সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ করা ৪ হাজার ৯৭৮ জন হাজিকে বেঁচে যাওয়া ৮ কোটি ২৮ লাখ ৯০ হাজার ১৮৩ টাকা ফেরত দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। গতকাল রোববার (১৩ জুলাই) সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ২০২৫ সালের হজ ব্যবস্থাপনা, অর্জন ও আগামী হজ মৌসুমের পরিকল্পনা ইস্যুতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তার এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে দাবি করা হচ্ছে, বাংলাদেশে এবারই প্রথম হাজিদের টাকা ফেরত দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়, সরকারি ব্যবস্থাপনায় হাজিদের টাকা ফেরত দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২২ ও ২০২৩ সালেও ফেরত দেওয়া হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, প্রতি বছর এ টাকা ফেরত পেয়ে থাকেন হাজিরা।
দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারে ২০২২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ‘১০ হাজার থেকে ৪৭ হাজার টাকা পর্যন্ত ফেরত পাচ্ছেন সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীরা’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, ওই বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় অংশগ্রহণ করা হাজিদের মধ্যে ৩ হাজার ৭০০ জনের বেশি হাজিকে এ টাকা ফেরতের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্যাকেজ-১ এর প্রত্যেককে ৪৭ হাজার ৭২৬ টাকা এবং প্যাকেজ-২ এর প্রত্যেককে ১০ হাজার ২৯৩ টাকা করে ফেরত দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।
২০২২ সালে হাজিদের টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে ডেইলি স্টারে প্রকাশিত প্রতিবেদন
আরও খুঁজে ২০২৩ সালেও সরকারি ব্যবস্থাপনায় অংশগ্রহণ করা হাজিদেরকে বেঁচে যাওয়া টাকা ফেরত দেওয়ার ঘোষণার তথ্য পাওয়া যায়। ওই বছরের ৬ আগস্ট দৈনিক কালের কণ্ঠে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারী হাজিদের খাবার ও প্যাকেজের খরচ কমায় ৪৬ হাজার ৭২৫ টাকা করে ফেরতের ঘোষণা দেওয়া হয়। এরই মধ্যে অনেকে এ টাকা উত্তোলন করেছেন।
প্রতিবেদনটিতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আরও উল্লেখ করা হয়, হজ প্যাকেজ করার সময় খাবারের খরচ বাবদ একটা অংশ ধরা হয়। পরবর্তীতে খাবার বাবদ যে টাকা খরচ হয় তা ওই টাকার সঙ্গে সমন্বয় করে সাশ্রয় হওয়া টাকা হাজিদের ফেরত দেওয়া হয়। প্রতি বছর এ টাকা ফেরত পেয়ে থাকেন হাজিরা।
২০২৩ সালে হাজিদের টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে দৈনিক কালবেলায় প্রকাশিত প্রতিবেদন
২০২৩ সালে হাজিদের টাকা ফেরত দেওয়ার ঘোষণার একই তথ্য পাওয়া যায় অন্যান্য সংবাদমাধ্যম থেকেও। এ সম্পর্কিত প্রতিবেদন দেখুন দৈনিক কালবেলা, বাংলানিউজ২৪, দৈনিক বাংলা।
এসব প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এটি নিশ্চিত হওয়া যায়, সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ করা হাজিদের টাকা ফেরত দেওয়ার ঘোষণা এবারই প্রথম নয়, এর আগে বিগত সরকারের আমলেও এমন নজির পাওয়া যায়। তাই বাংলাদেশে এবারই প্রথম হাজিদের টাকা ফেরত দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্টগুলোকে ফ্যাক্টওয়াচ মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে।
Claim: বেঁচে যাওয়া টাকা ফেরত পাবেন ৪,৯৭৮ হাজী সাহেব। বাংলাদেশে এই প্রথম এমন কোনো ঘটনা দেখলাম
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh