জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। সাইপ্রাসের কূটনীতিক আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসের বিপক্ষে নির্বাচন করে তিনি জয় লাভ করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে একটি তথ্য শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, জাতিসংঘের সভাপতি নির্বাচনে বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দিয়েছে পাকিস্তান আর বিপক্ষে ভোট দিয়েছে ভারত। কোনো কোনো পোস্টে বাংলাদেশের পক্ষে-বিপক্ষে ভোটের ক্ষেত্রে আরও কিছু দেশের নামও যোগ করা হয়েছে। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয় গোপন ভোটের মাধ্যমে। কোন দেশ কার পক্ষে বা বিপক্ষে ভোট দিয়েছে সেটি জানা যায় না। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, সংস্থাটির কার্যবিধির ৯২ নম্বর বিধান অনুসারে, নির্বাচন গোপন ভোটে অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রার্থীদের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন ব্যবস্থা থাকবে না।
দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের নির্বাচিত হওয়া নিয়ে একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ‘গত ২ জুন ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত গোপন ভোটে খলিলুর রহমান ৯৯ ভোট এবং মি. কাকোরিস ৯১ ভোট পান। মোট ১৯০টি বৈধ ভোট পড়ে; কোনো ভোট বাতিল হয়নি এবং কোনো সদস্য রাষ্ট্র ভোটদান থেকে বিরত থাকেনি।’
প্রতিবেদনটিতে খলিলুর রহমান বা কাকোরিসকে কারা ভোট দিয়েছেন এই সম্পর্কিত কোনো তথ্য নেই।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য ডনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, জাতিসংঘের কার্যবিধি অনুযায়ী, সদস্য রাষ্ট্রগুলো ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্তে একমত না হলে নির্বাচন গোপন ব্যালটের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে জয়ী হতে হলে একজন প্রার্থীকে উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের ভোটের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে হয়।
এই প্রতিবেদনেও খলিলুর রহমানকে পাকিস্তানের ভোট দেওয়ার ব্যাপারে কোনো তথ্য নেই।
পরবর্তীতে আরও খোঁজে জাতিসংঘের কার্যবিধি সম্পর্কিত বিধানগুলো পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৯২ নম্বর বিধানটিতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, ‘All elections shall be held by secret ballot. There shall be no nominations.’।
অর্থ্যাৎ, বিধান অনুযায়ী, নির্বাচন গোপন ভোটে অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রার্থীদের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন ব্যবস্থা থাকবে না বা সভাকক্ষে প্রার্থীদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব বা সমর্থন করার (nomination) কোনো প্রক্রিয়া নেই; সদস্য রাষ্ট্রগুলো সরাসরি গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেয়।
অর্থাৎ, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের পক্ষে কে ভোট দিয়েছে বা বিপক্ষে কে ভোট দিয়েছে সেটি জানা সম্ভব নয়। যেহেতু ভোট হয় গোপন ব্যালটে।
এছাড়া যারা এই দাবিটি করছেন তারাও নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ দিচ্ছেন না। অর্থ্যাৎ, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এই দাবিগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেই প্রতীয়মান হয়। তাই ফ্যাক্টওয়াচ দাবিটিকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে।
Claim: জাতিসংঘের সভাপতি নির্বাচনে বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দিয়েছে রাজাকার পকিস্তান আর বিপক্ষে ভোট দিয়েছে বন্ধু রাষ্ট্র ভারত
Claimed By: Facebook users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh