কোরবানির পশু ছিনতাইয়ের ঘটনাটি বাংলাদেশের নয়

Published on: May 30, 2024

যা ছড়িয়েছে: “প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্র উঁচিয়ে কোরবানির পশু ছিনতাই, ভিডিও ভাইরাল

যে ধারণা দেয়া হচ্ছে: ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশে!

ফ্যাক্টওয়াচের সিদ্ধান্ত: দাবিটি বিভ্রান্তিকর। কারণ, অস্ত্র উঁচিয়ে কোরবানির পশু ছিনতাইয়ের ঘটনাটি বাংলাদেশের নয়। মূল ঘটনাটি ঘটেছে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাজধানী লাহোরের সমনাবাদ অঞ্চলে। কিন্তু ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এসব সংবাদের শিরোনামে নির্দিষ্ট কোনো দেশ বা স্থানের উল্লেখ নেই। যে কারণে সংবাদটি দেখে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটি হয়তো বাংলাদেশের ঘটনা। যার ফলে সাধারণ ব্যবহারকারীদের অনেকে বিষয়টি বাংলাদেশের ঘটনা ভেবে শেয়ার করেছেন।

ফেসবুক ভাইরাল এমন কিছু লিংক বাছাই করা হয়েছে। যা দেখতে পাবেন এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে

ফেসবুকে আলোচিত সংবাদটি “প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্র উঁচিয়ে কোরবানির পশু ছিনতাই, ভিডিও ভাইরাল” বা “অ’স্ত্র’ ঠেকিয়ে প্রাইভেটকারে কোরবানির ছাগল ছিনতাই” শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদটির সাথে একটি ফটোকার্ড ব্যবহার করা হয়েছে। উক্ত সংবাদের বিস্তারিত অংশে দেখা যায়, পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাজধানী লাহোরের সমনাবাদ অঞ্চলে ঘটনাটি ঘটেছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের একটি গণমাধ্যম উক্ত ঘটনাটি পাকিস্তানের গণমাধ্যম জিও নিউজের বরাতে প্রকাশ করেছে। জিও নিউজ সংবাদটিতে যেই ফিচার ইমেজ ব্যবহার করেছে তার নিচে লাহোর শব্দটি উল্লেখ করেছে। যদিও বাংলাদেশের গণমাধ্যমটিতে ফিচার ইমেজের নিচে কিছু উল্লেখ নেই। লক্ষণীয়, জিও নিউজ “WATCH: Armed men snatch sacrificial animals from citizen” ক্যাপশনের পরে শিরোনাম দিয়েছে “Group of robbers snatch two goats from young boy at gunpoint in Lahore”। The News International নামের একটি নিউজ সাইট থেকে “VIDEO: Sacrificial animals robbed at gunpoint in Lahore” শিরোনামে সংবাদটি প্রচার করা হয়েছে, অথচ বাংলাদেশি গণমাধ্যমের শিরোনামে স্থান বা দেশের নাম উল্লেখ নেই। স্বভাবতই প্রাথমিক অবস্থায় সংবাদটি দেখে মনে হচ্ছে এটি হয়তো বাংলাদেশের ঘটনা।

প্রতিনিয়ত একাধিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রতিবেদনের শিরোনামে যখন স্থানের নাম বা দেশের নাম উল্লেখ করা হয়, তখন তা নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি হয় না। তাছাড়া ভেতরের সংবাদ পড়ে পাঠক যখন দেখেন এটি বাইরের দেশের কোনো ঘটনা, তখন তারা বাংলাদেশের সাংবাদিকতার মান এবং অভিসন্ধি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ।

সুতরাং, সবকিছু বিবেচনা করে ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া সংবাদটিকে ফ্যাক্টওয়াচ “বিভ্রান্তিকর” হিসেবে সাব্যস্ত করেছে।

এই নিবন্ধটি ফেসবুকের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রোগ্রামের নীতি মেনে লেখা হয়েছে।।
এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক যে ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এখানে
এছাড়া এই নিবন্ধ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন, সম্পাদনা কিংবা আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করতে এই লিঙ্কের সাহায্য নিন।

কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে আমাদেরকেঃ
ইমেইল করুনঃ contact@factwatch.org
অথবা ফেইসবুকে মেসেজ দিনঃ facebook.com/fwatch.bangladesh