রাজধানীর মিরপুর ১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার নামের স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রটি গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটি ঘিরে সময় টিভির নাম ও লোগোযুক্ত একটি ফটোকার্ড শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, এই স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রটি পুনর্নিমাণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিএনপির পক্ষ থেকে ২ কোটি টাকা অনুদান দিবে বলে জানিয়েছেন। দাবিটি ফটোকার্ড ছাড়াও কেবল পোস্ট আকারেও ছড়াচ্ছে। যেমন, মোস্তফা কামাল পলাশ নামে একটি ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে লেখা হয়েছে, 'গণমাধ্যমে একটি ঘোষণা দেখলাম যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর দলের পক্ষ থেকে রাড্ডা ক্লিনিক পুনর্নির্মাণের জন্য ২ কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।' ফ্যাক্টওয়াচের যাচাইয়ে দেখা যায়, সময় টিভির নামে প্রচারিত এই ফটোকার্ডটি এডিটেড। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর এমন কোনো ঘোষণার তথ্য পাওয়া যায়নি।
আলোচিত ফটোকার্ডটি যাচাই করে দেখা যায়, এতে সময় টিভির লোগো রয়েছে। সেই সূত্র ধরে সংবাদমাধ্যমটির ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটে খোঁজ করা হলেও ২৮ সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত অনুরূপ কোনো ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি।
তবে গত ২৮ সেপ্টেম্বর সময় টিভির ফেসবুক পেজে ‘রাড্ডা ক্লিনিক পুনর্নির্মাণে ৫০ লাখ টাকা অনুদান দেবে জামায়াত: শফিকুর রহমান’ শিরোনামের একটি ফটোকার্ড পাওয়া যায়।
দুটি ফটোকার্ড মিলিয়ে দেখা যায়, আলোচিত ফটোকার্ডের লোগো ও শিরোনামের বেশির ভাগ অংশ সময় টিভির মূল ফটোকার্ডের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। পার্থক্য হলো, মূল ফটোকার্ডে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের ছবি থাকলেও প্রচারিত ফটোকার্ডে ব্যবহার করা হয়েছে তারেক রহমানের ছবি।
আবার দেশের কোনো সংবাদমাধ্যমেও স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রটি পুনর্নিমাণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এমন কোনো ঘোষণা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, গত সোমবার ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রটি পরিদর্শন শেষে রাড্ডা ক্লিনিক পুনর্নির্মাণে জামায়াতে ইসলামী ৫০ লাখ টাকা অনুদান দেবে বলে জানিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।
অর্থাৎ রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রটি পুনর্নিমাণে বিএনপির পক্ষ থেকে ২ কোটি টাকা অনুদান দেওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে প্রচারিত ফটোকার্ডটি ভুয়া। ফলে ফ্যাক্টওয়াচ কথিত এই ফটোকার্ডটিকে বিকৃত হিসেবে চিহ্নিত করছে।
Claim: রাড্ডা ক্লিনিক পুনর্নির্মাণে ২ কোটি টাকা অনুদান দেবে বিএনপি: জনাব তারেক রহমান’
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh