আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে তারেক রহমানের উপর নির্যাতনের দৃশ্য দাবিতে সম্প্রতি ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ক্যাপশনে উল্লেখ করা হচ্ছে যে, এই দৃশ্য তারেক রহমানের হাত পা বেঁধে কারেন্টের শক দেওয়ার সময় তোলা। কিন্তু ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে যে, ভিডিওতে যাকে হাত পা বেঁধে নির্যাতন করা হচ্ছে তিনি বাস্তবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নন। এই ব্যক্তির নাম রতন, যাকে চুরির অভিযোগে বগুড়া সদর পুলিশ স্টেশনে থানার ছাদের সাথে ঝুলিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। এই ঘটনার একটি ছবিকে এআই দিয়ে ভিডিও আকারে তৈরি করা হয়েছে। অন্যদিকে, তারেক রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছিল ঠিকই কিন্তু তা উক্ত ঘটনার পরের ঘটনা। আবার, তারেক রহমান যখন কারাবাস করছিলেন তখন শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে ক্ষমতায় ছিলেন না। বিভিন্ন মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে চলে যাওয়ার পরে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে ক্ষমতায় বসেন। সুতরাং ফ্যাক্টওয়াচের বিবেচনায় ভাইরাল দাবিটি মিথ্যা।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির উৎস খুঁজে পাওয়ার জন্য শুরুতেই একে ব্যবহার করে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। এর ফলে ডেইলি স্টারের অনেক আগের একটি ওয়েব ভার্সনে ভাইরাল ছবিটি পাওয়া যায়। সেখানে আলোচিত এই ব্যক্তির নাম রতন বলে উল্লেখ করা হয়, যাকে চুরির অভিযোগে ২০০৭ সালের ২৫ জানুয়ারি বগুড়া সদর থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষে ঝুলিয়ে নির্যাতন করা হয়। ডেইলি স্টারের ২০০৭ সালের ২৭ জানুয়ারির ইস্যুকৃত সংখ্যায় এই ঘটনা সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
স্টক ছবির ওয়েবসাইট গেটি ইমেজেও ছবিটি পাওয়া যায়। সেখানেও ভুক্তভোগী ব্যক্তির নাম রতন কুমার উল্লেখ করা হয়। ছবিটির বর্ননায় বলা হয় ৩০ বছর বয়সী রতন কুমারকে সোনার গয়না চুরির অভিযোগে বগুড়ার সদর থানায় ছাদের সাথে ঝুলিয়ে নির্যাতন করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। AFPBB News এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ২০০৭ সালের ৩০ জানুয়ারি প্রকাশিত রিপোর্টে বগুড়া সদর থানায় ঘটা এই একই ঘটনার ছবি ব্যবহার করা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয় এই ঘটনা যখন ঘটে তখন বাংলাদেশে জরুরি অবস্থা জারি করা ছিল।
পরবর্তীতে ভাইরাল ভিডিওটি বিশ্লেষন করে বেশ কিছু অসঙ্গতি দেখা যায় যেমনঃ সাদা পোশাক পরিহিত এক ব্যক্তির হাতে হঠাৎ একটা লাঠি চলে আসে এবং কিছুক্ষণ পরে সেটা আবার অদৃশ্য হয়ে যায়। যাকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে তার উপর বাকি ব্যক্তিরা অস্বাভাবিক ভাবে ঝাপিয়ে পরে। এ আই দ্বারা নির্মিত ভিডিওতে মূলত এই ধরণের অসঙ্গতি দেখতে পাওয়া যায়।
অন্যদিকে, তারেক রহমান ২০০৭ সালের ৭ মার্চ সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেফতার হয়ে এক বছর বন্দি ছিলেন। পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর লন্ডনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়েন। কিন্তু ভাইরাল ভিডিওর ঘটনাটি ২০০৭ সালের ২৫ জানুয়ারি ঘটে। অর্থাৎ, এটা হচ্ছে তারেক রহমানকে গ্রেফতার করার আগের ঘটনা। এই দুই ঘটনা ঘটার সময় বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান ছিলেন ফখরুদ্দীন আহমেদ, শেখ হাসিনা নয়।
যেহেতু আলোচিত ভুক্তভোগী ব্যক্তি তারেক রহমান নয়, সুতরাং ফ্যাক্টওয়াচ ভাইরাল পোস্ট গুলোকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
Claim: আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে তারেক রহমানের উপর নির্যাতনের দৃশ্য দাবিতে সম্প্রতি ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ক্যাপশনে উল্লেখ করা হচ্ছে যে, এই দৃশ্য তারেক রহমানের হাত পা বেঁধে কারেন্টের শক দেওয়ার সময় তোলা।
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh