সম্প্রতি ফেসবুকে ৩৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, ‘বিএনপি ও জামাতের মব সন্ত্রাসীরা’ একটি মেয়েকে ধর্ষণ করে হত্যা করে রেখে গেছে। ভিডিওটিতে এক তরুণীকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। সেখানে পুলিশের ইউনিফর্ম পরিহিত কয়েকজন লোককে এই তরুণীকে ঘিরে বিভিন্ন 'পুলিশি' কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশেই এই তরুণীর বাবা দাবি করে একজনকে আহাজারি করতে দেখা যায়। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভিডিওটি সাজানো, কোনো বাস্তব ঘটনার নয়। 'শর্ট ফিল্ম বিডি' নামের একটি পেজের কিছু কলা-কুশলী এই ভিডিওটি তৈরি করেছেন। পেজটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন আর্টিস্ট বিষয়টি ফ্যাক্টওয়াচকে নিশ্চিত করেছেন।
দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে ভাইরাল ভিডিওটিতে ‘Short Film BD’ লেখা একটি লোগো দেখা যায়। এই লোগোর সূত্রে ফেসবুকে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে উক্ত নামে একটি পেজ পাওয়া যায়। ‘শর্ট ফিল্ম বিডি’ নামের পেজটির পরিচয়ে লেখা, পেজটিতে বিভিন্ন ধরনের শর্ট ফিল্ম, নাটক প্রচার করা হয়।
এতে গত ২০ জুন ‘মৌসুমীর সাথে কি হলো‘ ক্যাপশনে পোস্ট করা প্রায় সাড়ে ৪ মিনিটের একটি ভিডিও পাওয়া যায়। এটির ৩০ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিট ১৫ সেকেন্ড পর্যন্ত অংশের সঙ্গে ‘বিএনপি ও জামাতের মব সন্ত্রাসীরা’ একটি মেয়েকে ধর্ষণ করে হত্যা করে রেখে গেছে দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটির মিল রয়েছে।
পেজটি ঘুরে দেখা যায়, এতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন অপরাধমূলক নাতিদীর্ঘ ভিডিও কনটেন্ট পোস্ট করা হয়। এসব কনটেন্টে পুলিশের ইউনিফর্ম পরিহিত একই ব্যক্তিদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
পেজটিতে যোগাযোগের জন্য একটি ফোন নম্বরও রয়েছে। ফ্যাক্টওয়াচ থেকে এই নম্বরে যোগাযোগ করা হলে আশরাফ নামের এক ব্যক্তি ফোন ধরেন। তিনি নিজেকে পুলিশের সাবেক কর্মকর্তা দাবি করে জানান, তিনি ও তার টিম ক্রাইম পেট্রোল ধরনের কনটেন্ট তৈরি করেন এবং ফেসবুকে প্রচার করেন। ‘মৌসুমীর সাথে কি হলো’ ক্যাপশনে পোস্ট করা ভিডিওটি এমনই একটি কনটেন্ট। এটি বাস্তব কোনো ঘটনা নয়।
ফলে এটি নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ‘বিএনপি ও জামাতের মব সন্ত্রাসীরা’ একটি মেয়েকে ধর্ষণ করে হত্যা করে রেখে গেছে দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি বাস্তব ঘটনা নয়। তাই ফ্যাক্টওয়াচ দাবিটিকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে।
Claim: সম্প্রতি ফেসবুকে ৩৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, ‘বিএনপি ও জামাতের মব সন্ত্রাসীরা’ একটি মেয়েকে ধর্ষণ করে হত্যা করে রেখে গেছে। ভিডিওটিতে এক তরুণীকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। সেখানে পুলিশের ইউনিফর্ম পরিহিত কয়েকজন লোককে এই তরুণীকে ঘিরে বিভিন্ন 'পুলিশি' কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশেই এই তরুণীর বাবা দাবি করে একজনকে আহাজারি করতে দেখা যায়।
Claimed By: Facebook users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh