সন্তানের কান্না শুনে মৃত্যুর চার ঘণ্টা পরেও কি মা সত্যিই বেঁচে উঠলেন?

হ‌ংকং-এর কুইন এলিজাবেথ হাসপাতালে ‘জুলিয়া মার্থা’ নামের একজন গর্ভবতী মা সুস্থ সন্তান প্রসবের পর মারা যান। কিন্তু সন্তানের ক্রমাগত কান্না মৃত মাকে ফিরিয়ে আনে মৃত্যুর ৪ ঘণ্টা পরেও। এই গল্পটির সাথে হয়তো আমরা এতদিনে সবাই পরিচিত হতে পেরেছি। কারণ গত ৪ বছরের বেশি সময় ধরে অসংখ্য পত্রপত্রিকায়, ব্লগে এবং সামাজিক মাধ্যমগুলোতে সংবাদটি ছাপানো হচ্ছে। ফ্যাক্টওয়াচের বিশ্লেষণে এই সংবাদটি ভুয়া ও ভিত্তিহীন।

‘এই পৃথিবীতে কত বিচিত্র ঘটনাই যে ঘটে! সমস্ত ঘটনার কোনও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও সব সময় মেলে না। তেমনই এক ব্যাখ্যার অতীত ঘটনা ঘটে গিয়েছে হ‌ংকং-এর কুইনস এলিজাবেথ হাসপাতালে, যেখানে সদ্য প্রসব করা সন্তানের আকুল কান্না মৃত্যুর জগত থেকে ফিরিয়ে এনেছে এক মৃত মা-কে।’- হুবহু এই একই লেখা ছাপানো হয়েছে বহুবার, ছড়ানো হয়েছে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে। একটি গুজবকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পত্রিকাগুলো প্রায় নিয়মিতভাবেই সংবাদটি ছাপিয়েছে। একুশেরনিউজ নামের একটি অনলাইন পত্রিকায় এই অভিন্ন সংবাদটি এসেছে ২৬শে জুলাই, যা এখন অব্দি পঠিত ৩০০ বারেরও বেশি। ফ্যাক্টওয়াচ সূক্ষ্ম অনুসন্ধান চালিয়েও উল্লেখ্য তথ্যটির কোন নির্ভরযোগ্য উৎস খুঁজে পায়নি। ২০১৭ থেকে এটি প্রকাশিত হতে দেখা গেলেও ২০১৬ সালের একটি ভিডিওর সন্ধান মেলে সামাজিক মাধ্যম ইউটিউবে। কিন্তু ভিডিওতে মায়ের মৃত্যুর কোন প্রমাণ নেই। চারপাশের পরিবেশ এবং পেশাদার স্বাস্থ্যকর্মীদেরও খুবই স্বাভাবিক লেগেছে। এছাড়া, মহিলাটি ৪ ঘণ্টা মৃত থাকার পর পুনরায় জীবিত হলে আসেপাশের স্বাস্থ্যকর্মীদের অন্তত উল্লসিত হতে দেখা যেত। প্রসবের পর মায়ের ক্লান্ত হয়ে পড়ার সম্ভাব্যতাই এখানে প্রত্যক্ষ।

‘ভিনদ ক্যাল’ নামের ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিওটি প্রকাশিত হয় ১২ই এপ্রিল, ২০১৬ তে। মোট ১২৬ জন মতামত দানকারীর মধ্যে প্রায় সবাই মৃত্যুর পুরো ব্যাপারটিকে ভুয়া বলে জানিয়েছে।

 

 

 

 

 

 

 

 


বার্তাটিতে যে ছবি প্রকাশ করা হয়েছে, বহুল ব্যবহৃত সে ছবিটিও অপ্রাসঙ্গিক ও ভুয়া। গুগল রিভার্স-ইমেজ ব্যবহার করে ফ্যাক্টওয়াচ ছবিটির উৎসের সন্ধান পায় নি। এই ছবি ও ভিডিও-এর সত্যতা উদ্ঘাটন করতে ফ্যাক্টওয়াচ প্রতিনিধি হ‌ংকং-এর কুইন এলিজাবেথ হাসপাতালে যোগাযোগ করে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এই তদন্তটি তাদের সেবা পরিসীমা বহির্ভূত হওয়ায়, তারা কোন প্রকার সহযোগিতা করতে পারছে না।

অন্যান্য পত্রিকার প্রতিবেদনগুলো দেখুন:

আমাদেরসময় ডট কম-এর প্রতিবেদনটি পড়তে ছবিতে ক্লিক করুন।
এএনএম নিউজ-এর প্রতিবেদনটি পড়তে ছবিতে ক্লিক করুন
ডেইলিহান্ট-এর প্রতিবেদনটি পড়তে ছবিতে ক্লিক করুন

অনুসন্ধান প্রক্রিয়া চলাকালীন প্রায় একই ধাঁচের আরেকটি সংবাদ আমাদের হাতে আসে। শেলি কাওলি নামের একজন মহিলা প্রসবের সময় কোমায় চলে গিয়েছিলেন, কিন্তু উত্তর ক্যারোলিনা হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীরা শিশুটিকে তার মায়ের সংস্পর্শে আনার পর কওমি কোমা থেকে ফিরে আসে। তার স্বামী দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে জানিয়েছেন, “তাদের আশা ছিল যে শেলি যদি শিশুর গন্ধ পেতে পারে, বাচ্চাকে অনুভব করতে পারে, বাচ্চাকে শুনতে পায়- এমনকি কোমাতেও- তবে এটি তার লড়াইয়ের একটি কারণ হয়ে উঠবে।” সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি পড়ুন এখানে

আপনি কি এমন কোন খবর দেখেছেন যার সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন?
কোন বিভ্রান্তিকর ছবি/ভিডিও পেয়েছেন?
নেটে ছড়িয়ে পড়া কোন গুজব কি চোখে পড়েছে?

এসবের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকে জানান।
আমাদেরকে ইমেইল করুনঃ contact@fact-watch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ fb.com/search.ulab

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *