জাহাজটির নাম এমভি ইউয়ান জিয়াং ফা ঝাং (YUAN XIANG FA ZHAN)। শব্দটি চাইনিজ। এটি পানামার পতাকা বহন করছে। দুবাই থেকে যাত্রা শুরু করে করাচী হয়ে গত ১৩ নভেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছিল। পরের দিনই এটি ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এটি আবার দুবাই ফিরে যাত্রা শেষ করবে। জাহাজটির এই পুরো পরিক্রমায় একটা অংশ নতুন, ১৯৭১ এর পর এই প্রথম করাচী থেকে জলপথে কোন জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ল। এর আগে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে পণ্য আনা নেওয়া হতো কলম্বো ও সিঙ্গাপুরে ট্রান্সশীপমেন্টের মাধ্যমে। এটা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয় ভারত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লে। দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের খবরে বলা হয়, পূর্ব ও পশ্চিম প্রতিবেশীর মধ্যে এই নতুন সংযোগ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে তারা। এরপরই অনলাইনে গুজব ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে যে, করাচী থেকে জাহাজে করে অস্ত্র এসেছে। বাংলাদেশের মূলধারার প্রায় সব সংবাদ মাধ্যমে টেলিগ্রাফকে উদ্ধৃত করে ভারতের উদ্বেগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। শেষ পর্যন্ত ১৬ নভেম্বর জানা গেছে, ওই জাহাজে এসেছে শিল্পের কাঁচামাল ও ভোগ্যপণ্য। যথার্থ কারণে জাহাজের নাম সোয়াত এবং অস্ত্র আসার দাবিকে মিথ্যা হিসেবে সাব্যস্ত করছে ফ্যাক্টওয়াচ।
দ্য টেলিগ্রাফ ভারতের উদ্বেগ নিয়ে বিস্তারিত লিখেছে, তবে জাহাজ থেকে নামানো কন্টেইনারগুলিতে অস্ত্রই আছে এমন কিছু স্পষ্ট করে লেখে নি। ভারতের রিপাবলিক বাংলা করাচী থেকে আসা জাহাজটি নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, জাহাজটির নাম সোয়াত এবং জাহাজে করে অস্ত্র এসেছে। অন্য একটি প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, জাহাজে ৬৫ জন পাকিস্তানি এসেছে।
১৬ নভেম্বরের প্রথম আলোর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পাকিস্তান থেকে জাহাজটিতে করে সবচেয়ে বেশি আনা হয়েছে সোডিয়াম কার্বনেট বা সোডা অ্যাশ। টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয় এটি। মোট ১১৫ কনটেইনারে রয়েছে সোডা অ্যাশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আমদানি পণ্য হলো খনিজ পদার্থ ডলোমাইট। ডলোমাইট রয়েছে ৪৬ কনটেইনারে। মোট ৩৫ একক কনটেইনারে আনা হয়েছে চুনাপাথর। ম্যাগনেশিয়াম কার্বোনেট আনা হয়েছে ছয় কনটেইনারে। এ ছাড়া কাচশিল্পের কাঁচামাল ভাঙা কাচ আনা হয়েছে ১০ কনটেইনারে। শতভাগ রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পের কাঁচামাল কাপড়, রং ইত্যাদি রয়েছে ২৮ কনটেইনারে। একটি কনটেইনারে রয়েছে গাড়ির যন্ত্রাংশ। এসব পণ্য আমদানি করেছে আকিজ গ্লাস কারখানা, নাসির ফ্লোট গ্লাস, প্যাসিফিক জিনস, এক্স সিরামিকস, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।
Screenshot
বিবিসি নিউজ বাংলার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, “ফ্রেবিকস, চুনাপাথর, সোডা অ্যাশ, পেঁয়াজ, ম্যাগনেশিয়াম কার্বোনেট, ডলোমাইট আছে।”
এসব পণ্যের ওজন ছয় হাজার ৩৩৭ টন। এর মধ্যে ১১৫ কন্টেইনারে রয়েছে সোডা অ্যাশ। ডলোমাইট রয়েছে ৪৬টি কন্টেইনারে।
১৩ নভেম্বর জাহাজ ভিড়েছিল আর ১৬ নভেম্বর মাল খালাসের পর জানা গেছে কী আছে কন্টেনারগুলিতে। এই তিন দিনেই অস্ত্রের গুজব ছড়িয়ে পড়েছে।
এই পোস্টে জাহাজটির নাম বলা হচ্ছে সোয়াত। সোয়াত হলো সেই জাহাজের নাম, যেটি একাত্তরে অস্ত্র বোঝাই হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছিল।
জাহাজের নাম সোয়াত নয়, অস্ত্রও আসেনি। ভারতের টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনও সন্দেহপ্রসুত, ফলে ফ্যাক্টওয়াচের বিবেচনায় করাচি থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে আসা জাহাজের বিষয়ে প্রচারণাগুলোকে মিথ্যা সাব্যস্ত করা হলো।
No Factcheck schema data available.
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh