দুর্ঘটনায় শ্যামলী পরিবহনের বাস অথচ ভারতে প্রচার পরিকল্পিত হামলা

281
দুর্ঘটনায় শ্যামলী পরিবহনের বাস অথচ ভারতে প্রচার পরিকল্পিত হামলা
দুর্ঘটনায় শ্যামলী পরিবহনের বাস অথচ ভারতে প্রচার পরিকল্পিত হামলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিশ্বরোড এলাকায় ত্রিপুরা থেকে কলকাতাগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসে হামলা হয়েছে বলে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের একটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদটির মূল বক্তব্য এই যে- "একটি পণ্যবোঝাই ট্রাক বিশ্বরোডে ইচ্ছাকৃতভাবে বাসটিকে চাপা দেয়। আবার ভারতীয় যাত্রীদের সামনে স্থানীয় সাধারণ মানুষেরা ভারত বিরোধী নানা স্লোগান দিয়েছে এবং যাত্রীদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে।" যদিও অনুসন্ধান থেকে মিলেছে ভিন্ন ঘটনা। ঢাকা-আগরতলা-ঢাকা পথে চলাচলকারি শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস ওভারটেকজনিত কারণে এ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। দুর্ঘটনায় ফলে একজন অটোরিকশার চালক সামান্য আহত হয়েছেন। তবে বাস বা বাসের যাত্রীদের কোনপ্রকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়নি। ভারতীয় যাত্রীদের সঙ্গে স্থানীয় সাধারণ মানুষের কোনো বাক-বিতণ্ডাও হয়নি। তা সত্তেও এই ঘটনাটিকেই ভারতীয় গণমাধ্যমে ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।

ছড়িয়ে পড়া কিছু পোস্ট এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এবং এখানে

বিস্তারিত:

ভারতীয় গণমাধ্যমে “ত্রিপুরা থেকে কলকাতা যাওয়ার পথে বাংলাদেশে আক্রান্ত শ্যামলী পরিবহনের বাস, উদ্বিগ্ন রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হবার পরে মুহূর্তে তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভারতীয় রাজনীতিবিদ সুশান্ত চৌধুরী এ নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন। তার পোস্টের নিচে একজন মন্তব্য করেছেন, এখনই পদক্ষেপ নেবার সঠিক সময়। অন্য একজন মন্তব্য করেছেন, এই মুহূর্ত থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে সকল প্রকার সম্পর্ক ছিন্ন করা উচিত। ভারতের গণমাধ্যমে এমন সংবাদ প্রকাশের পরে বাংলাদেশি গণমাধ্যম বিষয়টি নিয়ে ফ্যাক্টচেক করেছে।

এ বিষয়ে উক্ত বাসের চালক মো. আসাদুল হকের মন্তব্য হলো, “একটি ট্রাক ওভারটেক করতে গেলে আমি ইমার্জেন্সি ব্রেক কষে দাঁড়িয়ে যাই। এ সময় পেছনে থাকা একটি অটোরিকশার বাসের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে অটোরিকশাটি বাসের পেছনে আটকে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে নেমে একটি রেকার আনার ব্যবস্থা করে অটোরিকশাকে সড়িয়ে নিই। বিষয়টি হাইওয়ে থানা পুলিশকেও অবহিত করা হয়। পুলিশ আমার ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির কাগজপত্র দেখে চলে যেতে বলে। দুর্ঘটনায় বাসের কোনো ক্ষতি হয়নি কিংবা যাত্রীরা আঘাত পাননি। বাসে থাকা ভারতীয় যাত্রীদের সঙ্গে স্থানীয় সাধারণ মানুষের কোনো বাক-বিতণ্ডা বা কোনো রকম ঝামেলা হয়নি। ভারতীয় গণমাধ্যমে বাসে হামলার খবর দেখে আমিও অবাক হয়েছি।”  

একই বিষয়ে জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবাল পরিষ্কার জানিয়েছেন, চারলেন সড়কের নির্মাণকাজ চলায় সড়কটির বিভিন্ন অংশ সরু অবস্থায় রয়েছে। সকালে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের  আগরতলা থেকে ছেড়ে আসা শ্যামলী পরিবহনের বাসটি দুপুরের দিকে চান্দিয়ারা নামক স্থানে দুর্ঘটনা কবলিত হয়। এতে একটি তিন চাকার ভ্যান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় শ্যামলী পরিবহন কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি ও ভ্যানচালক কর্তৃপক্ষের লোকজন আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করে বাসটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

অপরদিকে উক্ত এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মারগুব তৌহিদের বক্তব্য হলো, “তেমন বড় ধরনের কিছু হয়নি। দুর্ঘটনায় অটোরিকশাচালক সামান্য আহত হন। বাসের চালক ও অটোরিকশা চালকের মধ্যে সমঝোতা করে যে যার মতো চলে গেছেন”।

এখানে লক্ষণীয় যে, বাংলাদেশের গণমাধ্যম স্বয়ং বাসটির চালকের সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে। পুলিশের বক্তব্য নিয়েছে। স্থানীয় মানুষের বক্তব্য তুলে ধরেছে। সবকিছু আমলে নিলে এটিই দৃশ্যমান হয় যে, শ্যামলী পরিবহনের বাস নিছক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিলো।

ভারতীয় গণমাধ্যমে যেই দূর্ঘটনাকে “পরিকল্পিত আক্রমণ” দাবি করা হয়েছে, দাবিটির উৎস কি তা উল্লেখ করা হয়নি। এর বিপরীতে, আমাদের হাতে থাকা প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ বলছে এটি প্রকৃতপক্ষে সাধারণ একটি দূর্ঘটনা।

তাই ভারতীয় গণমাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবিকে “বিভ্রান্তিকর” চিহ্নিত করা হলো।

No Factcheck schema data available.

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে

এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh