একজন নারীকে কয়েকজন পুরুষ জোর করে নিয়ে যাচ্ছে, সম্প্রতি এ ধরনের একটি ভিডিও ফেসবুকে শেয়ার করা হচ্ছে। ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, রাজধানীতে ছাত্রলীগের নেত্রীকে ছাত্রদলের নেতারা মব করে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়, ভারতের বিহার রাজ্যের। নারী নির্যাতনের এই ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে বিহারের পুলিশ।
ভিডিওটির কয়েকটি কি-ফ্রেমের সাহায্যে রিভার্স ইমেজ সার্চে এক্সে একটি পোস্ট পাওয়া যায়। এ বছরের ৩১ মার্চের পোস্টে একটি ঝাপসা ভিডিও আপলোড করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, “বিহারের নালন্দায় একদল পুরুষ, দোকান থেকে ফেরার পথে এক নারীকে ধরে নিয়ে যায়, তাকে রাস্তায় ঘোরায়, শারীরিকভাবে নির্যাতন করে এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালায়।”
এই ভিডিওটির সঙ্গে আলোচ্য ভিডিওটির মিল রয়েছে।
পরবর্তী ধাপে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে টাইমস অফ ইন্ডিয়া (Times of India)’য় এ বছরের ১ এপ্রিল ও ৩ এপ্রিল প্রকাশিত দুটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়।
প্রথম প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, গত ২৬ মার্চ সন্ধ্যায় বিহারের নালন্দা জেলায় ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী নারী, যিনি দুই সন্তানের জননী এবং তার স্বামী মহারাষ্ট্রের নাসিকে কর্মরত, স্থানীয় একটি দোকান থেকে মুদি মালামাল কিনে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে গ্রামেরই তিন স্থানীয় যুবক তার পথ আটকায়। ওই নারীর অভিযোগ অনুযায়ী, যুবকরা তাকে জোরপূর্বক ধরে রাস্তা দিয়ে টেনে নিয়ে যায়, আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করে, তার পোশাক ছিঁড়ে ফেলার চেষ্টা করে এবং গালিগালাজ করতে করতে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। ওই নারী নিজেকে বাঁচানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন এবং চিৎকার করে জীবন ভিক্ষা চান, কিন্তু আক্রমণকারীরা তাকে ছাড়েনি। ২৭শে মার্চ ওই নারী স্থানীয় থানায় একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ দায়েরের প্রতিশোধ হিসেবে আসামিরা ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়, যা ভুক্তভোগীর মানসিক ট্রমাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। এই প্রতিবেদনের সঙ্গে যে স্থির ছবি যুক্ত রয়েছে সেটি আলোচ্য ভিডিওর সঙ্গে মেলে।
দ্বিতীয় প্রতিবেদনে পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে, ৩১ মার্চ থেকে ২ এপ্রিলের মধ্যে চালানো বিভিন্ন অভিযানে ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছে অশোক যাদব, মাতলু ওরফে নবনীত কুমার, রঞ্জন কুমার, শচীন কুমার, দশরথ চৌধুরী, শৈলেশ কুমার, ডোমন পাসোয়ান এবং সোনু কুমার। এছাড়া, অভিযুক্তদের উসকানি দেওয়ার অভিযোগে অনিতা দেবী নামে এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়। অন্যদিকে, রবিকান্ত কুমার নামে অপর এক অভিযুক্ত বুধবার আদালতে আত্মসমর্পণ করেছে।
আরও অনুসন্ধানে ‘আজতক বাংলা’য় এ বছরের ১৩ মে প্রকাশিত একটি ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের পর এই ভিডিওটি ছড়িয়েছে ‘পশ্চিমবঙ্গে এক মুসলিম বোনের জামা কাপড় প্রকাশ্যে খুলে নিচ্ছে হিন্দুরা’ এই দাবিতে।
সবদিক পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ভিডিওটি বাংলাদেশে ছাত্রলীগ নেত্রীকে ছাত্রদলের নেতাদের নির্যাতনের নয়। কাজেই সঙ্গত কারণে, বানোয়াট ক্যাপশনের কারণে ভাইরাল পোস্টগুলোকে মিথ্যা সাব্যস্ত করছে ফ্যাক্টওয়াচ।
Claim: রাজধানীতে ছাত্রলীগের নেত্রীকে ছাত্রদলের নেতারা মব করে ধরে নিয়ে যাচ্ছে।
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh