বাংলাদেশের করোনা মোকাবেলাকে কি চীনের বিশেষজ্ঞ অন্ধকারে ঢিল ছোঁড়ার মত বলেছেন?

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সম্প্রতি একটি বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার একটি প্রতিবেদন এবং একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে। গত ২০ জুন ‘বাংলাদেশে অন্ধকারে ঢিল ছোড়ার মতো কাজ হচ্ছে’ শিরোনামে প্রতিবেদনটিতে বলা হয় সম্প্রতি বাংলাদেশ সফররত চীনের করোনাভাইরাস বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান ডা. লি ওয়েন ঝিও বলেছেন, “বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি এখন ভিন্নমাত্রা পেয়েছে। ভাইরাসটি কোথায় আছে আর কোথায় নেই তা জানা দুষ্কর। এখানে কাজ হচ্ছে অনেকটা অন্ধকারে ঢিল ছোড়ার মতো। এভাবে ভাইরাস মোকাবেলা করা সত্যি কঠিন। আমরা মনে করি, যদি কার্যকর লকডাউন, দ্রুত পরীক্ষা, কন্ট্রাক্ট ট্রেসিং ও চিকিৎসার পরিধি বাড়ানো যায় তবে উত্তরণ সম্ভব।“ যুগান্তরের এই প্রতিবেদনটিকে উপজীব্য করে ‘জনপরিসর’ নামক একটি ফেসবুক পেইজ থেকে ডা. লি ওয়েন ঝিও’র একটি ছবিসহ একই উদ্বৃতি প্রকাশ করেছে। যুগান্তরের এই প্রতিবেদনটি তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহার করে গত ২২শে জুন দৈনিক প্রথম আলো’তে ‘অন্ধকারে ঢিল ছোড়া এবং ভিন্নমত দমন’ শিরোনামে আরেকটি মতামত কলামও প্রকাশ পেয়েছে।

তবে বিতর্কটির সূত্রপাত আজ সকালে Hualong Yan নামক একজন চীনা দূতাবাসের মিশন সহকারী প্রধানের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে। Hualong Yan তার পোস্টটিতে যুগান্তরের সেই প্রতিবেদনটির একটি স্ক্রিনশট ব্যবহার করে ক্যাপশনে লিখেছেন, “ভুয়া খবর। আমাদের দলনেতা কখনও এই সাংবাদিকের কাছে বা কোনও তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে লিখিত বা মৌখিকভাবে কোনো সাক্ষাৎকার দেননি। আশা করছি প্রতিবেদনটির লেখকের পক্ষ্য থেকে এর  ব্যাখা দেয়া হবে।”

তবে যুগান্তরের প্রতিবেদনটিতে উল্ল্যেখ রয়েছে “বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে ডা. লি ওয়েন ঝিওর সঙ্গে যোগাযোগ করে যুগান্তর। তিনি সুনির্দিষ্টভাবে লিখিত প্রশ্ন পাঠানোর অনুরোধ জানান। ১৫ জুন তার কাছে লিখিত প্রশ্ন পাঠানো হলে তিনি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে যুক্ত ইন্টারপ্রেটরের মাধ্যমে ১০টি প্রশ্নের উত্তর দেন। রোগীদের অবস্থা ও ভাইরাস নিয়ন্ত্রণসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি চীনের পরিস্থিতির সঙ্গে বাংলাদেশের পরিস্থিতির তুলনা করেন। চীনা প্রতিনিধি দল প্রধানের সাক্ষাৎকার গ্রহণে ভাষান্তরসহ সার্বিক সহায়তা দেন দলটির সঙ্গে সার্বক্ষণিক যুক্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রেষণে নিয়োগকৃত ইন্টারপ্রেটর পুলিশ সুপার ডা. এসএম শহীদুল ইসলাম।”

 

যদিও পুলিশ সুপার ডা. এসএম শহীদুল ইসলামের ফেসবুক পেইজে গত ১৫ জুনের একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছিলো যেখানে দেখা যাচ্ছে, চাইনিজ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল বাংলাদেশ সফরের ৬ষ্ঠ দিনে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের (সিপিএইচ) মত বিনিময় সভায় অংশগ্রহন করেছেন। এসময় চীনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল উহানে কোভিড-১৯ চিকিৎসায় তাঁদের বাস্তব অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। চীনের বিশেষজ্ঞ দল সিপিএইচ, ঢাকার পরিচালক মহোদয়, পুলিশ সুপার, সুপারিনটেনডেন্ট, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ সকল চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও পুলিশ সদস্যদের ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন।

Hualong Yan এর অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য ফ্যাক্ট ওয়াচ থেকে যুগান্তরের প্রতিবেদনটির প্রতিবেদক তহুর আহমদের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেনঃ “যিনি এই অভিযোগ করেছেন তার কাছে আপনারা আগে যাবেন। যিনি অভিযোগ করেন তা প্রমাণ করার দায়িত্ব সেই অভিযোগকারীর।“

তবে এখন অবধি চীনা দূতাবাস থেকে উক্ত বিষয় সম্পর্কিত কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়নি। তাই উক্ত প্রতিবেদনটির তথ্য সূত্র এবং Hualong Yan এর ফেসবুক স্ট্যাটাসে উল্লেখিত অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত না হওয়ায় এটি এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

 

 

 

 

 

 

 

 


তথ্যসূত্র

যুগান্তরের প্রতিবেদনটি পড়ুন এখানে

প্রথম আলোর প্রতিবেদনটি পড়ুন এখানে

জনপরিসর ফেসবুক পেইজের লিঙ্ক

Hualong Yan এর ফেসবুক স্ট্যাটাসটি পড়তে ক্লিক করুন এখানে

পুলিশ সুপার ডা. এসএম শহীদুল ইসলামের ফেসবুক পোস্টভিডিও

আপনি কি এমন কোন খবর দেখেছেন যার সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন?
কোন বিভ্রান্তিকর ছবি/ভিডিও পেয়েছেন?
নেটে ছড়িয়ে পড়া কোন গুজব কি চোখে পড়েছে?

এসবের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে জানান।
আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ fb.com/search.ulab

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *