সম্প্রতি খাগড়াছড়িতে ঘটে যাওয়া সহিংস পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে ফেসবুকে অন্তত দুটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়তে দেখা যাচ্ছে, যেগুলো খাগড়াছড়ির নয়। একটি ভিডিওর ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, খাগড়াছড়ি মহাজন পাড়ার রাতের দৃশ্য এটি। অন্যটির ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, খাগড়াছড়ি মডেল মসজিদে আগুন লাগিয়ে দিলো পাহাড়ে অবস্থানকারী “উপজাতিরা”। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রথম ভিডিওটি গত মাসের ইন্দোনেশিয়া আন্দোলনের সময়ের। দ্বিতীয়টি দিনাজপুরের একটি বিনোদন পার্কে হামলা-আগুন-লুটপাটের। খাগড়াছড়িতে এক মারমা কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে ওঠে ঐ এলাকা। এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জেলাটিতে বসবাসরত দুইপক্ষের মধ্যে সহিংস উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে গত ২৮ সেপ্টেম্বর ঐ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এসব পুরোনো ভিডিও মিথ্যা ক্যাপশনে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিও – ১
খাগড়াছড়ির মহাজন পাড়ায় ২৭ সেপ্টেম্বর রাতের ঘটনা উল্লেখ করা পোস্টগুলোর কয়েকটি এখানে, এখানে, এখানে।
অনুসন্ধান
ভিডিওটির বিভিন্ন কি-ফ্রেমের সাহায্যে রিভার্স ইমেজ সার্চে ফেসবুকে একটি পোস্ট পাওয়া যায়। এই আইডিটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এটি পরিচালনা করা হয়, ইন্দোনেশিয়ার বেকাসি (Bekasi) থেকে। গত ৩১ আগস্ট এখানে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। পোস্টটির কমেন্টবক্সে একজন ইন্দোনেশীয় ভাষায় কমেন্ট করে জানতে চান, ভিডিওটি কোন এলাকার? কমেন্টের উত্তরে আইডিটি থেকে বলা হয়, এটি টেগাল নামে একটি এলাকা থেকে ধারণ করা।
পরবর্তীতে এই কমেন্টের সূত্রে টেগাল নিয়ে অনুসন্ধানে দেখা যায়, এটি ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাভার উত্তরপশ্চিমে অবস্থিত একটি শহর। এই সূত্রে অনুসন্ধানে গুগল ম্যাপের সাহায্যে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির জিও লোকেশন পাওয়া যায়।
এতে স্পষ্ট দেখা যায় যে, ভিডিওটির স্থান ইন্দোনেশিয়ার সুরাকারতা শহরের নাগারসোপুরো নামের একটা জায়গা। ফেসবুকে খাগড়াছড়ির দাবিতে ছড়ানো ভিডিওটির সঙ্গে এই ভিডিওর সাদৃশ্য রয়েছে। অর্থাৎ এটি খাগড়াছড়ির ভিডিও নয়।
ভিডিও-২
অনুসন্ধান
দ্বিতীয় ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে একটি মসজিদের মতো স্থাপনায় আগুন জ্বলছে এবং সেনাবাহিনীর সশস্ত্র সদস্যগণ টহল দিচ্ছেন। ক্যাপশনে মসজিদ-সদৃশ স্থাপনাটিকে খাগড়াছড়ির মডেল মসজিদ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হচ্ছে ‘উপজাতি সন্ত্রাসী’রা আগুন দিচ্ছে।
ভিডিওটির বিভিন্ন কি-ফ্রেমের সাহায্যে রিভার্স ইমেজ সার্চে প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটির শিরোনাম- “অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে দিনাজপুরে বিনোদন পার্কে হামলা-আগুন-লুটপাট”।
ঘটনাটি ঘটেছে ২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট। প্রতিবেদনের সঙ্গে একটি ছবি যুক্ত রয়েছে, ক্যাপশনে বলা হয়েছে, দিনাজপুরের বিরলে ‘জীবন মহল’ বিনোদনকেন্দ্রে হামলা, লুটপাটের একপর্যায়ে মেডিটেশন সেন্টারে অগ্নিসংযোগ করা হয়। আলোচিত ভিডিওটি এবং এই ছবিটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, দুটি একই স্থানের।
এ ছাড়া খাগড়াছড়ির মডেল মসজিদে আগুন দেওয়ার দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটিতে সংবাদ সংস্থা ইউএনবির লোগো দেখা যায়। এই সূত্রে খুঁজে সংবাদ সংস্থাটির ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিওটি পাওয়া যায়। গত ২৯ আগস্ট ভিডিওটি এখানে পোস্ট করা হয়।
অর্থাৎ এটি খাগড়াছড়ির কোনো জায়গা নয়। কাজেই, ইন্দোনেশিয়া এবং দিনাজপুরের ভিডিও খাগড়াছড়ির বলে দাবি করা পোস্টগুলোকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হলো।
Claim: সম্প্রতি খাগড়াছড়িতে ঘটে যাওয়া সহিংস পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে ফেসবুকে অন্তত দুটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়তে দেখা যাচ্ছে, যেগুলো খাগড়াছড়ির নয়। একটি ভিডিওর ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, খাগড়াছড়ি মহাজন পাড়ার রাতের দৃশ্য এটি। অন্যটির ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, খাগড়াছড়ি মডেল মসজিদে আগুন লাগিয়ে দিলো পাহাড়ে অবস্থানকারী “উপজাতিরা”।
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh