নয়। পাশাপাশি সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার সাথে আসিফ মাহমুদ বা তার স্ত্রীর সম্পৃক্ত থাকার তথ্য নির্ভরযোগ্য কোনো মাধ্যম থেকে পাওয়া যায়নি। সঙ্গত কারণে ফ্যাক্টওয়াচ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এই ছবিগুলোকে বিকৃত হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

Claim:
আসিফ মাহমুদের স্ত্রীর সঙ্গে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল এবং এটি জানতে পেরে আসিফ মাহমুদের আদেশে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা চালানো হয়েছে।

Claimed By:
Facebook users

Rating:
False

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।

এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh