ভারতে এক নারীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে বাংলাদেশের বলে প্রচার 

216
ভারতে এক নারীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে বাংলাদেশের বলে প্রচার 
ভারতে এক নারীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে বাংলাদেশের বলে প্রচার 

সম্প্রতি ফেসবুকে প্রকাশ্যে এক নারীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে। ক্যাপশনে উল্লেখ করা হচ্ছে মুহাম্মদ ইউনূসের শাসনামলে তার  সন্ত্রাসী বাহিনী ধর্ষণের উদ্দ্যেশ্যে নাচের ক্লাস থেকে প্রকাশ্যে উক্ত নারীকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে ঘটনাটি বাংলাদেশের। আবার, বাংলাদেশী সংবাদমাধ্যম যায়যায়দিনের ফেসবুক পেজ থেকেও এই একই ভিডিও আপলোড হয়, যার ক্যাপশনে কেবল লেখা ছিল “নাচের ক্লাস থেকে প্রকাশ্যে অপহরন, নেপথ্যে পরকিয়া।” ঘটনাটি কোথায় ঘটেছে সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য না থাকায় অনেকেই ভিডিওটিকে বাংলাদেশের উল্লেখ করে ফেসবুকে শেয়ার করে।  কিন্তু ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে যে, বাস্তবে ভিডিওটি ভারতের, বাংলাদেশের নয়। ভারতের মধ্যপ্রদেশে পারিবারিক কলহের জেরে নাচের ক্লাস থেকে মেয়েটির পরিবারের লোকজনই তাকে তুলে নিয়ে যায়। তাই ফ্যাক্টওয়াচের বিবেচনায় আলোচিত পোস্টগুলো বিভ্রান্তিকর। 

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।

ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানঃ 

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি থেকে বিভিন্ন কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে Cnews Bharat Madhya Pradesh Chhattisgarh নামের একটি ইউটিউব চ্যানেল থেকে ভাইরাল ভিডিওটির অনুরূপ একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর আপলোড করা এই ভিডিওর ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয় যে, ভিডিওটি ভারতের মধ্যপ্রদেশের মান্দসৌর (Mandsaur) এলাকার।  

এই সূত্র অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক কিছু কি-ওয়ার্ড ধরে অনুসন্ধান করে NDTV এর ওয়েবসাইটে এই ঘটনা সম্পর্কিত একটি রিপোর্ট পাওয়া যায়। রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত ছবির সাথে রিভার্স ইমেজ সার্চের সময় ব্যবহৃত কি-ফ্রেম মিলে যায়। রিপোর্টে আরও বলা হয় যে ঘটনাটি ২০২৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর মধ্যপ্রদেশের মান্দসৌরের ভাবসার ধর্মশালায় ঘটেছে। সেখানে আলোচিত এই নারীকে ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ‘গরবা’ অনুশীলনের সময় জোর করে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। 

এই রিপোর্টে যুক্ত করা প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, ভুক্তভোগী এই নারী কয়েক মাস আগে ভারতের রাজস্থান থেকে মান্দসৌরে এক পুরুষ সঙ্গীর সাথে চলে এসেছিলেন । এনডিটিভির নাম না উল্লেখ করা সূত্র অনুসারে, বিবাহিত হওয়া স্বত্বেও পরিবার থেকে দূরে থাকার এই সিদ্ধান্ত তার আত্মীয়দের ক্ষুব্ধ করে তোলে। ঘটনার রাতে, তার পরিবারের সদস্যরা ভাবসার ধর্মশালায় পৌঁছে তাকে প্রকাশ্যে তুলে নিয়ে যায় এবং আশেপাশের লোকদের ভয় দেখানোর জন্য একটি পিস্তল দেখায়। এই ঘটনা ঘটার দুই ঘন্টার মধ্যে, পুলিশ সকল অভিযুক্তদের  গ্রেপ্তার করে এবং ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে। সেই সাথে একটি খেলনা পিস্তল এবং ঘটনায় ব্যবহৃত গাড়িটিও জব্দ করা হয়।

বাংলাদেশী সংবাদমাধ্যম যায়যায়দিনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে এই ঘটনার ভিডিও আপলোড করা হয়। ভিডিওর ভিতরে উল্লেখ করা হয় ঘটনাটি ভারতের। কিন্তু ক্যাপশনে ঘটনাটি ঘটার স্থান সম্পর্কে কোনোকিছু উল্লেখ না করে কেবল বলা হয় “নাচের ক্লাস থেকে প্রকাশ্যে অপহরন, নেপথ্যে পরকিয়া।” তাই ক্যাপশন পড়ে অনেকেই মনে করেন এটা বর্তমান সরকারের আমলে বাংলাদেশের ঘটনা। যায়যায়দিনের এই ফেসবুক পেজ থেকে আপলোড করা এই ভিডিওর কমেন্ট সেকশন দেখে এর কিছু ধারণা পাওয়া যায়। 

যেহেতু, প্রকাশ্যে এক নারীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি বাংলাদেশের নয়, সঙ্গত কারণে ফ্যাক্টওয়াচ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির উপর ভিত্তি করে করা দাবিটিকে বিভ্রান্তিকর হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

Claim:
সম্প্রতি ফেসবুকে প্রকাশ্যে এক নারীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে। ক্যাপশনে উল্লেখ করা হচ্ছে মুহাম্মদ ইউনূসের শাসনামলে তার সন্ত্রাসী বাহিনী ধর্ষণের উদ্দ্যেশ্যে নাচের ক্লাস থেকে প্রকাশ্যে উক্ত নারীকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে।

Claimed By:
Facebook users

Rating:
Mostly false

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।

এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh