ফেসবুকে ১৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, 'শিবিরের সন্ত্রাসী তাণ্ডবের পোস্ট ফেসবুকে দেওয়ার জন্য নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী যুবদল কর্মী মাসুদকে রাতের বেলা ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায় শিবিরের নেতাকর্মীরা। তাকে শীতালক্ষ্যা নদীর পাড়ে নিয়ে নৌকার মধ্যে উঠিয়ে, সেই নৌকার মধ্যেই শুরু হয় রক্তাক্ত কু পি য়ে হত্যার দৃশ্য। এই নির্মম ঘটনায় জড়িত ছিল ছাত্রশিবিরের, সুজন, আলম ও সাব্বির।' ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই ভিডিওর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জে শিবিরের যুবদলকর্মীকে হত্যার দাবির কোনো সম্পর্ক নেই। এটি মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে শরীয়তপুরের কীর্তিনাশা নদী সংলগ্ন এলাকায় ডাকাতি করতে এসে পরবর্তীতে পালিয়ে যাওয়ার সময় ডাকাত দলকে স্থানীয়দের গণধোলাই দেওয়ার ভিডিও।
দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চে ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ সানোয়ার হোসাইন (Engr Md Sanowar Hossain) নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি পাওয়া যায়। গত ১ মার্চ পোস্ট করা ভিডিওটির ক্যাপশন থেকে জানা যায়, এটি শরীয়তপুরের ঘটনা, এখানে গণপিটুনিতে দুই ডাকাত নিহত হয়। এ সময় পাল্টা গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এই পোস্টের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জে শিবিরের যুবদলকর্মীকে হত্যার দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটির মিল রয়েছে।
একই রকম একটি ভিডিও পাওয়া যায় মুহাম্মদ আব্বাস (Md Abbas) নামের একটি অ্যাকাউন্টে। এখানেও ভিডিওটি গত ১ মার্চ পোস্ট করা হয়। এই পোস্টের ক্যাপশনেও এটি শরীয়তপুরের ঘটনা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব পোস্টের সূত্রে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে দৈনিক প্রথম আলোর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শরীয়তপুরের এই ঘটনাটি নিয়ে একটি ভিডিও প্রতিবেদন (আর্কাইভ) পাওয়া যায়। এই প্রতিবেদন থেকেও জানা যায়, ডাকাতি করে পালানোর সময় সন্দেহভাজন দুই ডাকাত গণপিটুনিতে নিহত হয়। ঘটনাটি ঘটেছে ২৮ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার রাতে, শরীয়তপুর সদর উপজেলার ডোমসার ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া এলাকায় কীর্তিনাশা নদীর তীর এলাকায়। এ সময় আরও ৫ ডাকাত আহত হয়।
একই ঘটনা নিয়ে অন্যান্য সংবাদমাধ্যমেও প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এমন কিছু প্রতিবেদন দেখুন-
পাশাপাশি ফেসবুক পোস্ট কেন্দ্র করে নারায়নগঞ্জে শিবির কর্তৃক কোনো যুবদল কর্মীকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যার মতো কোনো ঘটনার তথ্য নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম সূত্রে পাওয়া যায়নি।
একই ভিডিও পূর্বে ছড়িয়েছে ভিন্ন দাবিতে
ফ্যাক্টওয়াচের যাচাইয়ে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জে শিবিরের যুবদলকর্মীকে হত্যার দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ে ভিন্ন আরেকটি দাবিতেও ফেসবুকে প্রচারিত হয়েছে। ফেসবুকের বেশ কিছু পোস্টে ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করতে দেখা যায়, এটি ছাত্রলীগের এক কর্মীকে অপহরণ করে বুড়িগঙ্গায় নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে নদীতে লাশ ফেলে দেওয়ার ভিডিও।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে এমন দাবিরও কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া ফ্যাক্টওয়াচের যাচাইয়ে ইতিমধ্যেই দেখা গেছে, এটি শরীয়তপুরে ডাকাতদলকে গণপিটুনি দেওয়ার অন্তত ৭ মাসের পুরোনো ভিডিও।
এসব তথ্যের ভিত্তিতে ফ্যাক্টওয়াচ ফেসবুক পোস্ট কেন্দ্র করে নারায়নগঞ্জে শিবির কর্তৃক কোনো যুবদল কর্মীকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যার দাবিতে প্রচারিত পোস্টগুলোকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
Claim: 'শিবিরের সন্ত্রাসী তাণ্ডবের পোস্ট ফেসবুকে দেওয়ার জন্য নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী যুবদল কর্মী মাসুদকে রাতের বেলা ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায় শিবিরের নেতাকর্মীরা। তাকে শীতালক্ষ্যা নদীর পাড়ে নিয়ে নৌকার মধ্যে উঠিয়ে, সেই নৌকার মধ্যেই শুরু হয় রক্তাক্ত কু পি য়ে হত্যার দৃশ্য। এই নির্মম ঘটনায় জড়িত ছিল ছাত্রশিবিরের, সুজন, আলম ও সাব্বির।'
Claimed By: Facebook users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh