যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও রাজনীতিবিদ বিবেক গণপতি রামাস্বামীকে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত করার দাবিতে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দাবিটির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। বরং গত বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত হিসেবে আসছেন দেশটির সিনিয়র ফরেন সার্ভিস সদস্য ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন।
প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে নিউজ পোর্টাল বিডি নিউজ২৪-এ বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ নিয়ে একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। গত বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) ‘ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সিনিয়র ফরেন সার্ভিস সদস্য ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন ১১ জানুয়ারি থেকে শার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স, অ্যাড ইন্টেরিম হিসেবে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে যোগ দেবেন।
প্রতিবেদনটি থেকে আরও জানা যায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বাংলাদেশে তার দেশের রাষ্ট্রদূত পদে পিটার হাসের উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত করেছিলেন বেইজিংয়ে মার্কিন দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন ডেভিড স্লেটন মিলকে। যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পাওয়ার আগে প্রেসিডেন্ট মনোনীত প্রার্থীকে সেনেটের শুনানিতে হাজির হতে হয়। সেই শুনানি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ডেভিড মিলের ঢাকায় আসা হচ্ছে না।
সে কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেওয়ার আগ পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের জন্য ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনকে ‘ভারপ্রাপ্ত’ হিসেবে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।
ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ওয়েবসাইটেও ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনের বাংলাদেশে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার ব্যাপারে দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি পাওয়া যায়।
বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও রাজনীতিবিদ বিবেক গণপতি রামাস্বামীকে বাংলাদেশে দেশটির রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেওয়ার দাবিটির পক্ষে কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। বিবেক গণপতি রামাস্বামীর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট, তার ওয়েবসাইটেও এমন কোনো তথ্য তিনি দেননি।
বরং যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএনে গত বছরের ১২ নভেম্বরে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিবেক গণপতি যুক্তরাষ্ট্রের আরেক টেক জায়ান্ট ইলন মাস্কের সঙ্গে দেশটির নতুন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট ইফেসিয়েন্সি’’ নামে নতুন একটি বিভাগের দায়িত্ব পালন করবেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিয়োগ নিয়ে একটি স্টেটমেন্টও দিয়েছেন, যা বিবেক গণপতি গত বছরের ১৩ নভেম্বর তার ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন।
প্রসঙ্গত, বিবেক গণপতি রামাস্বামীর বাবা-মা যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় অভিবাসী। তারা ১৯৭০ এর দশকে ভারতের কেরালা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যান। সেখানেই ১৯৮৫ সালে বিবেক গণপতি রামাস্বামীর জন্ম।
সুতরাং এটি নিশ্চিত যে, বিবেক গণপতি রামাস্বামী নয়, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন দেশটির সিনিয়র ফরেন সার্ভিস সদস্য ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন। সার্বিক বিবেচনায় ফ্যাক্টওয়াচ বিবেক গণপতি রামাস্বামীর বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার দাবিটিকে মিথ্যা হিসেবে সাব্যস্ত করছে।
Claim: ভারতীয় বংশোদ্ভূত কূটনীতিক ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘনিষ্টজন বিবেক গণপতি রামাস্বামীকে বাংলাদেশে আমেরিকার নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh