একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হয়েছে, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিটি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দেহরক্ষী ছিলেন। আরও বলা হয়, তিনি খামেনির সকল তথ্য ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাচার করতেন এবং পরবর্তীতে ইরানের গোয়েন্দা সংস্থার হাতে আটক হয়ে এসব ঘটনার দায় স্বীকার করছেন। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি খামেনির দেহরক্ষী নন। তিনি মূলত সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর অধীনে আসাদ শাসনামলের গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক কর্মকর্তা তায়সির ওসমান। তাকে তরতুস শহরে একটি নিরাপত্তা অভিযানের মাধ্যমে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৪ এপ্রিল ২০২৫ তারিখ থেকে ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে।
ভিডিওটির কিছু কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ‘সিরিয়া ৩৬০ ’ নামের একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, তায়সির ওসমান সিরিয়ার নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তা ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে গুম, হত্যা ও অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও অনুসন্ধানে ৯ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়, যেখানে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওতে খামেনির দেহরক্ষী হিসেবে দাবি করা ব্যক্তির চেহারা হুবহু মিলে যায়। এছাড়া ২৪ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে “Radio free syriya” নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকেও একই ব্যক্তির ছবি পোস্ট করা হয়। সেখানে তাকে তায়সির ওসমান হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে এবং দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে একাধিক জঘন্য অপরাধের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে।
সুতরাং, আন্তর্জাতিক অঙ্গনের একাধিক সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে ভাইরাল ভিডিওতে দেখা ব্যক্তিটি সিরিয়ার সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা। বাশার আল-আসাদের শাসনামলের পরিবর্তনের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অতএব, ভাইরাল ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিকে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দেহরক্ষী হিসেবে যে দাবি করা হচ্ছে তা সত্য নয়।
তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ফ্যাক্টওয়াচ এই দাবিকে “মিথ্যা” হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
Claim: একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হয়েছে, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিটি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দেহরক্ষী ছিলেন। আরও বলা হয়, তিনি খামেনির সকল তথ্য ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাচার করতেন এবং পরবর্তীতে ইরানের গোয়েন্দা সংস্থার হাতে আটক হয়ে এসব ঘটনার দায় স্বীকার করছেন।
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh