রেস্টুরেন্টে মারামারির ভিডিওকে ‘বিএনপি নেতার বিল না দেওয়ার’ ঘটনা বলে প্রচার

29
রেস্টুরেন্টে মারামারির ভিডিওকে ‘বিএনপি নেতার বিল না দেওয়ার’ ঘটনা বলে প্রচার
রেস্টুরেন্টে মারামারির ভিডিওকে ‘বিএনপি নেতার বিল না দেওয়ার’ ঘটনা বলে প্রচার

সম্প্রতি ফেসবুকে একটি মারামারির ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে যে, ঢাকার একটি রেস্টুরেন্টে গিয়ে এক বিএনপি নেতা বিল না দিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং সে সময় হোটেল স্টাফরা তাকে মারধর করেন। তবে ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে জানা যায়, বাস্তবে এটি ২০২৬ সালের ৭ মার্চের ঘটনা। ইফতারের সময় ঢাকার জনসন রোডের একটি রেস্টুরেন্টে খেজুরের দাম নিয়ে সাধারণ ক্রেতা এবং সেখানকার কর্মীদের মধ্যে ঘটে যাওয়া একটি মারামারির ঘটনার ভিডিও।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে। 

ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানঃ 

এই ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করার জন্য শুরুতেই এর বিভিন্ন কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। এর ফলে সময় টিভির অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে এই ঘটনার  ভিডিও পাওয়া যায়। সেখান থেকে জানা যায় যে, ভাইরাল হওয়া দৃশ্যগুলো কোনো রাজনৈতিক নেতার বিল ফাঁকি দেওয়ার ঘটনা নয়, বরং এটি ঢাকার স্টার কাবাব রেস্টুরেন্টে ইফতারের সময় খেজুরের দাম নিয়ে মারামারির একটি বাস্তব চিত্র। 

এই ঘটনা সম্পর্কে দেশ রূপান্তর এর একটি রিপোর্ট থেকে জানা যায় যে, ঘটনার পরদিন রাতে স্টার কাবাব কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে তাদের কর্মচারীদের আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে এবং লজ্জিত হওয়ার কথা জানায়। পাশাপাশি তারা দোষী কর্মীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভুক্তভোগী ক্রেতার চিকিৎসার ব্যবস্থা করার কথা উল্লেখ করে। অন্যদিকে,  ঢাকামেইলে প্রকাশিত একটি রিপোর্টে সূত্রাপুর থানার ওসির বরাতে জানা যায় যে,  ইফতারের সময় খেজুরের দাম নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছিল এবং পরবর্তীতে উভয় পক্ষ নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করে নেওয়ায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। 

​তাই সবকিছু বিবেচনা করে ফ্যাক্টওয়াচ এই পোস্টগুলোকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

Claim:
রেস্টুরেন্টে গিয়ে বিএনপি নেতা পরিচয় দিয়ে বিল না দিয়ে চলে যাওয়ার সময় বেদম ক্যালানি।

Claimed By:
Facebook users

Rating:
False

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে

এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh