সম্প্রতি রশি দিয়ে বেঁধে মানুষ টেনে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ছে। ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, ভিডিওটি বাংলাদেশে মানুষ হত্যা করে গলায় রশি বেঁধে টেনে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য। কিন্তু ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে যে, বাস্তবে এটা বাংলাদেশের নয় বরং ভারতের পশ্চিম বর্ধমান জেলার ঘটনা। তাই ফ্যাক্টওয়াচের বিবেচনায় এই পোস্টগুলো মিথ্যা।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি খেয়াল করলে সেখানে দত্ত জুয়েলার্স নামের একটি দোকানের সাইনবোর্ড দেখা যায়, যেখানে ঠিকানা হিসেবে ‘কাঁকসা হাটতলা, পানগড় বাজার, বর্ধমান’ লেখা রয়েছে। এই ঠিকানা ব্যবহার করে গুগল ম্যাপের সাহায্যে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, দত্ত জুয়েলার্স নামের দোকানটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম বর্ধমান জেলায় অবস্থিত। এর মাধ্যমে এতটুকু প্রমাণিত হয় যে ভাইরাল ভিডিওটি বাংলাদেশের নয় বরং ভারতের।
এরপরে, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি থেকে বিভিন্ন কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে করা হয়। এর ফলে Panagarh 7Din নামের একটি ফেসবুক পেজে উক্ত ভিডিওর একটি দীর্ঘ সংস্করণ খুঁজে পাওয়া যায়। চলতি বছরের ২০ জুলাই আপলোড করা এই ভিডিওর ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয় “কাঁকসায় হাটে মোবাইল চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে দুই জন। কোমড়ে ও হাতে,পায়ে দড়ি বেঁধে খেলার মাঠে টানতে টানতে নিয়ে যাওয়া হলো।পরে পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে।”
পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম বর্ধমান থেকে পরিচালিত ‘আমার কথা’ নামের একটি নিউজ পোর্টাল থেকে এই ঘটনা সম্পর্কিত একটি রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয় যে পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসা থানা সংলগ্ন কাঁকসা হাটে ফোন চুরি করে দুই কিশোর পালানোর চেষ্টা করে। তখন সেখানে উপস্থিত জনতা ওই দুই যুবককে তাড়া করে ধরে ফেলে। এরপর তাদের রশি দিয়ে বেঁধে টেনে নিয়ে গিয়ে মাঠে একটি গোলপোস্টের সাথে বেঁধে মারধর করা হয়। কাঁকসা থানার পুলিশ এই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই দুই কিশোরকে জনতার রোষ থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
তাছাড়া, ‘রশি দিয়ে বেঁধে মানুষ টেনে নিয়ে যাওয়ার ভিডিওটি বাংলাদেশের’ এই দাবির সমর্থনে নির্ভরযোগ্য কোনো মাধ্যম থেকে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
যেহেতু, আলোচিত ঘটনাটি বাংলাদেশের নয়, সঙ্গত কারণে ফ্যাক্টওয়াচ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির উপর ভিত্তি করে করা দাবিটিকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
Claim: সম্প্রতি রশি দিয়ে বেঁধে মানুষ টেনে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ছে। ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, ভিডিওটি বাংলাদেশে মানুষ হত্যা করে গলায় রশি বেঁধে টেনে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য।
Claimed By: Facebook users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh