কয়েকটি লাশবাহী এম্বুলেন্সের একটি ভিডিও ফেসবুকে শেয়ার করে বলা হচ্ছে, রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো সেকশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রবাসীদের ফেরত আনা একাধিক মরদেহ সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, এম্বুলেন্সগুলো ঢাকা বিমানবন্দর থেকে নয়, বেরোচ্ছে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে। কাজেই, ওমান থেকে আসা প্রবাসীদের লাশগুলো ঢাকা বিমানবন্দরে আসেনি এবং আগুনেও পোড়েনি।
আলোচিত ভিডিওটির বিভিন্ন কি- ফ্রেমের সাহায্যে রিভার্স ইমেজ সার্চে ফেসবুকে একটি পোস্ট পাওয়া যায়। এই পোস্টের সঙ্গে ক্যাপশনে বলা হয়েছে, “ওমানে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত ৮ বাংলাদেশী প্রবাসীর লাশ অ্যাম্বুলেন্সে বহন করে এক এক করে বের হচ্ছে বিমানবন্দর থেকে! নিহতদের মধ্যে ৭ জন সন্দ্বীপের ও একজন রাউজানের এবং সবাই চট্টগ্রামের। সন্দ্বীপের ৭ জন প্রবাসীর লাশ নিয়ে চট্টগ্রাম শাহ্ আমানত বিমানবন্দর থেকে কুমিরার উদ্দেশ্য রওনা দিয়েছে ৭ টি অ্যাম্বুলেন্স।” এই পোস্টের ভিডিওটির সঙ্গে আলোচিত ভিডিওটির মিল রয়েছে।
পরবর্তী অনুসন্ধানে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে জানা যায়, শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাতে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে, ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আট প্রবাসীর মরদেহ দেশে আসে। প্রবাসীদের লাশ বহনকারী ফ্লাইট চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখান থেকে ফ্রিজিং এম্বুলেন্সে করে লাশগুলো বাড়ি নিয়ে যান স্বজনেরা। শাহ আমানত বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিলের বরাতে এই প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহতরা হলেন সারিকাইতের আমিন মাঝি, মো. আরজু, মো. রকি, সাহাব উদ্দিন ও মো. বাবলু এবং মাইটভাঙার মো. জুয়েল ও রহমতপুরের মো. রনি। অপরজন রাউজানের চিকদাইর ইউনিয়নের ইউসুফের ছেলে।
উল্লেখ্য, গত ১৮ আগস্ট বেলা আড়াইটার দিকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে (পণ্য রাখার স্থান) আগুন লাগে। এর ফলে ঢাকায় অবতরণ করতে না পেরে কিছু ফ্লাইট চট্টগ্রামের বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
সঙ্গত কারণে বলা যায়, ওমান প্রবাসীদের লাশবহনকারী বিমান ঢাকায় নামেনি। ফলে, উক্ত ক্যাপশনে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের ভিডিওসহ এসব পোস্টগুলোকে ‘মিথ্যা’ সাব্যস্ত করা হলো।
Claim: কয়েকটি লাশবাহী এম্বুলেন্সের একটি ভিডিও ফেসবুকে শেয়ার করে বলা হচ্ছে, রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো সেকশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রবাসীদের ফেরত আনা একাধিক মরদেহ সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh