জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় কি ভাইরাস বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে?

জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাত দিয়ে করোনাভাইরাস বিষয়ক তথ্যের একটি বিভ্রান্তিকর সংকলন ফেইসবুকে শেয়ার হচ্ছে।বিশ্ববিদ্যালয়টি  জানিয়েছে তারা এধরনের কোন পোস্ট দেয় নি। এর প্রকৃত উত্স বিষয়েও তারা অবগত নয়। তাদের বিবেচনা এই তথ্যগুলির বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। 


মার্চের শেষের দিকে ফেইসবুকে চিকিত্সা ও জনস্বাস্থ্য়বিজ্ঞানের শীর্ষস্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাত দিয়ে করোনাভাইরাস বিষয়ক বেশ কিছু তথ্য সম্বলিত একটি দীর্ঘ পোস্ট ফেইসবুকের বিভিন্ন একাউন্ট থেকে শেয়ার হয়, এর মধ্যে কুমিল্লা জেলা পুলিশ, সুপরিচিত এক সঙ্গীতশিল্পী এবং চিকিত্সক-ও আছেন। পোস্ট টি করোনাভাইরাস সচেতনতামূলক একটি গ্রুপেও শেয়ার করা হয়। পোস্টটি মোটের ওপর প্রসংশিত হয় কিন্তু কোথাও  এর মূল উত্‍সের হদীস পাওয়া যায় না।

একটি সাধারণ গুগুল সার্চ করতেই দেখা যায়, জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই জানানো হয়েছে তাদের নামে করোনাভাইরাস বিষয়ক তথ্যের একটি সংকলন প্রচারিত হচ্ছে, যার সাথে বিশ্ববিদ্যালয়টির আদৌ কোন সংশ্লিষ্টতা নেই।

তারা টুইটারেও এই বিষয়ে একটি বার্তা প্রকাশ করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব পেইজে ইংরেজিতে  ছড়িয়ে পড়া পোস্টের যে উদাহরণ আছে, তার সাথে বাংলায় অনুদিত পোস্টটি  মিলে যায়। যেমন, পোস্টের শুরুতেই বলা হয়েছে:

“ভাইরাস জীবন্ত প্রাণী নয়। এটি প্রোটিনের অণু (ডিএনএ) যা লিপিডের (চর্বি) মোড়কে মোড়ানো। এটা আমাদের নাক-চোখ-মুখের মাধ্যমে শরীরে ঢুকে গেলে নিজের জেনেটিক কোড বদলে ফেলে শক্তিশালী ও আত্মণাত্মক হয়ে ওঠে।”

একই কথা ইংরেজিতেও দেখা যায়:

“The virus is not a living organism but a protein molecule (DNA) covered by a protective layer of lipids (fats) which, if absorbed by the cells of the ocular, nasal or mouth mucosa, changes their genetic code (mutation) and converts them into multiplier and attacker cells.”

এই পোস্টের ব্যাপারে খটকা লাগার একটি বড় কারণ হল শুরুতেই ডিএনএ এবং করোনাভাইরাসকে ভ্রান্তভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। ডিএনএ কোন প্রোটিন নয়। ডিএনএ বা ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড থেকে ট্রান্সলেশন নামক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রোটিন তৈরী হয়। জন্স হপকিন্স এর নিজস্ব উত্স থেকেই জানা যায়  করোনাভাইরাস একটি আরএনএ ভাইরাস

জনস হপকিন্স এর মেডিসিন বিভাগ একটি বিবৃতি তে জনিয়েছে যে অনেকেই তাদের কাছে এই ব্যাপারে জানতে চেয়েছেন। তাদের বিবেচনায় এটির বিশ্বাসযোগ্যতা নেই এবং এর মূল উত্স কী, তাও তারা জানেন না। ইংরেজিতে কোন কোন ক্ষেত্রে পোস্টটির উত্স হিসেবে জনস হপকিন্স এর চিকিত্সাবিজ্ঞানী কিংবা সংক্রামক ব্যধি বিশেষজ্ঞর কথা উল্লেখ করা হয়ছে। অনেক ক্ষেত্রে বলা হয়েছে কোন এক “আইরিন কেন”-এর কথা, যিনি তার জনস হপকিন্স এ কর্মরত কন্যার কাছ থেকে তথ্যগুলি পেয়েছেন। এভাবে পোস্টটির বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরীর একটা চেষ্টা করা হয়েছে, যার কোন ভিত্তি পাওয়া যায় নি।

পোস্টটিতে সত্য মিথ্যা মিলিয়ে বিভিন্ন তথ্য আছে, যা একটি একটি করে বিশ্লেষণ না করেও পোস্ট টি অগ্রাহ্য করা যেতে পারে যেহেতু জন্স হপকিন্স মেডিসিন স্বয়ং এর বিশ্বাসযোগ্যতা নেই বলে বলেছে। বিবিসি-ও এই বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, এই ধরণের পোস্ট বিপদজনক এগুলিতে কেননা কিছু বিশ্বাসযোগ্য তথ্য দিয়ে পাঠকের আস্থা অর্জন করে এক ফাঁকে বিভ্রান্তিকর বা একেবারেই ভিত্তিহীন তথ্য ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে করোনা বিষয়ক নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে এ ধরনের “সংগৃহীত” পোস্টের দ্বারস্থ না হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং মেডিসিন বিভাগের ওয়েব সাইট দেখতে পারেন।

 

তথ্যসূত্র 

পোস্টের বিষয়ে জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্তব্য

ফেইসবুকে বাংলায় ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলো দেখুন এখানে, এখানেএখানে

ডিএনএ থেকে প্রোটিন সৃষ্টির প্রক্রিয়া

করোনাভাইরাস বিষয়ে মৌলিক তথ্য পডুন এখানে

বিবিসির প্রতিবেদন

জনস হপকিন্স এর করোনাবিষয়ক তথ্যের ওয়েবপেইজ: এখানেএখানে

আপনি কি এমন কোন খবর দেখেছেন যার সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন?
কোন বিভ্রান্তিকর ছবি/ভিডিও পেয়েছেন?
নেটে ছড়িয়ে পড়া কোন গুজব কি চোখে পড়েছে?

এসবের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে জানান।
আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ fb.com/search.ulab

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *