একটি মসজিদ-সদৃশ স্থাপনা ভাঙচুরের ভিডিও শেয়ার দিয়ে ফেসবুকের বেশ কিছু পোস্টে দুটি ভিন্ন দাবি করা হচ্ছে। একই ভিডিওর ক্যাপশনে কিছু পোস্টে বলা হচ্ছে, নোয়াখালীর মসজিদে হামলা করা হয়েছে। আবার কিছু পোস্টে বলা হচ্ছে, জামাত-শিবির মসজিদ ভাঙচুর করছে বিএনপিকে দোষারোপ করার জন্য। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, ভিডিওটি দিনাজপুরে জীবন মহল পার্ক ও জীবনীয়া দরবার ভাঙচুরের। নোয়াখালীতে কোনো মসজিদ ভাঙচুরের নয়।
নোয়াখালীর মসজিদে হামলার দাবিতে ছড়ানো পোস্টগুলোর কয়েকটি এখানে, এখানে, এখানে।
ভিডিওটির বিভিন্ন কি-ফ্রেমের সাহায্যে রিভার্স ইমেজ সার্চে চ্যানেল আই অনলাইনের একটি ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া যায়। “দিনাজপুরে জীবন মহল ও জীবনীয়া দরবার ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ”- এই শিরোনামের প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, দিনাজপুরের ঐ এলাকায় একটি পার্ক এবং একটি দরবার শরীফ রয়েছে। সেখানে ‘অসামাজিক কার্যকলাপ’ হয় এই অভিযোগে তৌহিদি জনতা ঐ ভাঙচুর চালায়। অর্থাৎ মসজিদ-সদৃশ যে স্থাপনায় ভাঙচুর চালানো হয়েছে সেটি দিনাজপুরের একটি দরবার শরীফ, মসজিদ নয়। ঘটনাটি নোয়াখালীরও নয়।
পরবর্তী অনুসন্ধানে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে ‘প্রথম আলো’র ২০২৫ সালের ২৮ আগস্টে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এই প্রতিবেদন থেকে তৌহিদি জনতার পক্ষে মাওলানা হাফিজুরের বরাতে জানা যায়, “জীবন চৌধুরীর নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে জীবন মহলে অসামাজিক কাজ এবং দরবার শরিফের নামে ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ চলছে। আমরা শুধু শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে গিয়েছিলাম।” অর্থাৎ এই ভাঙচুরের ঘটনাটি, ‘বিএনপিকে দোষারোপ করার জন্য জামাত’ করেছে বলে, কোনো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
এর আগেও দিনাজপুরের ঐ পার্ক ও দরবারে ভাঙচুরের ঘটনায় ভিন্ন দাবিতে অনলাইনে গুজব ছড়িয়েছিল। এ নিয়ে একটি ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন দেখুন, এখানে।
কাজেই, সবদিক বিবেচনা করে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, আলোচিত ভিডিওটির সঙ্গে নোয়াখালীর মসজিদ ভাঙচুর অথবা বিএনপিকে দোষারোপের কোনো সম্পর্ক নেই। ফলে সঙ্গত কারণে, এ ধরণের দাবিযুক্ত ফেসবুক পোস্টগুলোকে মিথ্যা হিসেবে সাব্যস্ত করছে ফ্যাক্টওয়াচ।
Claim: একটি মসজিদ-সদৃশ স্থাপনা ভাঙচুরের ভিডিও শেয়ার দিয়ে ফেসবুকের বেশ কিছু পোস্টে দুটি ভিন্ন দাবি করা হচ্ছে। একই ভিডিওর ক্যাপশনে কিছু পোস্টে বলা হচ্ছে, নোয়াখালীর মসজিদে হামলা করা হয়েছে। আবার কিছু পোস্টে বলা হচ্ছে, জামাত-শিবির মসজিদ ভাঙচুর করছে বিএনপিকে দোষারোপ করার জন্য।
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh