একজন পুরুষ একজন নারীকে মারধর করছেন এমন একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে যে, রাজধানীর খিলগাঁও থানার বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তরিকুল একজন নারীকে বাসায় ঢুকে মারধর করছে। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভিডিওটি ভারতের বিহার রাজ্যের গয়া জেলার।
১৩ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে কোনো কথা স্পষ্ট নয়, শুধু একজন পুরুষ একজন নারীকে মারধরের সময় দুজন শিশুকে চিৎকার করতে শোনা যায়।
আলোচিত ভিডিওটির বিভিন্ন কি-ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চে গোবিন্দ প্রতাপ সিং নামের একটি এক্স একাউন্টে ৩৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পাওয়া যায়। এই ভিডিওটিতে নারী ও পুরুষকে হিন্দিতে কথা বলতে শোনা যায়। ভিডিওটির ক্যাপশনে হিন্দিতে লেখা- “বিহারের গয়ায় এক নারীর সঙ্গে বর্বরতা হয়েছে। বাচ্চারা চিৎকার করছিল, বাবাকে মায়ের কাছ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিল, কিন্তু সে কিছুতেই থামেনি। এখন জানা গেছে, বাচ্চাদের মা আর বেঁচে নেই। শ্বশুরবাড়ির লোকেদের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ উঠেছে। নারী হোক বা পুরুষ—সবাই কোনও না কোনওভাবে নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন!” মূলত এই ভিডিওটির শেষ ১৩ সেকেন্ড শেয়ার করে কিছু ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, এটি ঢাকার খিলগাঁও থানার বিএনপি নেতার নারী নির্যাতনের ভিডিও।
গোবিন্দ প্রতাপ সিংয়ের শেয়ার করা ভিডিওটির ক্যাপশনের সূত্র ধরে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে দ্য ইকোনমিক টাইমসের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে ২০২৫ সালের ২২ জুন। এই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, “বিহারের গয়া জেলার জানকপুর এলাকায় নিশা কুমারি নামের এক নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিশার বাবা শ্রবণ কুমার অভিযোগ করেছেন, স্বামী অভিষেক কুমার তার মেয়েকে যৌতুক দাবিতে খুন করেছে। ২০১৫ সালে তাদের বিয়ে হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিশা দীর্ঘদিন ধরেই নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিলেন—বিশেষ করে তার দুটি কন্যাসন্তান জন্ম নেওয়ার পর থেকে নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।”
ভিডিওটি ভারতের সামাজিক মাধ্যমেও প্রচুর ছড়িয়েছে। এই প্রতিবেদনের সঙ্গে ৩৩ সেকেন্ডের ভিডিওটি যুক্ত আছে।
আরও অনুসন্ধানে নিউজ কর্ণাটকের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, “অভিষেক কুমার কোনো দোষ স্বীকার করেননি। তিনি দাবি করেছেন, ঘটনার সময় তিনি পাটনায় ছিলেন। সেখানেই তিনি একটি ফোনকল পান, বলা হয়—নিশা নাকি বিষ খেয়েছে। পরে নিশাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলেও, দুঃখজনকভাবে তিনি প্রাণ হারান।” এই প্রতিবেদনের সঙ্গে মারধরের ভিডিওটির একটি স্ক্রিনশট যুক্ত আছে।
সব দিক বিবেচনা করে এটা স্পষ্ট যে ভিডিওটি ভারতের বিহারের, বাংলাদেশের ঢাকার নয়।
ফলে সঙ্গত কারণে, রাজধানীর খিলগাঁও থানার বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তরিকুল একজন নারীকে বাসায় ঢুকে মারধর করছে, এই দাবিযুক্ত মারধরের ভিডিওটিকে ফ্যাক্টওয়াচ ‘মিথ্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করছে।
Claim: একজন পুরুষ একজন নারীকে মারধর করছেন এমন একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে যে, রাজধানীর খিলগাঁও থানার বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তরিকুল একজন নারীকে বাসায় ঢুকে মারধর করছে।
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh