হাতে মানুষের কাটা মাথা নিয়ে কথা বলছেন এক ব্যক্তি, এ ধরণের একটি ভিডিও শেয়ার করে কিছু পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, এই খুনের ঘটনাটি বাংলাদেশে ঘটেছে। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, ঘটনাটি ভারতের। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরে ঘটেছে।
সম্প্রতি ফেসবুকে শেয়ার হওয়া ভিডিওটির ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, “নিজের স্ত্রীর প্রকাশ্য মাথা কেটে নিলো এই স্বামী, তিনি বলতেছেন দেশের আইন ওনাকে বাধ্য করেছে এ কাজ করতে। এসব নিউজ দালাল মিডিয়া প্রকাশ করছে না। ফ্যাসিস্ট ইউনুছ হঠাও দেশ বাঁচাও!” ৩০ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের ভিডিওটিতে এক হাতে দা এবং আরেক হাতে কাটা মাথা নিয়ে এক যুবককে বলতে শোনা যায়, “এটা আমার বিয়ে করা বউ, এই মুণ্ডুটা কাটার জন্য তৃণমূল সরকার আমাকে সাহায্য করেছে, আইন আমায় বাধ্য করেছে।”
ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধান
ভিডিওটির বিভিন্ন কি-ফ্রেমের সাহায্যে রিভার্স ইমেজ সার্চে ইউটিউবে একটি ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এটি আপলোড করা হয়েছে ২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে চালানো প্রতিবাদী আওয়াজ নামের এই ইউটিউব চ্যানেলের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরে এই ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের বরাতে ভিডিওতে বলা হয়, পটাশপুর থানার চিস্তিপুর গ্রামের বাসিন্দা গৌতম গুছাইত স্ত্রী ফুলরানি গুছাইতকে খুন করেন কাটারি দিয়ে। তার পর সেই কাটা মুন্ডু নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন।
পরবর্তী অনুসন্ধানে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে আনন্দবাজারের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ২০২৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে একই ধরণের দুটি ঘটনার বিবরণ পাওয়া যায়। একটি ভারতের উত্তরপ্রদেশের বারাবাঁকীর এবং অন্যটি পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরের পটাশপুরের। স্থানীয় জনগণের বরাতে মেদেনীপুরের ঘটনাটির বিবরণে বলা হয়, “বেশ কিছু দিন ধরেই পারিবারিক অশান্তি চলছিল গৌতমের পরিবারে। তার জেরেই স্ত্রীকে তিনি খুন করেছেন বলেই মনে করছেন তারা।” দুটি ঘটনার ক্ষেত্রেই ‘খুনের পর সেই কাটা মুন্ডু নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন’- বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও অনুসন্ধানে, ২০২৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ঢাকা থেকে প্রকাশিত ‘আমার সংবাদ’ নামের এই পত্রিকাটির আন্তর্জাতিক খবর অংশে এই ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়, “স্ত্রীকে খুন করে মাথা হাতে রীতিমতো পুলিশের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায় ওই ব্যক্তিকে। কিন্তু কেউ ওই ব্যক্তির কাছে যেতে সাহস পাচ্ছিলেন না। সাহস করে এগিয়ে যাওয়া এক ব্যক্তির ধারণ করা ভিডিও থেকেই ঘটনা জানা যায়।” এই ভিডিওর সঙ্গে খুনের অভিযোগে আভিযুক্ত গৌতম গুছাইতের একটি ব্লার ছবি সংযুক্ত আছে। ছবিটি আলোচ্য ভিডিওর অংশ বলে প্রতীয়মান হয়।
ফলে, অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, আলোচ্য ঘটনাটি বাংলাদেশের নয়। সঙ্গত কারণে, ফেসবুকে ‘বাংলাদেশের ঘটনা’ দাবি করা পোস্টগুলোকে মিথ্যা হিসেবে সাব্যস্ত করা হলো।
Claim: হাতে মানুষের কাটা মাথা নিয়ে কথা বলছেন এক ব্যক্তি, এ ধরণের একটি ভিডিও শেয়ার করে কিছু পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, এই খুনের ঘটনাটি বাংলাদেশে ঘটেছে।
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh