গলা পর্যন্ত ঢাকা কালো টুপি পরা কয়েকজন ব্যক্তিকে পুলিশ নিয়ে যাচ্ছে, এ ধরনের একটি ভিডিও সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, ভারতে মুসলিম তরুণী ধর্ষণের দায়ে হিন্দু তরুণদের ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যে ঘুরতে যাওয়া একটি পর্যটক পরিবারের এক নারীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় বখাটেরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর তারা পরিবারটির ওপর হামলা চালায় এবং প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথ ধাওয়া করে তাদের গাড়িতে ভাঙচুর ও মারধর করে। এই ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে এবং ঘটনার সঠিক বিবরণ ও ধারাবাহিকতা বুঝতে অভিযুক্তদের নিয়ে ঘটনাস্থলে এই ক্রাইমের দৃশ্যটি তদন্তের জন্য পুনরায় তৈরি করে।
ভিডিওটির কয়েকটি কি-ফ্রেমের সাহায্যে রিভার্স ইমেজ সার্চে এনআই (ANI)’র একটি ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ১২ জুলাই (২০২৬) মহারাষ্ট্রের নাসিকে ইগতপুরীর ভাবালি (Bhavli Dam waterfall) বাঁধের কাছে একটি পর্যটক পরিবারকে আক্রমণের পর মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ পরে এই ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তদের সবাইকে গ্রেফতার করে। চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে আরও প্রমাণ সংগ্রহের লক্ষ্যে ‘ভাবালি বাঁধ আক্রমণ মামলা’-য় পুলিশ ক্রাইম সিন রিক্রিয়েট (ঘটনা পুনর্বিন্যাস) করেছে। এই প্রতিবেদনের সেই ভিডিওর সঙ্গে আলোচ্য ভিডিওর মিল রয়েছে।
পরবর্তীতে প্রাসঙ্গিক কি- ওয়ার্ড সার্চে দ্য হিন্দু (The Hindu) তে গত ১৫ জুলাই প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, “ভাবলি বাঁধ জলপ্রপাত এলাকার কাছে একটি পরিবারের ওপর হামলা এবং তাদের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ইগতপুরী পুলিশ নয়জনকে আটক করেছে। অভিযুক্তদের একজনের বিরুদ্ধে পূর্বে একটি হত্যার মামলা রয়েছে এবং পুলিশ আরও এক ব্যক্তির খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। অভিযোগে বলা হয়, সেখানে দুজন লোক ওই দলের একজন নারীকে উদ্দেশ্য করে সিটি বাজায় ও বখাটেপনা শুরু করে। পরিবারটি এর প্রতিবাদ জানালে অভিযুক্তরা হিংস্র হয়ে ওঠে এবং তাদের সঙ্গে পাশেই খাবারের দোকান চালানো কয়েকজনসহ আরও ৮-১০ জন যোগ দেয়। দলটি পরিবারটিকে গালাগাল করে এবং তাদের ওপর হামলা চালায়।”
এই প্রতিবেদনে পুলিশের বরাতে আরও বলা হয়, “নাসিক গ্রামীণ পুলিশের সুপারিন্টেন্ডেন্ট অব পুলিশ (SP) ড. ডি. এস. স্বামী গণমাধ্যমকে তদন্তের বিষয়টি অবহিত করেন। তিনি জানান, অভিযুক্তদের সনাক্ত ও ট্র্যাক করতে পুলিশ প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ এবং ভিডিও ফুটেজ ব্যবহার করেছে। আটককৃত ব্যক্তিরা ইগতপুরীর কাছের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা এবং তারা একে অপরের পরিচিত। যারা অভিযুক্তদের সাহায্য করেছিল বা পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছিল, তাদেরও এই মামলায় অন্তর্ভুক্ত করেছে পুলিশ।”
এই প্রতিবেদনের সঙ্গেও মুখ ঢাকা কালো টুপি পরা ব্যক্তিদের দেখা যায়।
আরও অনুসন্ধানে টাইমস অব ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এই প্রতিবেদনেও পুলিশের সঙ্গে কালো টুপি পরা ব্যক্তিদের একটি ছবি রয়েছে এবং ক্যাপশনে বলা হয়েছে – “Police recreated the Bhavali Dam attack crime scene as part of their ongoing investigation”.
উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনে ভুক্তভোগী পরিবারের একজন নারীর ভিডিও বক্তব্য পাওয়া যায়, যেখানে তিনি ধর্ষণের অভিযোগ করেননি।
কাজেই আলোচিত ভিডিওটি ক্রাইম সিন রিক্রিয়েশনের, ধর্ষণের দায়ে হিন্দু তরুণদের ফাঁসির আদেশের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। ফলে সঙ্গত কারণে, এ ধরনের ফেসবুক পোস্টগুলোকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে ফ্যাক্টওয়াচ।
Claim: গলা পর্যন্ত ঢাকা কালো টুপি পরা কয়েকজন ব্যক্তিকে পুলিশ নিয়ে যাচ্ছে, এ ধরনের একটি ভিডিও সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, ভারতে মুসলিম তরুণী ধর্ষণের দায়ে হিন্দু তরুণদের ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত।
Claimed By: Facebook Users
Rating: False
এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের
নীতি মেনে লেখা হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে।
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh