সম্প্রতি সমকালের নামে একটি ফটোকার্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ফটোকার্ডটিতে লেখা হয়েছে, “মৃত্যুর দুই দিন পর এসএসসির ফল, শিহাব পেল গোল্ডেন জিপিএ-৫”। এতে এসএসসি পরীক্ষার্থী শিহাবের ছবির পাশাপাশি শহীদ মিনারে ঝুলন্ত এক কিশোরের মরদেহের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। ফটোকার্ডটিতে দাবি করা হচ্ছে ছেলেটি ছাত্রলীগের। তবে ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সমকালের নামে প্রচারিত এই ফটোকার্ডটি ভুয়া।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে সমকালের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত “মৃত্যুর দুই দিন পর এসএসসির ফল, শিহাব পেল গোল্ডেন জিপিএ-৫” শিরোনামের মূল প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনের সঙ্গে প্রকাশিত আসল ফটোকার্ডে শিহাবের একটি সাদাকালো ছবি রয়েছে। সেখানে শহীদ মিনারে ঝুলন্ত কোনো ব্যক্তির ছবি নেই। জানা যায়, বিয়ের অনুষ্ঠানের ডেকোরেশনের জন্য টানানো বৈদ্যুতিক তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় সে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সমকালের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিহাবের মৃত্যুর দুই দিন পর তার এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয় এবং তিনি গোল্ডেন জিপিএ-৫ পান। অর্থাৎ, “মৃত্যুর দুই দিন পর এসএসসির ফল” এই তথ্যটি সমকালের প্রকৃত প্রতিবেদন থেকেই নেওয়া হয়েছে।
তবে ভাইরাল ফটোকার্ডের ক্যাপশনে বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে দাবি করা হয়েছে, ‘ছাত্রলীগের সেই শিহাবকে হত্যার ২দিন পরই এসএসসির রেজাল্ট প্রকাশ। সে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।’ অর্থাৎ, ফটোকার্ডটি দেখে বোঝানো হচ্ছে, শহীদ মিনারে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া কিশোরই সমকালের প্রতিবেদনে উল্লেখিত শিহাব এবং তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন।
এদিকে, ভাইরাল ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ঝুলন্ত কিশোরের ছবিটি মানিকগঞ্জের জাগীর এলাকার একটি ভিন্ন ঘটনার। ৯ আগস্ট প্রকাশিত ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে বলা হয়, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার জাগীর মেঘশিমুল এলাকায় একটি শহীদ মিনার থেকে শিহাব হোসেন (১৫) নামে এক কিশোরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি জাগীর ইউনিয়নের সেলিম হোসেনের ছেলে এবং একটি মাছের দোকানে কাজ করতেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
একই ঘটনার বিষয়ে প্রথম আলো একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে মানিকগঞ্জের জাগীর এলাকায় শহীদ মিনার থেকে শিহাব হোসেন নামে এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য জানানো হয়।
অর্থাৎ, একই নামের দুই ব্যক্তির ঘটনাকে এক করে উপস্থাপন করা হয়েছে। সমকালের প্রতিবেদনে উল্লেখিত শিহাব এবং মানিকগঞ্জের শহীদ মিনারে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া শিহাব একই ব্যক্তি নন। সমকালের আসল ফটোকার্ডে থাকা শিহাবের ছবির সঙ্গে ভাইরাল ফটোকার্ডে যুক্ত ঝুলন্ত কিশোরের ছবি পাশাপাশি তুলনা করলেও দেখা যায়, আসল ফটোকার্ডে ঝুলন্ত কিশোরের ছবিটি ছিল না।
ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ অনুযায়ী, সমকালের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি আসল নয়। সমকালের প্রকৃত প্রতিবেদনে শিহাবের মৃত্যুর দুই দিন পর এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ এবং তার গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়ার তথ্য রয়েছে। কিন্তু ওই প্রতিবেদনের আসল ফটোকার্ডে শহীদ মিনারে ঝুলন্ত কিশোরের ছবিটি ছিল না। ভাইরাল ফটোকার্ডে যুক্ত ঝুলন্ত কিশোরের ছবিটি মানিকগঞ্জে ঘটে যাওয়া একটি পৃথক ঘটনার। ওই ঘটনার সংবাদে পাওয়া শিহাব এবং সমকালের প্রতিবেদনে উল্লেখিত শিহাব একই ব্যক্তি এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একইসঙ্গে ঝুলন্ত কিশোরকে “ছাত্রলীগের সেই শিহাব” এবং তাকে “হত্যা” করা হয়েছে বলে যে দাবি করা হয়েছে, তারও কোনো প্রমাণ মেলেনি।
তাই ফ্যাক্টওয়াচ ফটোকার্ডটিকে ‘মিথ্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করছে।
Claim: সম্প্রতি সমকালের নামে একটি ফটোকার্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ফটোকার্ডটিতে লেখা হয়েছে, “মৃত্যুর দুই দিন পর এসএসসির ফল, শিহাব পেল গোল্ডেন জিপিএ-৫”। এতে এসএসসি পরীক্ষার্থী শিহাবের ছবির পাশাপাশি শহীদ মিনারে ঝুলন্ত এক কিশোরের মরদেহের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। ফটোকার্ডটিতে দাবি করা হচ্ছে ছেলেটি ছাত্রলীগের।
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh