“স্বাধীন দেশের অবস্থা বেপরোয়া গতি – মানুষের ক্ষতি…” শিরোনামে একটি ভিডিও সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একটি দ্রুতগামী গাড়ি স্কুল ইউনিফর্ম পরা এক শিক্ষার্থীকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ড্রেনের পাশে ফেলে দেয়। ভিডিওটি শেয়ার করে বুঝানো হচ্ছে, এটি বাংলাদেশের কোনো সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার দৃশ্য এবং দেশের সড়ক-নিরাপত্তা পরিস্থিতির করুণ চিত্র। তবে ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে জানা যাচ্ছে, ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়। ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের দেহরাদুন জেলার একটি সড়কে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার দৃশ্য এটি। ক্যাপশনে স্থান এবং সময়ের উল্লেখ না থাকায় অনেকেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন।
রিভার্স ইমেজ সার্চে দেখা যাচ্ছে, ভিডিওটি ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল “Ankit Sharma” নামের একটি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা হয়েছিল। পোস্টের বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনাটি ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের দেহরাদুনে ঘটে। একটি ‘আল্টো’ গাড়ি স্কুল থেকে ফেরা এক ছাত্রীকে ধাক্কা দেয় এবং একই ঘটনায় আরও ৮ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।
পরবর্তী অনুসন্ধানে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা ‘The Free Press Journal’ থেকে ২৪ এপ্রিল, ২০২৫ এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেখানে ব্যবহৃত ছবির সাথে দাবিকৃত ভিডিও হুবহু মিলে যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৩ এপ্রিল, ২০২৫ এ ভারতের উত্তরাখণ্ডের দেহরাদুন-পাওন্তা (Dehradun-Paonta) মহাসড়ক থেকে নিগম রোডে মোড় নেওয়ার সময় একটি আল্টো গাড়ি রাস্তা পার হতে থাকা স্কুল শিক্ষার্থীদের ওপর উঠে যায়। এতে সাতজন শিক্ষার্থী, এক পথচারী ও চালক গুরুতর আহত হন। গাড়িটির গতি এত বেশি ছিল যে সেটি আরও তিনটি গাড়ির ক্ষতিসাধন করে। জানা যায়, পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং চালককে আটক করেছে।
এসব তথ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে, এটি বাংলাদেশের কোনো সড়ক দুর্ঘটনার ভিডিও নয় বরং ভারতের একটি পুরোনো ঘটনার ভিডিও। ক্যাপশনে সরাসরি বাংলাদেশের কথা উল্লেখ না থাকলেও অনেকেই ভিডিওটিকে বাংলাদেশের বলে ভাবছেন। এ নিয়ে এক ধরণের বিভ্রান্তির তৈরি হয়েছে। তাই ফ্যাক্টওয়াচ এসব পোস্টকে “বিভ্রান্তিকর” হিসেবে চিহ্নিত করছে।
Claim: “স্বাধীন দেশের অবস্থা বেপরোয়া গতি – মানুষের ক্ষতি…” শিরোনামে একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে একটি দ্রুতগামী গাড়ি স্কুলপোশাক পরা এক শিক্ষার্থীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। ভিডিওটি শেয়ার করে এটিকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
Claimed By: Facebook Users
Rating: Mostly false
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh