ফেসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, এটি কলকাতায় বিজেপি সমর্থকদের মুসলমানদের কবরস্থান উচ্ছেদের ফুটেজ। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, কয়েকজন যুবক কবরস্থানে একটি সমাধি ভাঙচুর করছে। আবার আরেকটি সমাধিতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। কোনো কোনো ফেসবুক পোস্টে ভিডিওটিকে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভিডিওটি পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের আগের এবং কলকাতার নয়, দিল্লির ঘটনা।
ভিডিওটির কিছু কি-ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চে মুসলিম মিরর নামে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। চলতি বছরের গত ৪ মার্চ প্রকাশিত প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, ভিডিওর ঘটনাটি ভারতের উত্তর দিল্লির ওয়াজিরাবাদ মুসলিম কবরস্থানের। প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, কয়েকজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী গত ১ মার্চ এই ঘটনা ঘটায়।
ক্ল্যারিওন ইন্ডিয়া নামের একটি ফেসবুক পেজেও গত ৪ মার্চ ভিডিওটি পাওয়া যায়। এই পেজের পোস্টের বর্ণনা থেকেও জানা যায়, এটি ভারতের উত্তর দিল্লির ওয়াজিরাবাদ কবরস্থানে স্বঘোষিত হিন্দু নেতা সত্যম পণ্ডিতের দলের সদস্যরা ভাঙচুর চালায়। তারা হাতুড়ি দিয়ে কবর ভাঙচুরের চেষ্টা করে এবং পেট্রোল ঢেলে আগুনও ধরিয়ে দেয়। পোস্টটি দেখুন এখানে।
newsb_eat নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টেও গত ৫ মার্চ পোস্ট করা ভিডিওটি পাওয়া যায়।
এসব পোস্ট ও সংবাদ প্রতিবেদন থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, কবরস্থানে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ভিডিওটি পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন পরবর্তী ঘটনার নয়। তাই ফ্যাক্টওয়াচ ফেসবুকে এই দাবিতে প্রচারিত পোস্টগুলোকে বিভ্রান্তিকর হিসেবে সাব্যস্ত করছে।
Claim: ফেসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, এটি কলকাতায় বিজেপি সমর্থকদের মুসলমানদের কবরস্থান উচ্ছেদের ফুটেজ।
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh