মোবাইল চুরির কারণে হেনস্তার ভিডিওকে সুদের টাকা দিতে না পারায় নির্যাতন বলে প্রচার 

11
মোবাইল চুরির কারণে হেনস্তার ভিডিওকে সুদের টাকা দিতে না পারায় নির্যাতন বলে প্রচার 
মোবাইল চুরির কারণে হেনস্তার ভিডিওকে সুদের টাকা দিতে না পারায় নির্যাতন বলে প্রচার 

সম্প্রতি ফেসবুকে ক্রন্দনরত এক নারীর ভিডিও শেয়ার করা হচ্ছে। ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, সুদের টাকা দিতে না পারায় এক নারীকে চুল কেটে নির্মম নির্যাতন করলেন ভোলা সদর উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আতাউল রহমান গনি। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, এ বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জে একটি মোবাইল ফোনের দোকান থেকে ফোন চুরি করার সময় ধরা পড়েন ওই নারী।  

এ ধরনের কয়েকটি পোস্ট এখানে, এখানে, এখানে, এখানে। 

ভিডিওটির বিভিন্ন কি-ফ্রেমের সাহায্যে রিভার্স ইমেজ সার্চে ‘খবর দর্পণ’ নামের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট পাওয়া যায়। এই পোস্টে ভিডিওর ক্যাপশনে বলা হয়েছে, “নারায়ণগঞ্জ চাষাড়া আল জয়নাল ট্রেড সেন্টারের টেকনো মোবাইল শো রুম হতে মোবাইল ফোন চুরি করার সময় এক মহিলা চোর আটক।” এই ভিডিওর সঙ্গে আলোচিত ভিডিওটির মিল রয়েছে। 

পরবর্তী অনুসন্ধানে ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট পাওয়া যায়। গত ৬ ফেব্রুয়ারি পোস্ট করা ভিডিওর ক্যাপশনে বলা হয়, “এইমাত্র নারায়ণগঞ্জ চাষাড়া আল জয়নাল ট্রেড সেন্টারের টেকনো মোবাইল শো রুম হতে মোবাইল ফোন চুরি করার সময় এক মহিলা চোরকে আটক করে জনতা। এখন এই মহিলা মোবাইল ছিনতাইকারীকে কী করা দরকার.!” এই ভিডিওর একটি অংশ ভোলা সদরের ঘটনা হিসেবে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ছে। 

ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের আলোচিত পোস্ট দুটিতে ঘটনার স্থান হিসেবে নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ার ‘আল জয়নাল ট্রেড সেন্টার’ নামের মার্কেটের ‘টেকনো মোবাইল’ দোকানের নাম পাওয়া যায়। এই সূত্র ধরে ‘টেকনো নারায়ণগঞ্জ‘র ফেসবুক পেজের খোঁজ পাওয়া যায়। এই আইডির একটি পোস্টে বলা হয়, “গত ৬ ফেব্রুয়ারি আমাদের দোকান থেকে এই মহিলাকে চুরি করার সময় হাতেনাতে ধরা হয়েছে। এইটা তখনকার ভিডিও।” এই ভিডিওটি আলোচিত ভিডিওর সঙ্গে মিলে যায়।

এই আইডি থেকে পাওয়া ফোন নম্বরে ফ্যাক্টওয়াচের পক্ষ থেকে ফোনে যোগাযোগ করা হলে ইমন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা হয়। মোবাইল ফোন চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়া ওই ঘটনার বিবরণ এবং চুরির সিসিটিভি ফুটেজ পাঠান তিনি। এই ভিডিও পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আলোচিত ভিডিওর সঙ্গে এটির মিল রয়েছে।

কাজেই ঘটনাটি ভোলা সদরের নয়, নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ার। ভিডিওর নারী সুদের টাকা দিতে না পাড়ায় নির্যাতিত হননি, মোবাইলফোন চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে হেনস্তার শিকার হয়েছেন। ফেসবুকে ছড়ানো পোস্টগুলোতে নির্যাতনকারীর নাম হিসেবে ভোলা সদর উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আতাউল রহমান গনি’র নাম এসেছে ভিত্তিহীনভাবে। 

কাজেই সঙ্গত কারণে, ফেসবুকে ছড়ানো পোস্টগুলোকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে ফ্যাক্টওয়াচ।   

Claim:
সম্প্রতি ফেসবুকে ক্রন্দনরত এক নারীর ভিডিও শেয়ার করা হচ্ছে। ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, সুদের টাকা দিতে না পারায় এক নারীকে চুল কেটে নির্মম নির্যাতন করলেন ভোলা সদর উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আতাউল রহমান গনি।

Claimed By:
Facebook Users

Rating:
False

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে

এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh