ফেসবুকে সম্প্রতি একটি নাচের ভিডিও শেয়ার করে বলা হচ্ছে যে, ধামরাইয়ে হবু পুত্রবধূর ভাইরাল নাচের ভিডিও দেখে বিয়ে ভেঙে দিলেন পাত্রের বাবা। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, এই নাচের ভিডিও দেখে বিয়ে ভাঙার দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
ফেসবুকে ছড়ানো পোস্টগুলোতে সূত্র হিসেবে ‘ধামরাই নিউজ ২৪ ডট কম’ নামের একটি ফেসবুক আইডির উল্লেখ আছে। এই আইডিতে অনুসন্ধান করে দেখা যায়, গত ২ জুলাই নাচের কারণে তরুণীর বিয়ে ভেঙেছে বলে একটি ঘটনার বিবরণ পোস্ট করা হয়েছে। এই পোস্টের সঙ্গে নাচের কোনো ভিডিও যুক্ত নেই। এডিট হিস্ট্রিতেও নেই। ইনবক্সে যোগাযোগ করা হলে আইডি থেকে জানানো হয়, “কোনো ভিডিও ছিল না। আমরা শুধু সংবাদটা পোস্ট করেছিলাম। কিছু উৎসুক জনতা এবং স্থানীয় কিছু সাংবাদিক নিউজটাকে রসালো করার জন্য টিকটক থেকে ডাউনলোড করে একটি ভিডিও জুড়ে দেয় নিউজটির সাথে। এবং কপিপেস্ট করে প্রচার করে। যে কারণে একটা মেয়েকে কেন্দ্র করে মিথ্যা সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে।”
আইডিটি থেকে গত ৩ জুলাই একটি ডিসক্লেইমার দিয়েছে যে, “ধামরাইয়ে হবু পুত্রবধূর ভাইরাল নাচের ভিডিও দেখে বিয়ে ভেঙ্গে দিলেন পাত্রের বাবা’ শিরোনামে গতকাল আমাদের পেইজে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়। সংবাদে কারো নাম পরিচয় উল্লেখ না থাকলেও অনেকেই ধারণা করছেন ঘটনাটি ধামরাই সরকারি কলেজের অনুষ্ঠানে নেচে ভাইরাল হওয়া মেয়েকে নিয়েই নিউজ করা হয়েছে। অথচ এটি আপনাদের ভুল ধারণা। বিয়ে ভেঙ্গেছে অন্য একটি মেয়ের। ছবির মেয়ের নয়। আমরা দায়িত্ব নিয়ে বলছি, ছবির মেয়েটির সাথে আমাদের সংবাদের মেয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। সুতরাং ধারণার উপর ভিত্তি করে এই ছবিটি বিভিন্ন গ্রুপে পোস্ট করে যারা এই মেয়েটিকে হেনস্থা করছেন তাদের পোস্টগুলো ডিলেট করার অনুরোধ করা হলো। কারো নামে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া গোনাহের কাজ। সুতরাং এমন গর্হিত কাজ থেকে বিরত থাকুন।”
৬ জুলাই তারা আরও একটি পোস্ট করে, যেখানে বলা হয়, “আমরা যাকে নিয়ে নিউজ করেছি সে মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্র কলেজের অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্রী। তার পৈত্রিক নিবাস ধামরাই হলেও ছোটসময় থেকে তার বাবার চাকুরির সুবাদে মানিকগঞ্জ থাকেন। মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে তার বিয়ে ঠিক হওয়ার পর তার বিয়ে ভাঙ্গার চেষ্টা করে তার প্রতিবেশী বখাটে নাজমুল। কারণ নাজমুল নিজেই বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু বিয়েতে মেয়ের বাবা রাজি না হওয়াতে নাজমুল ক্ষুব্ধ হয়ে পরবর্তীতে আসা সকল বিয়ের প্রস্তাব আজেবাজে কথা বলে ফিরিয়ে দেয়। নাচার অভিযোগে যে তরুণির বিয়ে ভেঙ্গেছিল সে কখনো স্কুল কলেজে নাচেনি, আর ধামরাই কলেজের যে শিক্ষার্থীর নাচ ভাইরাল হয়েছে তার বিয়েই ঠিক হয়নি। কিছু অতি উৎসুক আমাদের নিউজকে বিকৃত করে নিউজের সাথে ধামরাই সরকারি কলেজে পিঠা উৎসবের একটি নাচের ছবি মেনশন করে ভাইরাল করেছে। অথচ ওই তরুণীর সাথে আমাদের নিউজের তরুণীর কোনো সম্পর্ক নেই।”
পরবর্তীতে বিস্তারিত তথ্যের জন্য ধামরাই থানায় যোগাযোগ করে জানা যায়, নাচের ভিডিওর মেয়েটির বড়বোন ইয়ানা আক্তার ধামরাই থানায় একটি জিডি করেছেন গত ৪ জুলাই।
জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, কলেজের পিঠা উৎসবে নেচেছিল তার ছোট বোন, সেই ভিডিও জুড়ে দিয়ে বিয়ে ভাঙার খবর ছড়ানো হয়েছে।
জিডির কপি ফ্যাক্টওয়াচের হাতে আসার পর, জিডিতে উল্লেখিত ফোন নম্বরের সূত্র ধরে ইয়ানার আক্তারের সঙ্গে কথা হয় ফ্যাক্টওয়াচের। তিনি জানান, গত জানুয়ারি মাসে কলেজের অনুষ্ঠানে নেচেছিল তার ছোট বোন। সে এবার এইচ এস সি পরীক্ষা দিচ্ছে। তার বিয়ের কোনো কথাই হচ্ছে না। তিনি বলেন, আমি ওর বড়বোন, আমাদের বাড়িতে আমার বিয়ের কথাই এখনও হচ্ছে না। ধামরাই থানায় জিডি করার কথা তিনিও জানান। জাতীয় দৈনিকেও প্রকাশিত ভুয়া খবরে তার বাবার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, আমার বাবা মারা গেছেন ৮ বছর আগে।
ধামরাই থানায় ফোন করে কথা বলতে চাইলে এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা সবুজ চন্দ্র বর্মণের সঙ্গে কথা বলতে বলা হয়। সবুজ চন্দ্র বর্মণ জানান, নাচের মেয়েটির সঙ্গে বিয়ে ভাঙার গুজবের কোন সম্পর্ক নেই। ধামরাই নিউজ ২৪ ডট কম নিউজ সংশোধন করে ডিসক্লেইমার দিয়েছে বলেও জানান তিনি। ধামরাইতে অন্য কোনো বিয়ে ভাঙার ঘটনা ঘটেছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এরকম কোন ঘটনার অভিযোগ থানায় আসেনি।
সব দিক পর্যালোচনা করে এটি নিশ্চিত হওয়া যায় যে, নাচের ভিডিওর মেয়েটির সঙ্গে ফেসবুকে বিয়ে ভাঙার যে খবরটি ছড়িয়েছে, তা মিথ্যা। ফলে সঙ্গত কারণে, এ ধরণের দাবিযুক্ত ফেসবুক পোস্টগুলোকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হলো।
সংশোধনী : ফিচারড ইমেজ এবং গুজবের উৎসর কিছু লিংক সংশোধন করা হয়েছে।
Claim: ফেসবুকে সম্প্রতি একটি নাচের ভিডিও শেয়ার করে বলা হচ্ছে যে, ধামরাইয়ে হবু পুত্রবধূর ভাইরাল নাচের ভিডিও দেখে বিয়ে ভেঙে দিলেন পাত্রের বাবা।
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh