গত ২৪ অক্টোবর থেকে ফেসবুকে একটি ভাঙচুরের ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, এটি বাংলামোটরের এনসিপি অফিস ভাঙচুরের ঘটনা। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, ভিডিওটি সিলেটের পাপড়ি রেস্টুরেন্ট ভাঙচুরের।
ভিডিওটি পর্যালোচনা করে যেখানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে, সেখানে পাপড়ি রেস্টুরেন্টের সাইনবোর্ড দেখা যায়। বাংলামোটরে এনসিপি কার্যালয় রূপায়ন টাওয়ারে। অনুসন্ধানে রূপায়ন টাওয়ার অথবা এর আশেপাশে পাপড়ি রেস্টুরেন্ট নামে কোনো রেস্টুরেন্ট খুঁজে পাওয়া যায়নি। গুগলম্যাপে দেখা যায়, এটি সিলেটের লালাবাজারে। সিলেটের এই রেস্টুরেন্ট এলাকা পর্যালোচনা করে বোঝা যায়, আলোচিত ঘটনাটি এই এলাকার।
পরবর্তী অনুসন্ধানে ভিডিওটির বিভিন্ন কি-ফ্রেমের সাহায্যে রিভার্স ইমেজ সার্চে ইউটিউবে একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ‘সিলেট চ্যানেল মিডিয়া‘ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেল দুই মাস আগে ভিডিওটি আপলোড করে। “সিলেটের লালাবাজারে ঐতিহ্যবাহী পাপড়ি রেস্টুরেন্ট ভাঙচুর চলছে”- এই শিরোনামের পোস্টটিতে দেখা যায়, বেশ কিছু ব্যক্তি ইটের টুকরা দিয়ে ‘পাপড়ি রেস্টুরেন্ট’ সাইনবোর্ড লাগানো স্থাপনায় ঢিল ছুঁড়ছেন। ভিডিওটির একটি অংশের সঙ্গে আলোচিত ভিডিওটির সাদৃশ্য রয়েছে।
প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে দেখা যায়, গত ২৪ অক্টোবর রাজধানীর বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির কার্যালয়ের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন ৪৩তম বিসিএস নন-ক্যাডার প্রত্যাশীরা। মূলধারার সংবাদমাধ্যমে এই ঘটনার বিবরণে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভের কথাই বলা হয়েছে। ইট পাটকেল নিক্ষেপের বিবরণ কোথাও পাওয়া যায় নি।
পুনরায় প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ২০২৫ সালের ১৬ আগস্টে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়, সিলেটের দক্ষিণ সুরমার লালাবাজারে যাত্রীছাউনি ভাঙা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে এ বছরের ১৫ আগস্ট। প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, যাত্রীছাউনি ভাঙাকে কেন্দ্র করে ‘পাপড়ি রেস্টুরেন্ট’ নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
পাপড়ি রেস্টুরেন্ট ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে মূলধারার সংবাদমাধ্যমে যেসব প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এই ঘটনাটি সিলেটের স্থানীয় রাজনীতির আভ্যন্তরীণ কলহের ফলে ঘটেছে।
কাজেই, সব দিক খতিয়ে দেখে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, পাপড়ি রেস্টুরেন্ট এলাকায় ভাঙচুরের ঘটনাটি ঢাকার বাংলামোটরে এনসিপি কার্যালয় ভাঙচুরের নয়। ফলে সঙ্গত কারণে, সিলেটের ঘটনাকে ঢাকার দাবি করা পোস্টগুলোকে ‘মিথ্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করছে ফ্যাক্টওয়াচ।
Claim: গত ২৪ অক্টোবর থেকে ফেসবুকে একটি ভাঙচুরের ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, এটি বাংলামোটরের এনসিপি অফিস ভাঙচুরের ঘটনা।
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh