সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর ক্যাপশনে দাবি করা হচ্ছে, এটা ইসলামপুর কাচ্চি বিরিয়ানি নামের একটি দোকানে কুকুরের মাংস ব্যবহার করার দৃশ্য। কিন্তু ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, ভিডিওটি ভিয়েতনামের। সেখানে কুকুর চুরির সন্দেহে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। কর্তৃপক্ষ তাদের কাছ থেকে ১২টি মৃত কুকুর উদ্ধার করে। তাই ফ্যাক্টওয়াচের বিবেচনায় আলোচিত দাবিটি ভিত্তিহীন।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি থেকে বিভিন্ন কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে fightdogmeat_dot_com নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে ভাইরাল ভিডিওটির অনুরূপ একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট আপলোড করা এই ভিডিওর ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয় যে, ভিডিওটি ভিয়েতনামের কা মাউ (Ca Mau) প্রদেশের।
এই সূত্র অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক কিছু কি-ওয়ার্ড ধরে অনুসন্ধান করে ভয়েস অফ ভিয়েতনাম নামের একটি সংবাদমাধ্যমে এই ঘটনা সম্পর্কিত একটি রিপোর্ট খুঁজে পাওয়া যায়। এই রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত ছবির সাথে রিভার্স ইমেজ সার্চের সময় ব্যবহৃত কি-ফ্রেম মিলে যায়। রিপোর্টটি থেকে আরও উল্লেখ করা হয় যে ঘটনাটি ভিয়েতনামের কা মাউ প্রদেশে ঘটেছে, যেখানে পুলিশ দুইজন কুকুর চোরকে গ্রেপ্তার করে। চোরদের কাছ থেকে ১২টি মৃত কুকুর এবং অন্যান্য উপকরণও জব্দ করা হয়।
ভিয়েতনামের গিয়া রাই ওয়ার্ড পুলিশের (Gia Rai Ward Police) একটি ইউনিট কা মাউ প্রদেশ পুলিশের (Ca Mau province police) ক্রিমিনাল বিভাগের সাথে সমন্বয় করে কা মাউ প্রদেশে কুকুর চুরির সাথে যুক্ত দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। গিয়া রাই ওয়ার্ড পুলিশের মতে, সম্প্রতি এই এলাকায় কুকুর চোরদের একটি দল আবির্ভূত হয়েছে যারা সংগঠিতভাবে কাজ করছে। চলতি বছরের ৩ আগস্ট একটি মোটরসাইকেলে দুইজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দুটি কালো প্লাস্টিকের ব্যাগ বহন করতে দেখা যায়। এরপর, কর্তৃপক্ষ ব্যাগের ভেতরে ১২টি মৃত কুকুর এবং কুকুর চুরি করার জন্য ব্যবহৃত অনেক সরঞ্জাম জব্দ করে।
অন্যদিকে নির্ভরযোগ্য কোনো সংবাদমাধ্যমে ‘ইসলামপুর কাচ্চি বিরিয়ানি নামের কোনো দোকানে বিরিয়ানিতে কুকুরের মাংস ব্যবহার করা হয়’ – এই সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সঙ্গত কারণে ফ্যাক্টওয়াচ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির উপর ভিত্তি করে করা দাবিটিকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
Claim: সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর ক্যাপশনে দাবি করা হচ্ছে, এটা ইসলামপুর কাচ্চি বিরিয়ানি নামের একটি দোকানে কুকুরের মাংস ব্যবহার করার দৃশ্য।
Claimed By: Facebook users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh