শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক হামলা বলে প্রচার

182
শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক হামলা বলে প্রচার
শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক হামলা বলে প্রচার

সম্প্রতি ফেসবুকে অগ্নিকান্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে। ক্যাপশনে দাবি করা হচ্ছে বান্দরবান রুমা উপজেলার বৌদ্ধ বিহারে ইচ্ছাকৃতভাবে এই আগুন লাগানো হয়েছে। কিন্তু, ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে জানা যাচ্ছে যে, বৌদ্ধবিহারে আগুন লেগেছিল ঠিকই কিন্তু, আগুনের সূত্রপাত বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে হয়েছিল। বিহারাধ্যক্ষ ইন্দ্রাবংশ ভিক্ষু এ ব্যাপারে নিশ্চিত করেছেন। সুতরাং, ফ্যাক্টওয়াচের বিবেচনায় ভাইরাল পোষ্টগুলো বিভ্রান্তিকর।  

আলোচিত এই ভিডিওটি এক্সে ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়, যেখানে দাবি করা হয় বাংলাদেশে, উগ্রপন্থী জঙ্গি গোষ্ঠী এই বৌদ্ধ বিহারে আগুন লাগায় (অনূদিত)। মুহাম্মদ ইউনূসের শাসনামলে সংখ্যালঘুদের উপর নৃশংস আক্রমণের প্রমাণ হিসেবে ভিডিওটি সেখানে ব্যবহার করা হয়েছে।  তাই এ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য শুরুতেই একে ব্যবহার করে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। এর ফলে Ñung Mouñg নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে ধারণ করা এই অগ্নিকান্ডের একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। সেখানে উল্লেখ করা হয় বৌদ্ধবিহারটি বান্দরবানের রুমা উপজেলার পাইন্দু ইউনিয়নের মংশৈপ্রু পাড়ায় অবস্থিত। সেখানে আগুন লাগার কারণ হিসেবে শর্টসার্কিটকে দায়ী করা হয়।  

এই সূত্র অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক কিছু কি-ওয়ার্ড ধরে অনুসন্ধান করে প্রথম আলোর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ এই অগ্নিকান্ড সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।  সেখানে উল্লেখ করা হয় বৌদ্ধবিহারটি বান্দরবানের রুমা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে পাইন্দু ইউনিয়নের মংশৈপ্রু পাড়ায় অবস্থিত। উপযুক্ত সড়ক না থাকায় সেখানে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যাওয়ার মতো কোনো অবস্থা ছিল না। তাছাড়া, বৌদ্ধবিহারটির কাঠামো কাঠ এবং বাঁশ দ্বারা নির্মান করা ছিল। অনেক বেশি বাতাস থাকার কারণে পাড়াবাসী চেষ্টা করেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। আগুন লাগার পর পাড়ার বাসিন্দারা পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। বিহারাধ্যক্ষ ইন্দ্রাবংশ ভিক্ষু প্রথম আলোর কাছে আগুনের সূত্রপাত হিসেবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের কথা উল্লেখ করেন।  

প্রথম আলো ছাড়া দেশের আরও কিছু মূলধারার সংবাদমাধ্যম বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর, দৈনিক কালবালা, দৈনিক জনকণ্ঠ এবং ডিবিসি নিউজও এই ঘটনা সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানেও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বৈদ্যুতিক তার থেকে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত। কিন্তু ‘সাম্প্রদায়িক হামলার কারণে এই অগ্নিকান্ডটি ঘটেছে’- এই দাবির সমর্থনে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।  

সুতরাং, সবকিছু বিবেচনা করে ফ্যাক্টওয়াচ আলোচিত পোষ্টগুলোকে বিভ্রান্তিকর হিসেবে চিহ্নিত করেছে। 

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এমন কিছু পোষ্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে। 

Claim:
সম্প্রতি ফেসবুকে অগ্নিকান্ডের একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে বান্দরবান রুমা উপজেলার বৌদ্ধ বিহারে ইচ্ছাকৃতভাবে এই আগুন লাগানো হয়েছে।

Claimed By:
Facebook users

Rating:
False

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে

এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে
ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh