খাটিয়ার সঙ্গে বেঁধে রাখা এক ব্যক্তির হাত পায়ে আগুনের ছেঁকা দেওয়ার একটি ভিডিও সম্প্রতি ফেসবুকে শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, সারাদেশে আওয়ামী লীগের উপর চলছে প্রকাশ্যে ভয়াবহ নির্যাতন। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়। ভারত থেকে চালানো ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম আইডিতে এই ভিডিওটিসহ আরও কিছু ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এগুলো সার্কাস ধরণের গ্রাম্যমেলার ভিডিও।
ফেসবুকে শেয়ার করা ভিডিওটির সঙ্গে ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, “সারাদেশে আওয়ামীলীগের উপর চলছে প্রকাশ্যে ভয়াবহ নির্মম নির্যাতন। পাকিস্তানিরাও বাংলাদেশের মানুষের উপর এমন নির্যাতন করেনি, এই সুদখোর ইউনুছ যতটা নির্যাতন করলো আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের উপর, পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। অচিরেই জেগে উঠবে সাধারণ মানুষ।”
ভিডিওটিতে দেখা যায়, এক ব্যক্তিকে একটি খাটিয়ার সঙ্গে হাত-পা বেঁধে তার হাত-পায়ের তালুতে একটি উত্তপ্ত শাবল দিয়ে ছেঁকা দেওয়া হচ্ছে। চারপাশে অনেক মানুষ ও শিশুরা এই ঘটনা দেখছে। তাদের মুখে ভয় নেই।
ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধান
ভিডিওটির বিভিন্ন কি-ফ্রেমে রিভার্স ইমেজ সার্চে একটি ইন্টাগ্রাম পোস্ট পাওয়া যায়। মণিষ রাজন অফিসিয়াল
(manish_rajan_official) নামের আইডি থেকে এই ভিডিও আপলোড করা হয়েছে। এই ভিডিওর সঙ্গে আলোচিত ভিডিওটির সাদৃশ্য রয়েছে।
পরবর্তী অনুসন্ধানে ফেসবুকে মণিষ কুমার ( Manish Kumar) নামের একটি আইডি পাওয়া যায়। আইডির ইউআরএল এর মধ্যে (https://www.facebook.com/manish.rajan.circus) ‘সার্কাস’ শব্দটি যুক্ত আছে। এই আইডি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গ্রাম্যমেলায় সার্কাসের আদলের অনেক ভিডিও আপলোড করা হয়েছে।
আলোচিত ভিডিওর মতো একটি ভিডিও দেখুন এখানে। আলোচিত ভিডিও এবং এই ভিডিওটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, যে ব্যক্তি শাবল-সদৃশ বস্তু দিয়ে বেঁধে রাখা ব্যক্তির হাতে পায়ে আগুনের ছেঁকা দিচ্ছেন, তারা একই ব্যক্তি। দুটি ভিডিওতে অডিও একই।
এই আইডির ট্রান্সপারেন্সিতে দেখা যায়, এটি ভারত থেকে চালনো হয়।
সবদিক পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আলোচিত ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়, ভারতের।
ফলে সঙ্গত কারণে, আওয়ামী লীগের উপর নির্যাতন দাবিতে ছড়ানো পোস্টগুলোকে মিথ্যা হিসেবে সাব্যস্ত করা হলো।
Claim: খাটিয়ার সঙ্গে বেঁধে রাখা এক ব্যক্তির হাত পায়ে আগুনের ছেঁকা দেওয়ার একটি ভিডিও সম্প্রতি ফেসবুকে শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, সারাদেশে আওয়ামী লীগের উপর চলছে প্রকাশ্যে ভয়াবহ নির্যাতন।
Claimed By: facebook users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh