আইনস্টাইন কি আসলেই অংকে ফেল করেছিলেন?

বিশ্ববিখ্যাত পদার্থবিদ আইনস্টাইনের জন্ম হয় ১৮৭৯ সালের মার্চের ১৪ তারিখে। আর তিনি মারা যান ১৯৫৫ সালের ১৮ এপ্রিল। তখনকার যুগে ইন্টারনেট ছিলো না। তবে প্রিন্ট মিডিয়া বেশ জনপ্রিয় ছিলো। জনপ্রিয় ছিলো রিপলি’স বিলিভ ইট অর নট নামক একটি নিউজপেপার প্যানেল। সাধারণত বিভিন্ন সংবাদপত্রের ভেতরে একটি কলামে এর দেখা মিলতো। পত্রিকার পাশাপাশি পরবর্তীতে রেডিও, টেলিভিশন, কমিক বুকসেও থাকতো অদ্ভুতরকমের সব তথ্য নিয়ে কাজ করা রিপলিসের বিভিন্ন প্রযোজনা। বর্তমানে তাদের একটি ওয়েবসাইটও রয়েছে।

আইনস্টাইনের অংকে ফেল করা সংক্রান্ত তথ্যটি রিপলি’স বিলিভ ইট অর নটের একটি পর্বে প্রকাশিত হয়। ধারণা করা হয়, সেখান থেকেই জনপ্রিয়তা পায় আইনস্টাইনের অংকে ফেল করা সংক্রান্ত ধারণাটি। জনপ্রিয় ম্যাগাজিন টাইমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৩৫ সালে প্রিন্সটনের একজন ইহুদি শিক্ষক আইনস্টাইনকে রিপলিসের একটি কলাম দেখান, যার শিরোনাম “সর্বশ্রেষ্ঠ জীবিত গণিতবিদ গণিতে ফেল করেছে”। কলামটি দেখে আইনস্টাইন হেসে ফেলেন এবং বলেন, “আমি কোনোদিন অংকে ফেল করিনি। বরং আমার পনেরো বছর বয়স হবার আগেই আমি ডিফরেন্সিয়াল আর ইন্টেগ্রাল ক্যালকুলাসে দক্ষতা অর্জন করি।”

অনলাইনে অনুসন্ধান চালিয়ে আইনস্টাইনের অংকে ফেল করা নিয়ে রিপলি’স বিলিভ ইট অর নটের একটি ছবি পাওয়া যায়। যাতে লেখা, “পদার্থবিজ্ঞানের কিংবদন্তি আলবার্ট আইনস্টাইন একটি বেসিক ম্যাথ কোর্সে একাধিকবার ফেল করেছেন। কলেজে ওঠার আগ পর্যন্ত তার ধারণা ছিলো ম্যাথ এমন কিছু একটা যেটা মানুষ খেতে পারে।”

এতো আগে ছড়িয়ে পড়া কোনোকিছুর সত্যতা পুরোপুরি যাচাই করা একটু কঠিন হয়ে পড়ে। তাই আমরা সরাসরি ছবিটি যে আসলেই রিপলিসের সেটি দাবি করতে পারি না। তবে ইতিহাস বিষয়ক বিখ্যাত ওয়েবসাইট হিস্টোরি ডট কম আমাদের কাজটাকে কিছুটা হলেও সহজ করে দেয়। আইনস্টাইনকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্যের সত্যতা যাচাই নিয়ে তাদের করা প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইনস্টাইন ছাত্র হিসেবে খুব একটা ভালো ছিলেন না। পনেরো বছর বয়সে জুরিখের একটি পলিটেকনিক স্কুলের ভর্তি পরীক্ষায় তিনি বেশ ক’টি বিষয়ে ফেল করেছেন। তবে সেগুলো উদ্ভিদবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান আর বিভিন্ন ভাষা সংক্রান্ত বিষয়। অংকে আইনস্টাইন বরাবরই ভালো ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে আবারও পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়ে সেই স্কুলে ভর্তি হয়ে যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *