১৬ নভেম্বর ডেমরার ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থী অভিজিৎ হাওলাদার ডেঙ্গু নিয়ে পুরান ঢাকার ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি হন। ১৮ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। ওই দিন রাতে তাঁর পরিবার ও কলেজের কিছু শিক্ষার্থী ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছে অভিযোগ তুলে হাসপাতালে ভাঙচুর চালান। ২০ নভেম্বর আবার মোল্লা কলেজের ৫০০ থেকে ৬০০ শিক্ষার্থী ওই হাসপাতালে ভাঙচুর চালান। সেদিনই সন্ধ্যায় স্থানীয় সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থীরা মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করতে আসেন। কিন্তু মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থীরা সেটা মেনে না নেওয়ায় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে সোহরাওয়ার্দী কলেজের দুই ছাত্র আহত হন। এর আগে মোল্লা কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশরাফ সামীর সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ৩ শিক্ষার্থী নিহতের দাবি করা হয়। পরে আবার মোল্লা কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থী নিহতের অভিযোগ থেকে সরে এসে আহত হওয়ার অভিযোগ করেন। মূলধারার সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার অভিযোগটি মিথ্যা।
শিক্ষার্থী নিহত হওয়া নিয়ে মিথ্যা পোস্টগুলোর কয়েকটি এখানে, এখানে, এখানে, এবং এখানে।
প্রথম আলোর ২৫ নভেম্বরের প্রতিবেদনে ডিএমপির বরাতে উল্লেখ করা হয়েছে, “পুরান ঢাকার সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ২৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে এ ঘটনায় দুজন নিহতের যে তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে, তা সঠিক নয় বলেও জানিয়েছে তারা।”
বণিকবার্তার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উল্লিখিত ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন মর্মে অনেকেই অপপ্রচার চালাচ্ছেন যা মোটেই সঠিক নয়। সংশ্লিষ্ট সবাইকে এরূপ অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।
কালবেলা তাদের প্রতিবেদনের শিরোনাম করেছে, ৩ শিক্ষার্থী নিহতের দাবি থেকে সরে এলো মোল্লা কলেজ কর্তৃপক্ষ। সমকাল প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এই শিরোনামে- “নিহত না, শতাধিক শিক্ষার্থী-শিক্ষক আহতের কথা জানাল মোল্লা কলেজ।”
সঙ্গত কারণে তিন কলেজের সংঘর্ষে শিক্ষার্থী নিহতের অভিযোগগুলোকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে ফ্যাক্টওয়াচ।
No Factcheck schema data available.
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh