শাহরিয়ার জয়ের দোকান ভাঙচুরের দাবিতে পুরোনো ভিডিও ভাইরাল

90
শাহরিয়ার জয়ের দোকান ভাঙচুরের দাবিতে পুরোনো ভিডিও ভাইরাল
শাহরিয়ার জয়ের দোকান ভাঙচুরের দাবিতে পুরোনো ভিডিও ভাইরাল

কয়েকজন ব্যক্তি একটি দোকান-সদৃশ স্থানে চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করছে এ ধরণের একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, এটি অভিনেতা ও উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়ের দোকান। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, এটি গত এপ্রিলে কুমিল্লার কেএফসি ভাঙচুরের ভিডিও।

এ ধরণের পোস্টগুলোর কয়েকটি এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে। 

সম্প্রতি শেয়ার করা ফেসবুক পোস্টগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এগুলোর ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, “এই মুহূর্তে রাজধানীতে শাহরিয়ার নাজিম জয়ের রেষ্টুরেন্ট ভাঙচুর ও লুটপাট করছে সমন্বয়ক নামক সন্ত্রাসীরা। তার অপরাধ তিনি ১৫ই আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ফেসবুকে পোষ্ট করেছিলেন। ফ‍্যাসিস্ট ইউনূসের মবদের সারাদিনব্যাপী চলছে এমন নির্যাতন।” 

শাহরিয়ার নাজিমের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি অনুসন্ধান করে দেখা যায়, এ বছরের ১৫ আগস্ট তিনি ফেসবুক পোস্টে বলেছেন, “অতিরঞ্জিত কিছু না করেও যে একজন জাতীয় বীরকে স্মরণ করা যায় আপনারা তা শিখিয়ে দিতে পারতেন। ভবিষ্যতে সব দলের জন্যই তা উদাহরণ হয়ে থাকত।” 

ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধান   

ভিডিওটির বিভিন্ন কি-ফ্রেমের সাহায্যে রিভার্স ইমেজ সার্চে একটি ফেসবুক পোস্ট পাওয়া যায়। সাদী আহমেদ (Saadi Amned) নামের ফেসবুক আইডি থেকে এ বছরের  ৮ এপ্রিল দেওয়া এই ফেসবুক পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, “কুমিল্লা শহরে কেএফসিতে তে আজকে সন্ধ্যায় একটা গ্রুপ গিয়ে ভাঙ্গচুর শুরু করে। রেস্টুরেন্টটি ভাঙ্গচুরের এই ভিডিওটি প্রথম ফেসবুকে পোস্ট করে Sharif Al Islam নামে এক ছাত্রলীগ নেতা।” এই পোস্টের সঙ্গে আলোচ্য ভিডিওর ঐ দোকান ভাঙচুরের স্থিরছবিসহ শরীফ আল ইসলামের পোস্টের স্ক্রিনশট পাওয়া যায়।   

এই পোস্টের সূত্র ধরে শরীফ আল ইসলামের ( Sharif Al Islam) ফেসবুক অনুসন্ধান করে এ বছরের ৭ এপ্রিল পোস্ট করা একটি ভিডিও পাওয়া যায়। এই ভিডিওর সঙ্গে আজ (২০ আগস্ট) ফেসবুকে ছড়ানো ভিডিওটির অবিকল সাদৃশ্য রয়েছে। এই পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়েছে, “কুমিল্লায় KFC ভাঙচুর ও লুটপাট কথিত তৌহিদী জনতার।”  

এই ক্যাপশনের সূত্র ধরে দেখা যায়, গত এপ্রিলে এই ভিডিওটি সামাজিকমাধ্যমে বেশ ছড়িয়েছিল। 

পরবর্তী অনুসন্ধানে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে কালের কণ্ঠের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, “ইসরায়েলি পণ্যের অভিযোগে কুমিল্লা নগরীর কেএফসি রেস্টুরেন্টে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সিসি টিভির ফুটেজ দেখে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।  

গ্রেপ্তাররা হলেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার মাটিয়ারা এলাকার তোফায়েল আহমেদের ছেলে শাফায়াত (২৭), নগরীর কাপ্তানবাজার এলাকার জহিরুল ইসলামের ছেলে মো. জিহাদ (২১) এবং শাসনগাছা এলাকার শামসুল আলমের ছেলে মো.আবু বক্কর সিদ্দিক আসলাম (২১)।” এই প্রতিবেদনের সঙ্গে ভাঙচুরের শিকার দোকানের একটি ছবি যুক্ত রয়েছে, যা আলোচ্য ভিডিওর অংশ বলে প্রতীয়মান হয়। 

আরও অনুসন্ধানে ৮ এপ্রিল প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনগুলোর কয়েকটি দেখুন, এখানে, এখানে, এখানে। 

সবগুলো প্রতিবেদনেই ঐ সময়ে ইসরায়েলি পণ্য বয়কটের যে আওয়াজ উঠেছিল, তার অংশ হিসেবে কেএফসি, বাটাসহ বেশকিছু দোকানপাট ভাঙচুরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। 

এছাড়া, মূলধারার সংবাদমাধ্যমে শাহরিয়ার নাজিম জয়ের কোনো দোকান ভাঙচুরের খবর খুঁজে পাওয়া যায়নি।  

ফেসবুক পোস্ট এবং মূলধারার সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, ভিডিওটি শাহরিয়ার নাজিম জয়ের দোকান ভাঙচুরের নয়। সঙ্গত কারণে, এ ধরণের ভুয়া দাবিযুক্ত পোস্টগুলোকে ‘মিথ্যা’ সাব্যস্ত করা হলো।

Claim:
কয়েকজন ব্যক্তি একটি দোকান-সদৃশ স্থানে চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করছে এ ধরণের একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, এটি অভিনেতা ও উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়ের দোকান।

Claimed By:
Facebook Users

Rating:
False

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে

এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh